সড়কে গাড়ি থামিয়ে চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট



সড়কে গাড়ি থামিয়ে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে  পরিবহন শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘটের কারণে  চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে দূরপাল্লাসহ আন্তঃজেলা এবং আন্তঃউপজেলা রুটে বাস ও পুণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। 
এদিকে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল,   মহানন্দা বাস টার্মিমাল থেকে কোন বাস ছেড়ে যায়নি। এতে করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে বিভিন্ন যানবাহনে বা বিকল্প উপায়ে জেলার শেষ সীমানা থেকে 
রাজশাহী যাচ্ছে। 
এছাড়াও দূরপাল্লার বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায়  ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজারসহ দূরের গন্তব্যের যাত্রীরা ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাইদুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে দুটি সংগঠন একীভূত হয়ে শ্রমিকদের কল্যাণে নির্ধারিত হারে চাঁদা আদায় করছেন তারা। কিন্তু হঠাৎ করেই জেলা বাস, মিনিবাস ও কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং- রাজ. ৩০৬৩) নামে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের হরিপুরে আলাদাভাবে চাঁদা আদায় শুরু করে একটি পক্ষ। চাঁদা না দিলে গাড়ির  লোকদেরকে মারধর করছে তারা। চাঁদাবাজি ও মার ধরে প্রতিবাদে বাস মালিক, ট্রাক মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের যৌথ ভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছে। সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে। 
তিনি আরও বলেন, টার্মিনালের বাইরে সড়কে চাঁদা আদায়ের এক্তিয়ার কোন সংগঠনের নেই।

জেলা কোচ,বাস ও মিনিবাস পরিবহন ইউনিয়নের সভাপতি রেজাউল করিম অভিযোগ করে বলেন,  চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বাস, মিনি বাস ও কোচ শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং- রাজ. ৩০৬৩) নামের একটি সংগঠনের নেতারা হরিপুর নামক এলাকায় রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে চাঁদা আদায় করছেন। যা সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘন করে তারা চাঁদাদা আদায় করছে।

এদিকে জেলা বাস, মিনিবাস ও কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং- রাজ. ৩০৬৩) এর সভাপতি শহিদুল ইসলাম শহিদ বলেন, শ্রমিকরা যারা আন্দোলন করছে তাদের দাবি সম্পূর্ণ অবৈধ। ট্রাকের লোক কি মটরে চাঁদা নিতে পারে। এগুলো গায়ের জোরে করছে তারা। প্রশাসন কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বোধগম্য নয়। আমরা কোনো চাঁদাবাজি করছি না। ৩০৬৩ সংগঠন ২০১৬ সালের বৈধ সংগঠন। 
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, দুই সংগঠনের বিরোধ মেটাতে পুলিশ উভয়পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেছিল। কিন্তু দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের জন্য সমঝোতা করা সম্ভব হয়নি। আমরা চেষ্টা করছি বিষয়টি সমাধান করার। তিনি আরও বলেন, শ্রমিক সংগঠনের দুই পক্ষকেই বলা হয়েছে, সড়কে কোন ধরণের চাঁদাবাজি করা যাবে না।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ / নিজস্ব প্রতিবেদক / ২০ আগষ্ট ২০২৬