তীব্র গরমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঘন ঘন লোডশেডিং, বিপর্যস্ত জনজীবন



তীব্র ও অসহনীয় গরমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এরই মাঝে মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের ঘন ঘন লোডশেডিং। গত শনিবার থেকে জেলাজুড়ে শুরু হওয়া এই চরম লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ, শিশু ও বয়স্কদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা শহর দিন-রাত মিলিয়ে গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকছে। গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি আরো খারাপ। 
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম থাকায় সময় ও স্থানভেদে এই লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
এদিকে গরমের তীব্রতা থেকে বাঁচতে দিনের বেলায় অনেকে গাছের নিচে এবং রাতে ঘরের বাইরে হাতপাখা নিয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে।

পৌর এলাকার বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন জানান, চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও এমন ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের মুখে পড়তে হয়েছিল। গত শনিবার থেকে আবারও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটায় জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত।
রফিক নামের আরেক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দিনের বেলায় লোডশেডিং তাও মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু গভীর রাতে যখন বিদ্যুৎ চলে যায়, তখন শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে চরম কষ্টে পড়তে হয়। গরমে কারও চোখেই ঘুম থাকে না।
লোডশেডিংয়ের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতেও। বিদ্যুৎ না থাকায় দাপ্তরিক কাজ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রিন্ট করার মতো জরুরি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে, চলতি ফুটবল মৌসুমের ম্যাচগুলো দেখতে বসে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী। খেলা চলাকালীন হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় খেলা দেখার আনন্দ মাটি হয়ে যাচ্ছে।

পৌর এলাকার অক্টোমোড়ের লন্ড্রি ব্যবসায়ী সুজন জানান, স্বাভাবিক সময়ে তিনি দৈনিক প্রায় ১৫০টি জামা-কাপড় ইস্ত্রি (লন্ড্রি) করতেন। কিন্তু বর্তমানের এই ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে তা নেমে এসেছে মাত্র ৪০ থেকে ৫০টিতে। বিদ্যুৎ না থাকায় সারাদিন বসে থাকতে হচ্ছে, যার ফলে তাঁর আয়ের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এদিকে চরম এই ভোগান্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে নানা ট্রল ও ক্ষোভ প্রকাশ। আব্দুর রশিদ নামের পৌর এলাকার এক বাসিন্দা তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, 'তার এলাকার বিদ্যুৎ ঠিক যেন হোমিওপ্যাথিক ডোজের ন্যায় ৩০ গুলি ১ ঘণ্টা পরপর'। তিনি অন্যান্য এলাকার খবর জানতে চেয়ে রসিকতাও করেন।
বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি নিয়ে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিক্রয়-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলিউল আজিম জানান, জেলা শহরে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা ৩২ মেগাওয়াট। কিন্তু মঙ্গলবার তারা সরবরাহ পেয়েছেন মাত্র ২২ থেকে ২৩ মেগাওয়াট।অন্যদিকে, নেসকো বিক্রয়-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাদিকুল ইসলাম জানান, হুজরাপুর, নয়াগোলা ও বটতলাহাটের তিনটি সাবস্টেশনে মোট চাহিদা ৪১ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ২৪ থেকে ৩০ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি থাকছে, যা এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে সমন্বয় করতে হচ্ছে।
একই পরিস্থিতি নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান জানান, গত ১৩ জুন থেকে হরিপুর গ্রিড থেকে সরবরাহ কম পাওয়ায় মহানন্দা নদীর ওপারে লোডশেডিংয়ের মাত্রা কিছুটা বেশি। তবে নদীর এপারে আমনুরা ও নাচোল এলাকায় লোডশেডিং তুলনামূলক অনেক কম।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে রাতের পিক-আওয়ারে তাদের চাহিদা ৭৫ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৫৩ থেকে ৫৪ মেগাওয়াট। তবে তারা আশাবাদী, খুব দ্রুতই জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ / নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৭ জুন ২০২৬