mainpageads

শাহ্ নেয়ামাতুল্লাহ কলেজের শুরুর কথা

১৯৭৯ সাল। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে একটি ‘নাইট কলেজ’ প্রতিষ্ঠার অনুভব করেন প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ জেলা শহরের শিক্ষানুরাগীরা। এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের লক্ষে ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে আয়োজন করা প্রথম সভায় অংশ নেন প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ সমাজের নানান শ্রেণী পেশার মানুষ। ওই সভায় জ্ঞান সমৃদ্ধ আগামী প্রজন্ম গড়তে ওই সভায় কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে ঐক্যমতে পৌছেন ওই সভার সদস্যরা। তাৎক্ষনিকভাবে অনুদান সংগ্রহ হয় ১ হাজার ১৯৮ টাকা। ‘নাইট কলেজ’ প্রতিষ্ঠার অনুভবে আয়োজিত ওই সভায় ওলী আওলিয়া হযরত শাহ্ নেয়ামতুল্লাহ (র) এর স্মরণীয় স্মৃতির উদ্দেশ্যে কলেজের নাম করণ করা হয় ‘শাহ নেয়ামতুল্লাহ (র) কলেজ। এই নামকরণের প্রস্তাব দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিশিষ্ট সাংবাদিক (তৎকালিন দৈনিক বাংলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ও বর্তমানে দৈনিক জনকণ্ঠের স্টাফ রির্পোটার) ডি. এম. তালেবুন নবী। কলেজের সিদ্ধান্ত বই ও কলেজের ওয়েভ সাইড থেকে এই তথ্য উঠে এসেছে।
শতবছরের প্রাচীন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ‘মুল শহরের’ প্রবেশদ্বার চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী মহাসড়কের কোলঘেষে দাঁড়িয়ে আছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিক্ষানুরাগীদের স্বপ্নের ‘ শাহ নেয়ামতুল্লাহ কলেজ’। একদিকে বেলেপুকুর অন্যদিকে স্বরূপনগর। দু’ মহলার আম বাগানের ভেতর ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করে আসছে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা এবং সৎ, নিষ্ঠাবান, প্রযুক্তি উপযোগী জ্ঞানসমৃদ্ধ ‘আগামী প্রজন্ম’ গড়তে কাজ করে চলেছেন কলেজ সংশ্লিষ্টরা। দিনেদিনে উন্নতি ঘটেছে শিক্ষার। সেই সঙ্গে অবকাঠামোর। শিক্ষা বিস্তারে সংশ্লিষ্টদের নিরলস চেষ্টার অগ্রপথিক যাঁরা ছিলেন তাঁদের অনেকেই পরলোক গমন করেছেন। আর ইতিহাসের স্বাক্ষী হিসেবে আমাদের সামনে এখনও অনেকে জীবিত রয়েছে। অগ্রপথিক এইসব গুণি মানুষদের কল্যাণেই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় ‘ শাহ নেয়ামতুল্লা কলেজ’।
কলেজের সিদ্ধান্তবলির বই ও প্রতিষ্ঠাকালিন সদস্যদের কাজ থেকে জানাগেছে, ১৯৭৯ সালের ২৯ জুন তারিখ চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে একটি নাইট কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য তৎকালীন মহাকুমা প্রশাসকের ডাকে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৫টায় মহকুমা প্রশাসকের বাস ভবনে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন মহাকুমা প্রশাসক ।