দূরদুরান্তে বসেই এখন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐহিত্যগুলোকে জানতে পারবেন বাংলা ভাষাভাষি সাধারণ মানুষ। বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে নতুন অ্যাপস ‘দূরে কোথাও’ তে ঢুকে জানা যাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যের নানান কথা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষকে সামনে রেখে তথ্যভিত্তিক নতুন আ্যাপস ‘দূরে কোথাও’ চালু করেছে।
রবিবার রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে নতুন এই অ্যাপসটির নানান দিক তুলে ধরেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক ও আইসিটি) একেএম তাজকির-উজ-জামান। নতুন আ্যাপস এর কার্যকারিতা ও উপযোগিতা তুলে ধরে তিনি বলেন, যে কোন ভ্রমণকারী আ্যাপসটির মাধ্যমে জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, খাবার, আবাসন, আমবাগান, আমবাজার, দর্শনীয়স্থান, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী শিল্প, যোগাযোগ, গুরুত্বপূর্ণ স্থান ইত্যাদি সম্পর্কে অনায়াসে জানতে পারবেন।
তিনি বলেন, ‘ বৈচিত্র আনতে অ্যাপসটির নাম দেয়া হয়েছে ‘দূরে কোথাও’...’। তিনি জানান, একই সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নানান তথ্য সম্বলিত একটি ক্যাটালগও মুদ্রণ করা হয়েছে। যা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাস, রেল ষ্টেশনের কাউন্টারগুলোতে রাখা হবে। এর মাধ্যমেও দেশ-বিদেশের ভ্রমণকারীরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সম্পর্কে জানতে পারবেন ও উপকৃত হবেন। এসবের মাধ্যমে জেলার পরিচিতি ও পর্যটনের বিকাশ ঘটবে। গতি বাড়বে চাঁপাইনববাবগঞ্জের অর্থনীতি বিশেষ করে ই-অর্থনীতির।
মত বিনিময় সভায় জানানো হয়, গুগল প্লে স্টোরে গিয়ে ইংরেজিতে চাঁপাই প্লেসেস লিখে সার্চ দিলে পাওয়া যাবে নতুন এই অ্যাপস। নানা ঐতিহ্যমন্ডিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুর্ণাঙ্গভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হলেও ছন্দ মেলাতে ক্যাটালগে নাম দেয়া হয়েছে ‘চলো বেড়াই, চাঁপাই’ এবং অ্যাপস নাম দেয়া হয়েছে চাঁপাই হিস্টোরী প্লেসেস।
সভায় জানানো হয, আ্যাপসটি ধীরে ধীরে আরও সমৃদ্ধ করা হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ২৭-০১-২০
রবিবার রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে নতুন এই অ্যাপসটির নানান দিক তুলে ধরেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক ও আইসিটি) একেএম তাজকির-উজ-জামান। নতুন আ্যাপস এর কার্যকারিতা ও উপযোগিতা তুলে ধরে তিনি বলেন, যে কোন ভ্রমণকারী আ্যাপসটির মাধ্যমে জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, খাবার, আবাসন, আমবাগান, আমবাজার, দর্শনীয়স্থান, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী শিল্প, যোগাযোগ, গুরুত্বপূর্ণ স্থান ইত্যাদি সম্পর্কে অনায়াসে জানতে পারবেন।
তিনি বলেন, ‘ বৈচিত্র আনতে অ্যাপসটির নাম দেয়া হয়েছে ‘দূরে কোথাও’...’। তিনি জানান, একই সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নানান তথ্য সম্বলিত একটি ক্যাটালগও মুদ্রণ করা হয়েছে। যা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাস, রেল ষ্টেশনের কাউন্টারগুলোতে রাখা হবে। এর মাধ্যমেও দেশ-বিদেশের ভ্রমণকারীরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সম্পর্কে জানতে পারবেন ও উপকৃত হবেন। এসবের মাধ্যমে জেলার পরিচিতি ও পর্যটনের বিকাশ ঘটবে। গতি বাড়বে চাঁপাইনববাবগঞ্জের অর্থনীতি বিশেষ করে ই-অর্থনীতির।
মত বিনিময় সভায় জানানো হয়, গুগল প্লে স্টোরে গিয়ে ইংরেজিতে চাঁপাই প্লেসেস লিখে সার্চ দিলে পাওয়া যাবে নতুন এই অ্যাপস। নানা ঐতিহ্যমন্ডিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুর্ণাঙ্গভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হলেও ছন্দ মেলাতে ক্যাটালগে নাম দেয়া হয়েছে ‘চলো বেড়াই, চাঁপাই’ এবং অ্যাপস নাম দেয়া হয়েছে চাঁপাই হিস্টোরী প্লেসেস।
সভায় জানানো হয, আ্যাপসটি ধীরে ধীরে আরও সমৃদ্ধ করা হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ২৭-০১-২০
চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহান বিজয় দিবসের সপ্তাহব্যাপি কর্মসুচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বর্ণাঢ্য পতাকা র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন আয়োজিত ব্যতিক্রমি এই আয়োজনে হাজার হাজার মানুষের অংশ গ্রহণ চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে ভিন্ন আবহ সৃষ্টি করে।
সকাল ১০ টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা কার্যালয়ের সামনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসুচির শুভ সুচনা করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক এজেডএম নূরুল হক।
পরে মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, নানান শ্রেণী পেশার মানুষ, শিক্ষক শিক্ষার্থী মিলিয়ে হাজার হাজার মানুষের অংশ গ্রহণে বের হয় বর্ণাঢ্য পতাকা র্যালি। মুখে জয় বাংলা শ্লোগান আর লাল সবুজের প্রিয় পতাকা নাড়িয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানানো র্যালিটি শহর প্রদক্ষিণকালে শহরজুড়ে ভিন্ন রকমের আবহ সৃষ্টি হয়। শহরের বাড়ি ছাদে ও ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে শত শত নারী পুরুষ অভিবাদন জানায় র্যালিতে অংশগ্রহণার্থীদের। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সকারি কলেজ শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা প্রশাসক এজেডএম নূরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতান উজ্জিবিত হয়ে নতুন প্রজন্মকে জাতি গঠনে কাজ করার আহবান জানান। সমাবেশে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, সংসদ সদস্য ফেরদৌসী ইসলাম জেসি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. শংকর কুমার কুন্ড, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা চেযারম্যান তসিকুল ইসলাম তসি, শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, আইনজীবি সমিতির সভাপতি আব্দুস সামাদ, বণিক সমিতির সভাপতি এরফান আলী, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান, তরিকুল ইসলাম টুকু, শিবগঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান শিউলি খাতুন, আওয়ামী লীগ নেতা মেসবাহুল সাকের জ্যোতি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাজকির উজ্জামান জানান, উত্তর প্রজন্মের উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন নতুন শ্লোগানে সপ্তাহব্যাপি কর্মসুচি গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে জেলার প্রায় দেড়শ’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সরকারি-আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারি মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ এই র্যালিতে অংশ নেন।
মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ তাঁর অনুভূতিব্যক্ত করে বলেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমার দেখা সবচেয়ে বড় পতাকা র্যালি এটি। এর আগে আমরা খুব ছোট ছোট পতাকা র্যালি দেখেছি। নতুন প্রজন্ম যে তাদের দেশ তাদের পতাকাকে বুকে ধারণ করে বেঁচে আছে এই র্যালিতে এত এত মানুষের অংশগ্রহণই তার প্রমাণ’।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ১০-১২-১৯
সকাল ১০ টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা কার্যালয়ের সামনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসুচির শুভ সুচনা করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক এজেডএম নূরুল হক।
পরে মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, নানান শ্রেণী পেশার মানুষ, শিক্ষক শিক্ষার্থী মিলিয়ে হাজার হাজার মানুষের অংশ গ্রহণে বের হয় বর্ণাঢ্য পতাকা র্যালি। মুখে জয় বাংলা শ্লোগান আর লাল সবুজের প্রিয় পতাকা নাড়িয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানানো র্যালিটি শহর প্রদক্ষিণকালে শহরজুড়ে ভিন্ন রকমের আবহ সৃষ্টি হয়। শহরের বাড়ি ছাদে ও ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে শত শত নারী পুরুষ অভিবাদন জানায় র্যালিতে অংশগ্রহণার্থীদের। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সকারি কলেজ শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা প্রশাসক এজেডএম নূরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতান উজ্জিবিত হয়ে নতুন প্রজন্মকে জাতি গঠনে কাজ করার আহবান জানান। সমাবেশে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, সংসদ সদস্য ফেরদৌসী ইসলাম জেসি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. শংকর কুমার কুন্ড, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা চেযারম্যান তসিকুল ইসলাম তসি, শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, আইনজীবি সমিতির সভাপতি আব্দুস সামাদ, বণিক সমিতির সভাপতি এরফান আলী, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান, তরিকুল ইসলাম টুকু, শিবগঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান শিউলি খাতুন, আওয়ামী লীগ নেতা মেসবাহুল সাকের জ্যোতি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাজকির উজ্জামান জানান, উত্তর প্রজন্মের উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন নতুন শ্লোগানে সপ্তাহব্যাপি কর্মসুচি গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে জেলার প্রায় দেড়শ’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সরকারি-আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারি মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ এই র্যালিতে অংশ নেন।
মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ তাঁর অনুভূতিব্যক্ত করে বলেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমার দেখা সবচেয়ে বড় পতাকা র্যালি এটি। এর আগে আমরা খুব ছোট ছোট পতাকা র্যালি দেখেছি। নতুন প্রজন্ম যে তাদের দেশ তাদের পতাকাকে বুকে ধারণ করে বেঁচে আছে এই র্যালিতে এত এত মানুষের অংশগ্রহণই তার প্রমাণ’।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ১০-১২-১৯
সোনামসজিদ স্থলবন্দরে কর্মরত একজন কাষ্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তার রাজশাহী নগরীর উপশহর এলাকার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ ঘুষের টাকা, ডলার ও অস্ত্রসহ সাতজনকে আটক করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
আটকৃকতরা হলেন - আবু সাইদ নয়ন, আহসান কবির মিঠু, মনিরুল ইসলাম জুয়েল, বায়েজিদ হোসেন, আব্দুল মান্নান, আবু হাসান রুবেল ও আব্দুল মালেক।
আটককৃতদের কাছ থেকে ঘুষ ভাগাভাগির ৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা, সাত হাজার ডলার ও একটি রিভলবার জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার দিনগত গভীর রাতে ডিবি-ডিসি আবু আহাম্মেদ আল মামুনের নেতৃত্বে ডিবির একটি দলের এক অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
জানা গেছে, অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে কয়েকজন কাষ্টমস কর্মকর্তা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
আটককৃতরা কয়েকদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিলেন এবং তাদের অধিকাংশই সোনামসজিদ স্থলবন্দরে কর্মরত সিঅ্যা-এফ এজেন্ট বলে জানা গেছে।
আটককৃতদের মধ্যে নয়নের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে। মিঠুর বাড়ি শিবগঞ্জের কালুপুর গ্রামে। মিঠু শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিঅ্যা-এফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশানের সাবেক সভাপতি আব্দুর রশিদের জামাই।
এছাড়া বায়েজিদ হোসেনের বাড়ি সোনামসজিদ। আব্দুল মান্নানের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার রাজারামপুরে এবং আবু হাসান রুবেল চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার আরামবাগে।
পুলিশ জানায়, আটককৃতরা সোনামসজিদ স্থলবন্দরের মাধ্যমে বিভিন্ন আমদানি পণ্যে শুল্ক ফাঁকিতে নিয়োজিত একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সদস্য। শুল্ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজস করে বিভিন্ন পণ্যে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসছিল।
