সতর্ক সীমায় পদ্মা সদর ও শিবগঞ্জে ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন নদীর পানি হুহু করে বাড়ছে। এর মধ্যে পদ্মা নদীর পানি সতর্কসীমা পার হয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। পদ্মা নদীর উজানে ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজের ১০৯টি গেটের সবক’টি খোলা রয়েছে। এই ফারাক্কা ব্যারেজের মাধ্যমেই ভারতের গঙ্গা নদী থেকে পানি আসে বাংলাদেশের পদ্মা নদীতে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যগুলোর খরবে বলা হয়েছে- ভারতের বিহার রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি সামাল দিতে ফারাক্কার সবগুলো গেট খুলে দেয়া হয়।
ফারাক্কার সব গেট খুলে রাখার কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীতে পানির স্তর বেড়েছে দ্রুতই। গত ৫ দিনে পদ্মা নদীতে পানি বেড়েছে ৬৫ সেন্টিমিটার। সব গেট খুলে দেওয়ায় অতিরিক্ত পানি প্রবাহের কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্যার আশঙ্কা করছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা বলছেন, দু-একদিনের মধ্যেই নদীর পানি কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর পানি বেড়েছে ৭ সেন্টিমিটার। শুক্রবার সকাল ৯টায় পদ্মার পানির স্তর বিপৎসীমার ২৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। অন্যদিকে মহানন্দা নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১ দশমিক ১২ মিটার নিচ দিয়ে এবং পুনর্ভবা নদীর পানি ১৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ২ দশমিক ০৯ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আহসান হাবীব জানিয়েছেন, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রে তথ্য অনুযায়ী পদ্মায় ২৪ ঘন্টায় ৭ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। তবে শনিবার থেকে পানি কমের সম্ভবনা রয়েছে।
এদিকে জেলার সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছে ওই সব এলাকার মানুষ। বিশেষ করে সদর উপজেলার নারায়নপুর, আলাতুলি ও শিবগঞ্জ উপজেলার পাকা ও উজিরপুর, দুর্লভপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। অনেকেই বাড়ি-ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। এসব এলাকায় ব্যাপক পরিমাণ ফসলী জমিও পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া ২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে ও শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। ফলে ওইসব এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে।
শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক জানান, পাঁকা ইউনিয়নের প্রায় ১ হাজার ৭০০ পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। এর মধ্যে ৫ শ পরিবারের উঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। শুক্রবার সকালে ১১৬টি পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে এবং শনিবারও ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত থাকবে।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাজির হোসেন জানান, দুপুরে পানিবন্দি পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। এছাড়া আলাতুলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনও পানিবন্দি মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণের কথা জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মূসা জঙ্গী জানান, সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ২ হাজার ৯০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য মোট ২৯ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং তা বিতরণ শুরু হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক / ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