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কে.এম. আব্দুল্লাহ (ম্যাজিষ্ট্রেট), এন.এম. খান, আফজালুল হক (ম্যাজিস্ট্রেট), এস.এ  ওদুদ (ম্যাজিস্ট্রেট), মতিউর রহমান এ্যাডজুটেন্ট, গোলাম কিবরিয়া চৌধুরি, এ. রশিদ (ম্যানেজার সোনালী ব্যাংক), এ.এইচ.এন. মাহতাব উদ্দিন, সি.অ. হায়াত এসডিইও, সাদউদ্দিন আহম্মেদ, মার্জিনা  হক, মিস নূর জাহান কাওসার, মোসাঃ সালেহা মাহতাব, ওসমান গনি এ্যাভোকেট, ডি.এম. তালেবুন নবী, মিঃ মনজুর রহমান প্রধান শিক্ষক  (টাউন হাই স্কুল), এম.এ মতিন ওয়ার্ড কমিশনার, আর.এন বাগচী এ্যাডভোকেট, আমিনুদ্দিন আহম্মেদ এ্যাডভোকেট, আহমেদ্দুল্লাহ চৌধুরি এ্যাডভোটেক, আফতাব উদ্দিন, শামসুদ্দিন (নির্বাচন অফিসার), শাহজাহান আলী, শাহজাহান বিশ্বাস এ্যাডভোকেট, আনোয়ার হোসেন, সেরাজুল ইসলাম (প্রধান শিক্ষক রাজারামপুর হামিদুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়), দরবেশ আলী, গোলাম কবির এ্যাডভোকেট, সাদেকাতুল বারী এ্যাডভোকেট, সুলতানুল ইসলাম মনি এ্যাডভোকেট, নূরতাজ আলী এসডব্লিউও, মজিবুর রহমান সোনা, অধ্যাপক সোলাইমান, অধ্যাপক নবাব আলী, অধ্যাপক জারজিস আলী, এ. মান্নান এসডিপিআরও, আলহাজ আব্দুল ওহাব, মমতাজ হোসাইন, ডা. রফিকুল আলম, অধ্যাপক জি.কে.এম শামসুল হুদা (বিশিষ্ট সাংবাদিক ও রাজনৈতিক কর্মী), এম.আই বিশ্বাস ( জীবন বীমা কর্পোরেশন), মতিউর রহমান, এ.বি.এম মিজানুল হক (ম্যানেজার জনতা ব্যাংক), কবিরাজ আলফাজ উদ্দিন, অধ্যাপক সাইদুর রহমান, আব্দুল মান্নান সেন্টু (সাবেক পৌরসভার চেয়ারম্যান), অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন।
সভাতির অনুমতিক্রমে সভায় উপসি'ত সদস্যদের মধ্যে মতামত ব্যক্ত করেন, আহমেদুল্লাহ চৌধুরী এ্যাড., জিকেএম শামসুল হুদা, ওসমান গণি এ্যাড., সুলতানুল ইসলাম এ্যাড., মমতাজ হোসেন, অধ্যক্ষ, এন.এম খান, দরবেশ আলী, মাহতাব উদ্দীন, শাহজাহান বিশ্বাস এ্যাড., ও আব্দুল মান্নান সেন্টু।
সভায় আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় যে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে বর্তমান সেশন থেকে একটি নাইট কলেজের কার্যক্রম শুরু হবে। পরে স'ানীয় জনগনের চাহিদা সাপেক্ষে উক্ত নাইট কলেজ ডে কলেজে রূপান-রিত করা হবে।
কলেজ প্রতিষ্ঠার ওই সভার সিদ্ধান্ত বলিতে দেখা যায় কলেজের নামকরণের বিষয়টি। সিদ্ধান্তবলি ৪ নম্বরে বলা হয়, কলেজের নাম করনের ব্যাপারে ডি.এম তালেবুন নবী ওলী আওলীয়া হজরত শাহ্নেয়ামাতুল্লাহ (রা) এর স্বরনীয় স্মৃতির উদ্দেশ্যে কলেজটির নাম শাহ্নেয়ামাতুল্লাহ (রা) কলেজ  রাখার প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় কলেজটির নাম “শাহ্নেয়ামাতুল্লাহ (রা)” কলেজ নামে প্রকাশ করে।
ওই সভায় কলেজের প্রধান পৃষ্ঠপোষক করা হয়, এহসান আলী খান এমপি, শাহজাহান আলী এমপি ও সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন এমপিকে।