বুধবার মনিরুল ইসলাম জুয়েলের লাইসেন্সে দুই ট্রাক ভারতীয় প্রসাধনী সামগ্রী আসে। এতে মোট ৮০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মাত্র ২০লাখ টাকা পরিশোধ করে ট্রাক দুটি বন্দর থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয় তড়িঘড়ি করে।
শুল্ক কর্মকর্তাদের ঘুষের জন্য তোলা ২০ লাখ টাকা রাজশাহীতে আনা হয়। সেই টাকা শুল্ক কর্মকর্তাদের মাঝে ভাগ-বণ্টনের জন্য কাষ্টমস গোয়েন্দার সুপারিটেন্ড্যান্ট আইয়ুব আলীর উপশহরের ১৭১ নম্বরের বাসায় জড়ো হয়েছিলেন তারা।
সেখানে কাষ্টমসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাঝে ঘুষের টাকা ভাগাভাগি হয়। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার সময় তারা এ বাসায় জড়ো হয়েছিলেন।
রাত সাড়ে ১১ টার দিকে মদসহ বিভিন্ন ধরণের খাওয়া দাওয়া সেরে তারা বাসাটি ত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এসময় পুলিশ তাদের আটক করেন।
পুলিশ আরও জানায়, সোনামসজিদ স্থলবন্দরে রাজস্ব ফাঁকির টাকা প্রায় প্রতিরাতেই কাষ্টমস কর্মকর্তা আইয়ুব আলীর রাজশাহীর বাসায় আনা হতো এবং সেখান থেকেই ভাগ বাটোয়ারা হয়ে আসছিল।
কাষ্টমস কর্মকর্তা আইয়ুব আলী ঘুষের টাকার ভাগাভাগি সমন্বয় করে আসছিলেন। আইয়ুব আলী রাজশাহী বিভাগীয় কাষ্টমস সদর দপ্তরে কর্মরত।
তবে সম্প্রতি বিষয়টি টের পেয়ে গোয়েন্দা নজরদারি চলছিল বাড়িটিসহ সংশ্লিষ্টদের ওপর।
সাম্প্রতিক সময়ে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনী সামগ্রী আসে। এইসব পণ্য থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রগুলো।
এদিকে বন্দর সূত্র জানিয়েছে, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ডা. সামিল উদ্দীন আহম্মেদ শিমুল জয়ী হবার পর সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের পুরাতন কমিটি ভেঙ্গেদিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। রাজশাহীতে ডিবি পুলিশের অভিযানে আটক বায়েজিদ গঠিত কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক। ওই সূত্র জানায়, অভিযানে আটক ৭ বেশ কয়েকজন সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সাবেক নেতা সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দীন আহম্মেদ শিমুলের আপন ভাই সোহেল আহম্মেদ পলাশ ও সামিউল হক লিটনের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসুচিতে অংশ গ্রহণ করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৫-০৭-১৯
আটকৃকতরা হলেন - আবু সাইদ নয়ন, আহসান কবির মিঠু, মনিরুল ইসলাম জুয়েল, বায়েজিদ হোসেন, আব্দুল মান্নান, আবু হাসান রুবেল ও আব্দুল মালেক।
আটককৃতদের কাছ থেকে ঘুষ ভাগাভাগির ৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা, সাত হাজার ডলার ও একটি রিভলবার জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার দিনগত গভীর রাতে ডিবি-ডিসি আবু আহাম্মেদ আল মামুনের নেতৃত্বে ডিবির একটি দলের এক অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
জানা গেছে, অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে কয়েকজন কাষ্টমস কর্মকর্তা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
আটককৃতরা কয়েকদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিলেন এবং তাদের অধিকাংশই সোনামসজিদ স্থলবন্দরে কর্মরত সিঅ্যা-এফ এজেন্ট বলে জানা গেছে।
আটককৃতদের মধ্যে নয়নের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে। মিঠুর বাড়ি শিবগঞ্জের কালুপুর গ্রামে। মিঠু শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিঅ্যা-এফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশানের সাবেক সভাপতি আব্দুর রশিদের জামাই।
এছাড়া বায়েজিদ হোসেনের বাড়ি সোনামসজিদ। আব্দুল মান্নানের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার রাজারামপুরে এবং আবু হাসান রুবেল চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার আরামবাগে।
পুলিশ জানায়, আটককৃতরা সোনামসজিদ স্থলবন্দরের মাধ্যমে বিভিন্ন আমদানি পণ্যে শুল্ক ফাঁকিতে নিয়োজিত একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সদস্য। শুল্ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজস করে বিভিন্ন পণ্যে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসছিল।
বুধবার মনিরুল ইসলাম জুয়েলের লাইসেন্সে দুই ট্রাক ভারতীয় প্রসাধনী সামগ্রী আসে। এতে মোট ৮০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মাত্র ২০লাখ টাকা পরিশোধ করে ট্রাক দুটি বন্দর থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয় তড়িঘড়ি করে।
শুল্ক কর্মকর্তাদের ঘুষের জন্য তোলা ২০ লাখ টাকা রাজশাহীতে আনা হয়। সেই টাকা শুল্ক কর্মকর্তাদের মাঝে ভাগ-বণ্টনের জন্য কাষ্টমস গোয়েন্দার সুপারিটেন্ড্যান্ট আইয়ুব আলীর উপশহরের ১৭১ নম্বরের বাসায় জড়ো হয়েছিলেন তারা।
সেখানে কাষ্টমসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাঝে ঘুষের টাকা ভাগাভাগি হয়। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার সময় তারা এ বাসায় জড়ো হয়েছিলেন।
রাত সাড়ে ১১ টার দিকে মদসহ বিভিন্ন ধরণের খাওয়া দাওয়া সেরে তারা বাসাটি ত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এসময় পুলিশ তাদের আটক করেন।
পুলিশ আরও জানায়, সোনামসজিদ স্থলবন্দরে রাজস্ব ফাঁকির টাকা প্রায় প্রতিরাতেই কাষ্টমস কর্মকর্তা আইয়ুব আলীর রাজশাহীর বাসায় আনা হতো এবং সেখান থেকেই ভাগ বাটোয়ারা হয়ে আসছিল।
কাষ্টমস কর্মকর্তা আইয়ুব আলী ঘুষের টাকার ভাগাভাগি সমন্বয় করে আসছিলেন। আইয়ুব আলী রাজশাহী বিভাগীয় কাষ্টমস সদর দপ্তরে কর্মরত।
তবে সম্প্রতি বিষয়টি টের পেয়ে গোয়েন্দা নজরদারি চলছিল বাড়িটিসহ সংশ্লিষ্টদের ওপর।
সাম্প্রতিক সময়ে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনী সামগ্রী আসে। এইসব পণ্য থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রগুলো।
