সবুজ জেলার ইচ্ছে পুরণ হলনা.......

৩০ লাখ আমগাছের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ। আমগাছের বিশাল সবুজতাকে পুজি করে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জকে ‘সবুজ জেলা’ হিসেবে ঘোষণা করতে চেয়েছিলেন সোমবার মারা যাওয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম। রোববার গভীর রাতেও তিনি তাঁর ফেসবুক পেজে জানিয়েছিলেন, ‘ চাঁপাইনবাবগঞ্জের জনগনের পক্ষ থেকে আগামীকাল (সোমবার) চাঁপাইনবাবগঞ্জকে ঘোষণা করা হবে বাংলাদেশের সবুজ জেলা’। ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি সবুজকে একটি ইতিবাচক রং উল্লেখ করে বলেন, ‘ এ লক্ষে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছি এবং একটি উপসংহারেও পৌচেছি। ‘সবুজ জেলা’র কর্মসুচির অংশ হিসেবে জেলার সব ভবন ও দেয়ালের বাইরের রং সবুজ করার লক্ষে কাজ করছি। এতে করে শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জের নয়, বাংলাদেশেরও মান বাড়বে’।
গভীররাতের এই ফেসবুক স্ট্যাটাসটি তিনি মৃত্যুর কোলে যাবার কিছুক্ষণ আগে আবারও শেয়ার করেন।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসেই চাঁপাইনবাবগঞ্জকে সবুজ জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগি হয়ে উঠেন। এ বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা করার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা শুরু করেন। রোববারই চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাবু ডাইং এলাকায় সদর উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে ৫ শ বৃক্ষরোপণ করেন। অধিক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজায়নের সঙ্গে ভবন সবুজ করতে প্রদক্ষেপের অংশ হিসেবে তিনি সরকারি সব স্থাপনা সবুজ রং করার জন্য গণপূর্ত বিভাগকে অনুরোধ করেন। আর বেসরকারি স্থাপনার মধ্যে জেলা ক্রীড়া সংস্থা ভবন ও স্টেডিয়াম সবুজ রং করতে সিদ্ধান্তও গ্রহণ করেন।
সবুজ জেলার পাশাপাশি তিনি পরিচ্ছন্ন জেলা হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে গড়তে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শত বছরের প্রাচীন আজাইপুর বিলকে সংস্কারের মাধ্যমে সবুজায়ন ও দৃষ্টিনন্দন করারও উগ্যোগ গ্রহণ করেন। আজাইপুর শংকরবাটি বিল সংস্কার কমিটির আহবায়ক শহীদুল হুদা অলক বলেন, ‘ দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ব্যাবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়া ঐতিহ্যবাহী বিলটি থেকে আমরা গেল বছর কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে কচুরিপানা অপসারণ করলেও আবারও তা কচুরিপানায় ভর্তি হয়ে যায়। আমাদের স্থানীয় জনগনের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বিলটি সংস্কার করে ব্যাবহার উপযোগী করা এবং দৃষ্টিনন্দন করা। স্থানীয়দের সেই আকাংখা পুরণ করতে চেয়েছিলেন তিনি। ডিসি লেক নামকরণের মাধ্য দিয়ে তা সংস্কারে উদ্যোগি হয়েছিলেন’।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র সাইদুর রহমান বরেন, ‘বিলটি সংস্কারে পৌর কর্তৃপক্ষকেও এগিয়ে আসার অনুরোধ করেছিলেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম’।
চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগ দেয়া জাহিদুল ইসলাম পুরো জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে স্থাপন করেছেন প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ডিজিটাল হাজিরা পদ্ধতি। আঙ্গুলের ছাপের সাহায্যে কর্মকর্তা কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয় এই পদ্ধতিতে। জেলা প্রশাকক কার্যালয়ে গড়ে তুলেছেন একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার। সেই কার্যালয়ের দেয়ালজুড়ে স্থান পেয়েছে বাংলা, বাঙালি ও মহান মুক্তি সংগ্রামের নানান চিত্র।
সোমবার রাজশাহী বিভাগীয় কমিশানার কার্যালয়ে মাসিক সমন্বয় সভায় যোগদান শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফিরেই আনুষ্ঠানিকভাবেই ‘সবুজ জেলা’ ঘোষণা দেয়ার প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু তাঁর ইচ্ছে পুরণ হলনা। অমোঘ নিয়মে পাড়ি জমালেন পরপারে।


চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ১৭-১০-১৬