ওই সভায় কলেজ পরিচালনার জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়। যার সভাপতি হন তৎকালি মহকুমা প্রশাসক হারুনার রশীদ। কমিটির অন্যান্যরা হলেন, সহ সভাপতি- সুলতানুল ইসলাম মনি এ্যাডভকেট, ওসমান গনি এ্যাভোকেট, সেক্রেটারী - এ, এইচ, এম, মাহতাব উদ্দিন, উল্লেখ্য তিনি এই কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন। কোষাধ্যক্ষ এম, এ, রশিদ ম্যানেজার সোনালী ব্যাংক। এ ছাড়াও ৬০ জনকে সদস্য করা হয়। যারা হলেন, (সরকারি কর্মকর্তা থেকে) কে.এম. আব্দুল্লাহ (ম্যাজিষ্ট্রেট), এম.এ  ওদুদ (ম্যাজিস্ট্রেট), আফজালুল হক (ম্যাজিস্ট্রেট), ফজুলুর রহমান চৌধুরী এসডিপিও, টি. হোসাইন (সাব রেজিস্ট্রার), আনোয়ার হোসেন এ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার ভিপি, এ. হায়াত এসডিইও, জাহিদ হাসান সিও (উন্নয়ন), সফিউল্লাহ সিও ( রাজস্ব), শামসুল হক এস.সি ফুড, মিসেস মার্জিনা হক, এম.আই বিশ্বাস, ম্যানেজার জনতা ব্যাংক, ম্যানেজার রূপালী ব্যাংক, ম্যানেজার পুবালী ব্যাংক, ম্যানেজার অগ্রনী ব্যাংক, ম্যানেজার কৃষি ব্যাংক, নুরতাজ আলী এসডব্লিউও, এম.এ মান্নান এসডিপিআরও, শামসুদ্দিন আহম্মেদ নির্বাচন অফিসার,
(জন সাধারণ থেকে) ডা. আআম মেসবাহুল হক সাবেক এমপি, আহমেদ্দুল্লাহ চৌধুরি এ্যাডভোটেক, শাহজাহান বিশ্বাস এ্যাডভোকেট, আব্দুর রশিদ এ্যাডভোকেট, আমিনুদ্দিন আহম্মেদ এ্যাডভোকেট, ফজলুর রহমান এ্যাডভোকেট, আর.এন বাগচী এ্যাডভোকেট, অধ্যক্ষ, নবাবগঞ্জ কলেজ, অধ্যক্ষ চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহিলা কলেজ, অধ্যাপক নবাব আলী, গোলাম কিবরিয়া চৌধুরি, আলহাজ্ব শাহজাহান আলী, আইনুল হক সিদ্দীকি, গোলাম মোস্তফা, জমির উদ্দীন বিশ্বাস, আফসার হোসেন, মমতাজ হোসেন, অধ্যাপক জিকেএম শামসুল হুদা, মজিবুর রহমান সোনা, সাইদুর রহমান, মজিুবর রহমান বণিক সমিতি, আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াহাব, নুরুজ্জামান, চিত্ত রঞ্জন দাস, ডা. রফিকুল আলম, আহম্মেদ ইমাম, রুহুল আমীন চেয়ারম্যান খামার, হাবিবুর রহমান নামো শংকরবাটি, সফিউদ্দীন আহম্মেদ, অধ্যাপক দরবেশ আলী, ডিএম তালেবুন নবী, এমএ মাতিন ওয়ার্ড কমিশনার, আব্দুল মান্নান সেন্টু, মিসেস সালেহা মাহতাব, নজরুল ইসলাম উদয়ন চেয়ারম্যান, মতিউর রহমান হোসেন পেট্রেলিয়াম, সাহাবুদ্দীন, অধ্যাপক সোলাইমান, আফতাব উদ্দীন, গোলাম কবির এ্যাডভোকেট।
ওই সভায় কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য তহবিল গঠনে সভাপতি সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানালে তাৎক্ষনিকভাবে ১ হাজার ১৯৮ টাকা অনুদান সংগ্রহ হয়। পরে যা সোনালী ব্যাংকে খোল হিসেব নম্বরে জমা।
১৯৭৯ সালে মাত্র ১ হাজার ১৯৮ টাকা নিয়ে যাত্রা শুরু করা স্বপ্নে শাহনেয়াতুল্লাহ কলেজ আজ শহরের বুকে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের অনন্য অবদান রাখছে।


চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ০৪-০৫-১৭

,