এদিকে বন্দর সূত্র জানিয়েছে, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ডা. সামিল উদ্দীন আহম্মেদ শিমুল জয়ী হবার পর সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের পুরাতন কমিটি ভেঙ্গেদিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। রাজশাহীতে ডিবি পুলিশের অভিযানে আটক বায়েজিদ গঠিত কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক। ওই সূত্র জানায়, অভিযানে আটক ৭ বেশ কয়েকজন সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সাবেক নেতা সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দীন আহম্মেদ শিমুলের আপন ভাই সোহেল আহম্মেদ পলাশ ও সামিউল হক লিটনের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসুচিতে অংশ গ্রহণ করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৫-০৭-১৯
কোমলমতিদের খেয়ালি আচরণ থেকে যেকোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা। খালি হয়ে যেতে পারে যেকোন মায়ের কোল। এমন শংকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ফকিরপাড়া এলাকায় (ফকিরপাড়া গোরস্থানের পেছনে) নির্মাণ হওয়া পানির ওভার হেড ট্যাংকিকে ঘিরে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ববধানে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভু উপরিস্থ পানি শোধগার নির্মাণ প্রকল্পের মধ্যেই নির্মাণ করা হয় পানির এই ওভার হেড ট্যাংক।
নির্মাণের পর গতবছরের আগষ্ট মাসের দিকে ট্যাংকটি চালুও হয়েছে।
ট্যাংকের নির্মাণ কাজের মধ্যে থাকা রেলিং সিড়ি যা পানির ওভার হেড ট্যাংকের সমস্যা কিংবা সংস্কারের প্রয়োজনে যথাযথ (প্রশিক্ষিত) কর্মচারীর ব্যবহারের জন্য সংযুক্ত করা হয়েছে।
কিন্তু সংযুক্ত রেলিং সিড়িটির প্রবেশদ্বার উন্মুক্ত রয়েছে নির্মাণের পর থেকেই।
স্থানীয়রা জানায়, সিড়িটির প্রবেশদ্বার উন্মুক্ত থাকায় এলাকার কোমলমতি শিশু কিশোররা প্রায়শই সিড়িবেয়ে উপরে উঠে পড়ছে। প্রচলিত ১০ তলা সমমাপের উচু পানির ওভার হেড ট্যাংকটিতে শিশু কিশোরদের অবাধ উঠা-নামা করার কারণে তাদের জীবন ঝঁকির মধ্যে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘অবাধে শিশু কিশোররা উঠে পড়ার কারণে যেকোন সময় বড় ধরণে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে’। তারা অভিযোগ করেন বলেন, ‘এতো বড় পানির ট্যাংকি অথচ এখানে কোন কেয়ারটেকার নেই। নেই সিড়িমুখে কোন গেট’। এলাকাবাসী দ্রুত সময়ের মধ্যে অরক্ষিত রেলিং সিড়ির প্রবেশদ্বারটিতে গেট নির্মণের দাবি জানান।
এব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সাদেকুল ইসলাম জানান, পানির ট্যাংকিটি নির্মাণ শেষে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হলেও পুরো একবছর তার রক্ষাবেক্ষণ কাজ করবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরই। পানির ট্যাংকির সিড়ির গেট ও হুজরাপুরস্থ পানি শোধনাগারের পানি শোধনের জন্য নদীতে উত্তোলন করা পানি রিজার্ভারের চারিদিকে রেলিং নির্মাণের জন্য পত্র দিয়েছি। কিন্তু তা এখনও নির্মাণ হয়নি।
তিনি বলেন, পানির ট্যাংকির সিড়িতে গেট নির্মাণ কাজ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নির্মাণে বিলম্ব হলেও আমরাই ( পৌর কর্তৃপক্ষ) একটা গেট নির্মাণ করে ফেলবো’।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ২২-০১-১৮
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ববধানে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভু উপরিস্থ পানি শোধগার নির্মাণ প্রকল্পের মধ্যেই নির্মাণ করা হয় পানির এই ওভার হেড ট্যাংক।
নির্মাণের পর গতবছরের আগষ্ট মাসের দিকে ট্যাংকটি চালুও হয়েছে।ট্যাংকের নির্মাণ কাজের মধ্যে থাকা রেলিং সিড়ি যা পানির ওভার হেড ট্যাংকের সমস্যা কিংবা সংস্কারের প্রয়োজনে যথাযথ (প্রশিক্ষিত) কর্মচারীর ব্যবহারের জন্য সংযুক্ত করা হয়েছে।
কিন্তু সংযুক্ত রেলিং সিড়িটির প্রবেশদ্বার উন্মুক্ত রয়েছে নির্মাণের পর থেকেই।
স্থানীয়রা জানায়, সিড়িটির প্রবেশদ্বার উন্মুক্ত থাকায় এলাকার কোমলমতি শিশু কিশোররা প্রায়শই সিড়িবেয়ে উপরে উঠে পড়ছে। প্রচলিত ১০ তলা সমমাপের উচু পানির ওভার হেড ট্যাংকটিতে শিশু কিশোরদের অবাধ উঠা-নামা করার কারণে তাদের জীবন ঝঁকির মধ্যে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘অবাধে শিশু কিশোররা উঠে পড়ার কারণে যেকোন সময় বড় ধরণে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে’। তারা অভিযোগ করেন বলেন, ‘এতো বড় পানির ট্যাংকি অথচ এখানে কোন কেয়ারটেকার নেই। নেই সিড়িমুখে কোন গেট’। এলাকাবাসী দ্রুত সময়ের মধ্যে অরক্ষিত রেলিং সিড়ির প্রবেশদ্বারটিতে গেট নির্মণের দাবি জানান। এব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সাদেকুল ইসলাম জানান, পানির ট্যাংকিটি নির্মাণ শেষে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হলেও পুরো একবছর তার রক্ষাবেক্ষণ কাজ করবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরই। পানির ট্যাংকির সিড়ির গেট ও হুজরাপুরস্থ পানি শোধনাগারের পানি শোধনের জন্য নদীতে উত্তোলন করা পানি রিজার্ভারের চারিদিকে রেলিং নির্মাণের জন্য পত্র দিয়েছি। কিন্তু তা এখনও নির্মাণ হয়নি।
তিনি বলেন, পানির ট্যাংকির সিড়িতে গেট নির্মাণ কাজ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নির্মাণে বিলম্ব হলেও আমরাই ( পৌর কর্তৃপক্ষ) একটা গেট নির্মাণ করে ফেলবো’।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ২২-০১-১৮
প্রায় বছর তিনেক আগে বিএনপি নেত্রী এ্যাড. সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়ার জোটের শরিক সংগঠন জামায়াতকে নিয়ে দেয়া কঠোর সমালোচনামুলক বক্তব্য দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছিল। চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ ডটকমের আপলোড করা সেই ভিডিও’র সূত্রধরে দেশের জাতীয় দৈনিক ও প্রথম সারির টেলিভিশন চ্যানেলে প্রতিবেদন হয়েছিল। ভোটের রাজনীতিতে কেন্দ্রে সখ্যতা থাকলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে দীর্ঘদিন ধরে বিপরীত অবস্থানে জামায়াত ও বিএনপি। এটা আবারও প্রকাশ্যে এলো গেল ১৫ সেপ্টেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আমনুরা স্কুল মাঠে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় দেয়া বিএনপি নেত্রী পাপিয়ার বক্তব্য থেকে।
