ঐতিহাসিক বিনোদপুর ও মনাকষা গণহত্যা দিবস > নেই কোন কর্মসুচি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার  বিনোদপুর ও মনাকষা ইউনিয়নে গণহত্যা দিবসের প্রথম দিন কেটে গেল বৃহস্পতিবার। ১৯৭১ সালের ৬ ও ৭ অক্টোবর গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল ২৪ বাঙ্গালিকে। অথচ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে বিনোদপুর ও মনাকষায় সাংগঠনিকভাবে বা শহীদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়নি।
প্রসঙ্গত ঃ ১৯৭১ সালে ৬ অক্টোবর পাকবাহানাদার বাহিনী বিনোদপুর ইউনিয়নের চাঁনশিকারী গ্রামসহ কয়েকটি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার আত্মীয়দের ৩৯ জনকে বিভিন্ন স্থান থেকে ধরে নিয়ে যায় পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোশর রাজাকাররা। বিনোদপুর বাজারের পূর্বে বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হত্যার উদ্দেশ্যে তাদের সারিবদ্ধভাবে করে রাখা হয়। এসময় ১৫ জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও ২৪ জনকে হত্যা করে পাক হানাদাররা। ২৪ জনের  মধ্যে ২ জন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তারা হলেন শহীদ আরিফুল ইসলাম ও ফিটু।
শহীদ পরিবারের সন্তান আব্দুর রাকিব চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ ডটকমকে বলেন, ‘৭১-এর ৬ অক্টোবর আমার পিতা ফজলুল রহমান ও বড়ভাই মুক্তিযোদ্ধা আরিফুল ইসলামসহ ২৪ জনকে হত্যা করেছিল দেশীয় রাজাকার বাহিনীর সহযোগিতায় পাকহানাদার বাহিনী। আজ ভাল লাগছে সরকার এ দেশীয় রাজাকারদের বিচার করেছে এবং রাজাকার মাহিদুর রহমান ও আফসার হোসেন চুটুর আমৃত কারাদন্ড হয়েছে’।
অন্যদিকে ৭ অক্টোবর মনাকষা ইউনিয়নের পারচৌকা গ্রামের একই পরিবারের মুসলিম উদ্দিনসহ ৬ জন ও হাউসনগর, বনকুল সিংনগরসহ আরো কয়েকটি গ্রামের নিরীহ ১৩ জনকে ধরে নিয়ে এসে হুমায়ূন রেজা উচ্চবিদ্যালয়ের পিছনে গুলি করে হত্যা করার পর গর্তে পুতে ফেলা হয়। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় পারচৌকা গ্রামের শহীদ মুসলিম উদ্দিনের ছোট ছেলে বদিউর রহমান বুদ্ধু ২০০৭ সালে ২৬ ফেব্র“য়ারী চাঁপাইনবাবগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১২ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন।
এই আসামীদের মধ্যে আফসার হোসেন চুটু ও মাহিদুর রহমানের আমৃত্যু কারাদন্ড দিয়ে আন্তর্জাতিক মানবতা বিরোধী ট্রাইব্যুনাল।
তিনি সরকারের কাছে দাবি এই ১৩ জনের হত্যাকারী ১২জন রাজাকারকে বিচারের আওতায় নিয়ে এসে শাস্তি দেয়া হোক।
এদিকে, গণহত্যা দিবস উপলক্ষে বিগত সময়ে কর্মসুচি হাতে নেয়া হলেও এবার কোনই কর্মসুচি পালিত হচ্ছেনা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিনোদপুরে এবার আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলের কারণে কোন কর্মসুচি গ্রহণ করা যায়নি।
এমনকি পারিবারিক, প্রশাসন বা সাংগঠনিক ভিত্তিকে কোন কর্মসুচি নেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বজলার রশিদ সনু কে মোবাইল ফোনে এ দিবসটি উপলক্ষে কোন কর্মসূচি নেয়া হয়েছি কি না তা জানতে চাইলে তিনি কোন কর্মসূচি নেয়া হয়নি বলে জানান। তবে এর কারন জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক, শিবগঞ্জ/ ০৬-১০-১৬

,