চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ



বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শুধুই হলুদের সমারোহ। পদ্মা মহানন্দাবেষ্টিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের দিয়াড় অঞ্চল ও বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠজুড়ে এখন হলুদের সমারোহ। হলুদে হলুদে ছেয়ে গেছে মাঠের পর মাঠ। দিয়াড় ও বরেন্দ্র অঞ্চলের বিস্তীর্ণ মাঠের যেদিকে চোখ যায়, শুধু সরিষা আর সরিষা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিশাল বরেন্দ্র অঞ্চল ও পদ্মা মহানন্দা তীরবর্তী দিয়াড় অঞ্চলে এ বছরও রেকর্ড পরিমাণ সরিষার আবাদ হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে ৭ হাজার ৭৫০ হেক্টর,  শিবগঞ্জ উপজেলায় ৫ হাজার ৯১০ হেক্টর, গোমস্তাপুর উপজেলায় ৭ হাজার ৪৪৫ হেক্টর,  নাচোল উপজেলায় ৭ হাজার হেক্টর ও ভোলাহাট উপজেলায় ২ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন চাষিরা।
চাষিরা বলেন, সরিষা চাষে খরচ ও পরিশ্রম দুটোই কম লাগে। মাত্র তিন মাসের মধ্যেই ফলনও পাওয়া যায়। এবার সরিষা চাষে বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে প্রায় দেড় হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলেই রয়েছে। আবহাওয়া ঠিক থাকলে ফলন আসবে বিঘাপ্রতি পাঁচ থেকে সাত মণ।
সরেজমিনে সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের শিবির হাট এলাকায় দেখা গেছে, মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছে সরিষাখেত। দূর থেকে দেখলে মনে হবে বিশাল এক হলুদের চাদরে ঢেকে আছে ফসলের মাঠ। এছাড়াও বরেন্দ্র অঞ্চল ও পদ্মা মহানন্দা তীরবর্তী দিয়াড় অঞ্চলে বের হলেই চোখে পড়ে এমন দৃশ্য। মাঝেমধ্যে হিমেল হাওয়ায় দোল খাচ্ছে সরিষা ফুল। এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকে আসছেন ছবি তুলতে।
সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের সরিষাচাষি ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ধান ও অন্যান্য ফসলের চেয়ে সরিষা চাষ লাভজনক।এছাড়াও সরিষা চাষে শ্রম ও খরচ দুই-ই কম। তাই ৫ বিঘা জতিতে সরিষা চাষ করেছি।  
তিনি আরো বলেন—গত বছরের তুলনায় সারের দাম বেশি হওয়া তূলনামূলক এ বছর খরচও বেড়েছে। এখন পর্য়ন্ত আবহাওয়া অনুকুলে রয়েছে। আশা করছি ভালো ফলন পাব'।
গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের চাষি তোজাম্মেল হক বলেন—এবার আমি ১৫ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। এর মধ্যে বিঘাপতি চাষ করা জমিতে খরচ হয়েছে ৪ হাজার টাকা এবং বিনাচাষের জমিতে আড়াই হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে ফুল ঝরে দানা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সরিষা কাটা মাড়াই করা যাবে। বিঘাপতি ৫ থেকে ৭ মণ গড় ফলন হবে বলে আশা করছি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. ইয়াছিন আলী বলেন, ‘সরিষা চাষ বেশ লাভজনক। সেকারণে জেলার চাষিরা সরিষা আবাদে ঝুঁকে পড়ছেন। এবার জেলার পাঁচ উপজেলায় এ বছর ৩২ হাজার  ৪৩৯ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে আবাদ হয়েছে ৩০ হাজার ৩৯৫ হেক্টর। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হাজার ৪৪ হেক্টর কম হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বজী বপনের সময়ের শেষ দিকে বৃষ্টিপাত হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অজন করা যায়নি। তিনি বলেন, বারি-১৪, বারি-১৭, বিনা-১১, টরি-৭ জাতের সরিষা আবাদ করা হয়েছে। 
বরেন্দ্র ও দিয়াড় অঞ্চলের হলুদের বুকে আর কদিন পরেই ফুল থেকে সরিষা দানা হবে। ঘন কুয়াশা নিয়ে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ / নিজস্ব প্রতিবেদক / ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