২০১৪ সালের পর বিএনপি’র কেন্দ্রীয় শীর্ষনেতাদের নিয়ে আয়োজিত প্রথম জনসভায় চাঁপাইনবাবঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি বিএনপি’র এই নেত্রী জামায়াত ও জান্নাত প্রসঙ্গে জামায়াতের কঠোর সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদেরও কঠোর সমালোচনা করে। সমালোচনা থেকে বাদ যায়নি আব্দুল ওদুদের ব্যক্তিগত জীবনও। ওই জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
ওই জনসভার ভিভিও চিত্র পাঠক দর্শকদের জন্য আপলোড করা হলো।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ১৬-০৯-১৭
২০১৪ সালের পর বিএনপি’র কেন্দ্রীয় শীর্ষনেতাদের নিয়ে আয়োজিত প্রথম জনসভায় চাঁপাইনবাবঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি বিএনপি’র এই নেত্রী জামায়াত ও জান্নাত প্রসঙ্গে জামায়াতের কঠোর সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদেরও কঠোর সমালোচনা করে। সমালোচনা থেকে বাদ যায়নি আব্দুল ওদুদের ব্যক্তিগত জীবনও। ওই জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
ওই জনসভার ভিভিও চিত্র পাঠক দর্শকদের জন্য আপলোড করা হলো।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ১৬-০৯-১৭
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গেল শনিবার আওয়ামী লীগে যোগদান করা বহু আলোচিত জামায়াত নেতা মাওলানা সোহরাব আলীকে জামায়াত থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর মাওনানা সোহরাব আলীকে বহিস্কার করার সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ হয়েছে ৫ অক্টোবর জামায়াতের মুখপাত্র দৈনিক সংগ্রামে। বহিস্কারের এক সপ্তাহের মাথায় তা প্রকাশ হওয়ায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে নাশকতার ঘটনায় আওয়ামী লীগ সরকারের দায়ের করা একাধিক মামলার আসামী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা সোহরাব আলী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আওয়ামী লীগে যোগদানের পর গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সূত্রপাত হয়। আওয়ামী লীগের মধ্যেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া আর সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমালোচনার পর আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে বহিস্কারের সংবাদ।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আবুজার গিফারীর বরাত দিয়ে ওই সংবাদে বলা হয়েছে মাওলানা সোহবার আলীকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর বহিস্কার করা হয়েছে। অর্থাৎ আওয়ামী লীগে যোগদানের দু’দিন আগেই তাকে বহিস্কার করা হয়। তবে, আওয়ামী লীগে যোগদানকারী জামায়াত নেতা চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মিজানুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহিক কাফি, জামায়াতের শ্রমিক সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য আফরোজ জুলমাতের বিষয়ে কোন সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি ওই সংবাদে।
দৈনিক সংগ্রামে ‘ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানকে জামায়াতের সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার ’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, ‘ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আবুজার গিফারী এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সোহরাব আলী জামায়াতের নিয়মশৃঙ্খলা ও নীতিসমূহের পরিপন্থি কাজ করায় এবং তার দ্বারা জামায়াতের নৈতিক প্রভাব ক্ষতিগ্রস্ত ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ায় গত ইং ২৮/৯/১৬ তারিখে জেলার এক জরুরী বৈঠকে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ধারা-৫৫ এর উপধারা-২ অনুযায়ী তার সদস্য (রুকুনিয়াত) পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয় এবং ধারা-৫৫ এর উপধারা-১ অনুযায়ী তাকে সংগঠনের সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এই আদেশ গত ২৮/৯/১৬ তারিখ থেকে কার্যকর হবে এবং তার কোন কর্মকাণ্ডে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার জনসাধারণকে আহ্বান জানানো হয় ’।
দৈনিক সংগ্রামে এই সংবাদ প্রকাশের পর মাওলানা সোহরাবকে নিয়ে আবারও আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ০৫-১০-১৬
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে নাশকতার ঘটনায় আওয়ামী লীগ সরকারের দায়ের করা একাধিক মামলার আসামী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা সোহরাব আলী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আওয়ামী লীগে যোগদানের পর গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সূত্রপাত হয়। আওয়ামী লীগের মধ্যেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া আর সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমালোচনার পর আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে বহিস্কারের সংবাদ।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আবুজার গিফারীর বরাত দিয়ে ওই সংবাদে বলা হয়েছে মাওলানা সোহবার আলীকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর বহিস্কার করা হয়েছে। অর্থাৎ আওয়ামী লীগে যোগদানের দু’দিন আগেই তাকে বহিস্কার করা হয়। তবে, আওয়ামী লীগে যোগদানকারী জামায়াত নেতা চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মিজানুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহিক কাফি, জামায়াতের শ্রমিক সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য আফরোজ জুলমাতের বিষয়ে কোন সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি ওই সংবাদে।
দৈনিক সংগ্রামে ‘ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানকে জামায়াতের সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার ’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, ‘ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আবুজার গিফারী এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সোহরাব আলী জামায়াতের নিয়মশৃঙ্খলা ও নীতিসমূহের পরিপন্থি কাজ করায় এবং তার দ্বারা জামায়াতের নৈতিক প্রভাব ক্ষতিগ্রস্ত ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ায় গত ইং ২৮/৯/১৬ তারিখে জেলার এক জরুরী বৈঠকে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ধারা-৫৫ এর উপধারা-২ অনুযায়ী তার সদস্য (রুকুনিয়াত) পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয় এবং ধারা-৫৫ এর উপধারা-১ অনুযায়ী তাকে সংগঠনের সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এই আদেশ গত ২৮/৯/১৬ তারিখ থেকে কার্যকর হবে এবং তার কোন কর্মকাণ্ডে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার জনসাধারণকে আহ্বান জানানো হয় ’।
দৈনিক সংগ্রামে এই সংবাদ প্রকাশের পর মাওলানা সোহরাবকে নিয়ে আবারও আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ০৫-১০-১৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ এমপি’র হাতে ফুলে তোড়া দিয়ে শনিবার আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন ৫ শতাাধিক জামায়াত- বিএনপি’র নেতা কর্মী। এদের মধ্যে বহু নেতার বিরুদ্ধে নাশকতার একাধিক মামলা রয়েছে। নাশকতা মামলার এসব আসামীদের আওয়ামী লীগে যোগদানকে ঘিরে আওয়ামীলীগেই মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল মাহমুদ খান খান্না’র সভাপতিত্বে যোগদান অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান জেলা জামায়াতের কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা সোহরাব আলী, জামায়াতের শ্রমিক সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. আফরোজ জুলমাত আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জামায়াত নেতা আব্দুল্লা-হেল-কাফী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মসিদুল হক মাসুদ, বিএনপি নেতা এ্যাড. মোতাহার আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কমিশনার শওকত আলী, আলাতুলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খোয়াজ আলী। অসুস্থ্যতার কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কমিশনার জামায়াত নেতা মিজানুর রহমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হতে পারলেও পত্র দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন। জামায়াত বিএনপি’র এসব নেতাদের নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা, আলাতুলি, চর অনুপনগর ও শাহজাহানপুর ইউনিয়নের প্রায় ৫ শ নেতা কর্মী যোগদান করেন।
আওয়ামী লীগে যোগদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. নজরুল ইসলাম, যোগদানকারী জামায়াত নেতা মাওলানা সোহরাব আলী, আফরোজ জুলমাত আলী, বিএনপি নেতা মাসিদুল হক মাসুদ। অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ড এবং সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত থাকলেও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মইনুদ্দীন মন্ডল, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক শরিফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেননা।
এদিকে, হত্যাসহ বিভিন্ন নাশকতা মামলার আসামী মাওলানা সোহরাব আলী, মিজানুর রহমান, আফরোজ জুলমাত আলীসহ বিএনপি নেতাদের আওয়ামী লীগে যোগদানকে ঘিরে আওয়ামী লীগেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মইনুদ্দীন মন্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ গতকাল (শুক্রবার) ফোনে আমাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিল। আমি বিশেষ কাজে ব্যস্তও ছিলাম আর কারা কারা যোগদান করেছেন এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা’।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মিজানুর রহমান মিজান প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত শিবিরের নেতা কর্মীদের আওয়ামী লীগে যোগদেয়ানো দলের আদর্শ বিরোধী কাজ। এটা সংগঠনের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবেনা’।
যোগদান অনুষ্ঠানের সভাপতি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল মাহমুদ খান খান্না বলেন, ‘অনুষ্ঠানে জামায়াতের ৪জন নেতা যোদদান করেছেন। বাকীদের অধিকাংশই সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি’র নেতাকর্মী। এদের সংখ্যাই প্রায় ৫ শ।
এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ যোগদানকারীরা এখন জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বলছে এটাই কৃতিত্ব। তাদের যোগদানের ফলে আওয়ামী লীগের ভোট বেড়েছে’। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, ‘ ওরা দলে এসে যদি সংশোধন হয় তাতে ক্ষতি কি’।
উল্লেখ, জামায়াত থেকে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী জামায়াত নেতা মাওলানা সোহরাব আলীর বিরুদ্ধে নাশকতার ৭টি মামলা রয়েছে। মিজানুর রহমান ও আফরোজ জুলমাত আলীর বিরুদ্ধে হত্যা, পুলিশের উপর হামলাসহ নাশকতার একাধিক মামলা রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ০১-১০-১৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল মাহমুদ খান খান্না’র সভাপতিত্বে যোগদান অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান জেলা জামায়াতের কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা সোহরাব আলী, জামায়াতের শ্রমিক সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. আফরোজ জুলমাত আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জামায়াত নেতা আব্দুল্লা-হেল-কাফী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মসিদুল হক মাসুদ, বিএনপি নেতা এ্যাড. মোতাহার আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কমিশনার শওকত আলী, আলাতুলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খোয়াজ আলী। অসুস্থ্যতার কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কমিশনার জামায়াত নেতা মিজানুর রহমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হতে পারলেও পত্র দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন। জামায়াত বিএনপি’র এসব নেতাদের নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা, আলাতুলি, চর অনুপনগর ও শাহজাহানপুর ইউনিয়নের প্রায় ৫ শ নেতা কর্মী যোগদান করেন।
আওয়ামী লীগে যোগদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. নজরুল ইসলাম, যোগদানকারী জামায়াত নেতা মাওলানা সোহরাব আলী, আফরোজ জুলমাত আলী, বিএনপি নেতা মাসিদুল হক মাসুদ। অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ড এবং সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত থাকলেও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মইনুদ্দীন মন্ডল, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক শরিফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেননা।
এদিকে, হত্যাসহ বিভিন্ন নাশকতা মামলার আসামী মাওলানা সোহরাব আলী, মিজানুর রহমান, আফরোজ জুলমাত আলীসহ বিএনপি নেতাদের আওয়ামী লীগে যোগদানকে ঘিরে আওয়ামী লীগেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মইনুদ্দীন মন্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ গতকাল (শুক্রবার) ফোনে আমাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিল। আমি বিশেষ কাজে ব্যস্তও ছিলাম আর কারা কারা যোগদান করেছেন এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা’।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মিজানুর রহমান মিজান প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত শিবিরের নেতা কর্মীদের আওয়ামী লীগে যোগদেয়ানো দলের আদর্শ বিরোধী কাজ। এটা সংগঠনের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবেনা’।
যোগদান অনুষ্ঠানের সভাপতি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল মাহমুদ খান খান্না বলেন, ‘অনুষ্ঠানে জামায়াতের ৪জন নেতা যোদদান করেছেন। বাকীদের অধিকাংশই সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি’র নেতাকর্মী। এদের সংখ্যাই প্রায় ৫ শ।
এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ যোগদানকারীরা এখন জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বলছে এটাই কৃতিত্ব। তাদের যোগদানের ফলে আওয়ামী লীগের ভোট বেড়েছে’। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, ‘ ওরা দলে এসে যদি সংশোধন হয় তাতে ক্ষতি কি’।
উল্লেখ, জামায়াত থেকে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী জামায়াত নেতা মাওলানা সোহরাব আলীর বিরুদ্ধে নাশকতার ৭টি মামলা রয়েছে। মিজানুর রহমান ও আফরোজ জুলমাত আলীর বিরুদ্ধে হত্যা, পুলিশের উপর হামলাসহ নাশকতার একাধিক মামলা রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ০১-১০-১৬
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের সিরাজনগর গ্রামের নয়লাপাড়া মোড়ে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবি সদস্য বদর মামা ওরফে খালেদকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উল্লেখ করে বগুড়া পুলিশের দেয়া তথ্যকে ঘিরে সোমবার দিনভর চাঁপাইনবাবগঞ্জের গণমাধ্যম কর্মীরা খালেদ অনুসন্ধানে ব্যস্ত সময় পার করেছেন।
অনুসন্ধান করতে গিয়ে খালেদ সর্ম্পকে বেরিয়ে এসেছে চঞ্চল্যকর তথ্য। দরিদ্র পরিবারের সন্তান বদর খালেদের পিতা চাঁপাইনবাবগঞ্জের হলেও সে বেড়ে উঠেছে দিনাজপুরে। ২৬ বছর ধরে ছেলের সঙ্গে ছিলনা পিতার কোন সর্ম্পক।
অনুসন্ধানের জানাগেছে, বদর খালেদের পিতার নাম এনামুল হক। এনামুল চাঁপাইনবাবগঞ্জ নারায়ণপুর গ্রামের মৃত কোন্দল আলীর ছেলে। ১৯৮৫ সালের দিকে এনামুল হক দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার গোলনুরপুর গ্রামে চলে যান। সেখানে চাচাদের সঙ্গে তামাক চাষ কাজ করে জীবিকা শুরু করেন। ওই সময় বোয়ালিয়া গ্রামের লুৎফর রহমান লুথুর মেয়ে যুবেলা বেগমের সঙ্গে বিয়ে হয় এনামুল হকের। বিয়ের প্রায় ৫/৬ বছরের মাথায় পারিবারিক কলোহের জের ধরে যুবেলার সাথে এনামুল হকের বিচ্ছেদ ঘটে। এরই মধ্যে জন্ম নেয় তাদের সন্তান খালেদ। আজকের জেএমবি সদস্য বদর মামা @ খালেদ। বিয়ে বিচ্ছেদের পর এনামুল চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফিরে চলে আসে। দিনাজপুরে থেকে যায় তালাকপ্রাপ্তা যুবেলা ও শিশু খালেদ।
এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফিরে এসে এনামুল বসতি স্থাপন করেন নাচোল উপজেলার হামিদপুর গ্রামে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-নাচোল সড়কের ধারে খুপড়ি বাড়ি তৈরী করে সেখানে বসবাস করতেন এনামুল। এ সময় তিনি নাচোলের খেসবা গ্রামের মৃত হাসান আলীর মেয়ে যুবেদা বেগমকে বিয়ে করেন। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে রাস্তার পাশে সরকারী জায়গার উপর তাদের বাড়ি উচ্ছেদ করা হলে এনামুল আশ্রয় নেন খেসবা গ্রামের শ্বশুর বাড়িতে। এখানে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নেয় দু’টি কন্যা সন্তান। যার একটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজে এবং অপরটি নাচোল ডিগ্রী কলেজে লেখাপড়া করেন।
বন্ধুক যুদ্ধে নিহত বদর খালেদ বেশ কয়েক বছর আগে একবার নাচোলে এসেছিল। একদিন পিতার সঙ্গে দেখা করে চলে যায়। দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে খালেদ বেড়ে উঠেছে দিনাজপুরের গোলনুরপুর ও পরবর্তীতে বোয়ালিয়া গ্রামের মামার বাড়িতে।
মামা’র বাড়িতে বড় হওয়া খালেদের জেএমবি নামও হয়েছে বদর মামা ওরফে খালেদ।
নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে ঠাকুরগাও জেলার হরিপুর থানায় অস্ত্রসহ আটক হওয়া জেএমবি সদস্যদের স্বিকারোক্তি অনুযায়ী খালেদ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। তিনি বলেন, ‘ খালেদ গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে তার সর্ম্পকে আমরা অনুসন্ধান করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে পিতার পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততা খুজে পায়নি’।
পুলিশ জানায়, বন্ধুকযুদ্ধে খালেদ নিহত হবার পর তার পিতা এনামুল হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে সন্ধ্যায় ছেড়ে দেয়া হয়।
এদিকে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, দিনাজপুরে মামা’র বাড়িতে লালিত খালেদ প্রায় ৩ বছর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রামচন্দ্রপুর হাট এলাকায় বিয়ে করে।
খালেদ নিহত হওয়ার ঘটনার পর তার পিতা এনামুল হক গণমাধ্যম কর্মীদের বলেছেন, ‘২৬ বছর ধরে আমার সঙ্গে তার কোন সর্ম্পক নেই। কাজেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রহণ করার প্রশ্নই আসেনা। পিতা হলেও আমি তার লাশ গ্রহণ করবো না’।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ২৯-০৮-১৬
অনুসন্ধান করতে গিয়ে খালেদ সর্ম্পকে বেরিয়ে এসেছে চঞ্চল্যকর তথ্য। দরিদ্র পরিবারের সন্তান বদর খালেদের পিতা চাঁপাইনবাবগঞ্জের হলেও সে বেড়ে উঠেছে দিনাজপুরে। ২৬ বছর ধরে ছেলের সঙ্গে ছিলনা পিতার কোন সর্ম্পক।
অনুসন্ধানের জানাগেছে, বদর খালেদের পিতার নাম এনামুল হক। এনামুল চাঁপাইনবাবগঞ্জ নারায়ণপুর গ্রামের মৃত কোন্দল আলীর ছেলে। ১৯৮৫ সালের দিকে এনামুল হক দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার গোলনুরপুর গ্রামে চলে যান। সেখানে চাচাদের সঙ্গে তামাক চাষ কাজ করে জীবিকা শুরু করেন। ওই সময় বোয়ালিয়া গ্রামের লুৎফর রহমান লুথুর মেয়ে যুবেলা বেগমের সঙ্গে বিয়ে হয় এনামুল হকের। বিয়ের প্রায় ৫/৬ বছরের মাথায় পারিবারিক কলোহের জের ধরে যুবেলার সাথে এনামুল হকের বিচ্ছেদ ঘটে। এরই মধ্যে জন্ম নেয় তাদের সন্তান খালেদ। আজকের জেএমবি সদস্য বদর মামা @ খালেদ। বিয়ে বিচ্ছেদের পর এনামুল চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফিরে চলে আসে। দিনাজপুরে থেকে যায় তালাকপ্রাপ্তা যুবেলা ও শিশু খালেদ।
এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফিরে এসে এনামুল বসতি স্থাপন করেন নাচোল উপজেলার হামিদপুর গ্রামে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-নাচোল সড়কের ধারে খুপড়ি বাড়ি তৈরী করে সেখানে বসবাস করতেন এনামুল। এ সময় তিনি নাচোলের খেসবা গ্রামের মৃত হাসান আলীর মেয়ে যুবেদা বেগমকে বিয়ে করেন। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে রাস্তার পাশে সরকারী জায়গার উপর তাদের বাড়ি উচ্ছেদ করা হলে এনামুল আশ্রয় নেন খেসবা গ্রামের শ্বশুর বাড়িতে। এখানে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নেয় দু’টি কন্যা সন্তান। যার একটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজে এবং অপরটি নাচোল ডিগ্রী কলেজে লেখাপড়া করেন।
বন্ধুক যুদ্ধে নিহত বদর খালেদ বেশ কয়েক বছর আগে একবার নাচোলে এসেছিল। একদিন পিতার সঙ্গে দেখা করে চলে যায়। দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে খালেদ বেড়ে উঠেছে দিনাজপুরের গোলনুরপুর ও পরবর্তীতে বোয়ালিয়া গ্রামের মামার বাড়িতে।
মামা’র বাড়িতে বড় হওয়া খালেদের জেএমবি নামও হয়েছে বদর মামা ওরফে খালেদ।
নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে ঠাকুরগাও জেলার হরিপুর থানায় অস্ত্রসহ আটক হওয়া জেএমবি সদস্যদের স্বিকারোক্তি অনুযায়ী খালেদ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। তিনি বলেন, ‘ খালেদ গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে তার সর্ম্পকে আমরা অনুসন্ধান করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে পিতার পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততা খুজে পায়নি’।
পুলিশ জানায়, বন্ধুকযুদ্ধে খালেদ নিহত হবার পর তার পিতা এনামুল হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে সন্ধ্যায় ছেড়ে দেয়া হয়।
এদিকে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, দিনাজপুরে মামা’র বাড়িতে লালিত খালেদ প্রায় ৩ বছর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রামচন্দ্রপুর হাট এলাকায় বিয়ে করে।
খালেদ নিহত হওয়ার ঘটনার পর তার পিতা এনামুল হক গণমাধ্যম কর্মীদের বলেছেন, ‘২৬ বছর ধরে আমার সঙ্গে তার কোন সর্ম্পক নেই। কাজেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রহণ করার প্রশ্নই আসেনা। পিতা হলেও আমি তার লাশ গ্রহণ করবো না’।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ২৯-০৮-১৬
‘বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন হল তরুণীটির লাশ’ শিরনামে চাঁপাইনবাবগঞ্জনিউজ ডটকমে প্রকাশিত অজ্ঞাত তরুণীটির পরিচয় মিলেছে। সে নাচোলের পুরাতন কাজলা গ্রামের কৃষক সাদিরুল ইসলামের মেয়ে সাবানা খাতুন। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার ফকিরপাড়া গোরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন হওয়া সাবানার লাশ তুলে কাজলায় নিয়ে যাবার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবার কথা রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার গোলাবাড়ী কাজলা এলাকায় রেল লাইনের ধার থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত তরুণীর লাশ ‘বেওয়ারিশ লাশ’ হিসেবে ফকিরপাড়া গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে মর্মে চাঁপাইনবাবগঞ্জনিউজ ডটকম-এ প্রকাশিত সংবাদ ও তার ছবি’র সূত্র ধরে সাবানার দাদা চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার নিঝু বাজার (একটেল টাওয়ার) এলাকার সবুর বিশ্বাস রোববার রাত চাঁপাইনবাবগঞ্জনিউজ ডটকম-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার নিকট আত্মীয় নিখোঁজ রয়েছে উল্লেখ করে নিউজ ডটকম-এর প্রকাশিত ছবিটি পুর্ণাঙ্গ মুখমন্ডলের ছবি আছে কিনা জানতে চান। ওই সময় তিনি জানান, প্রকাশিত ছবির পোষাক ও গায়ের গঠন তার নিকট আত্মীর মতই।
সবুর বিশ্বাসকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরা জিআরপি ফাঁড়িতে যোগাযোগের পরামর্শ দেয়া হলে তারা জিআরপিতে তোলা ছবি দেখে নিশ্চিত হন অজ্ঞাত ওই তরুনীটি তাদেরই সন্তান।
সবুর বিশ্বাস চাঁপাইনবাবগঞ্জনিউজ ডটকমকে বলেন, ‘ সাবানার ওই ছবিটি দেখেই আমার অনেকটাই বুঝে গেছিলাম সেইটি সাবানারই লাশ। তবে, মৃত্যুর ঘটনাতো তাই ওই লাশটি নিখোঁজ সাবানারই কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য এখানে ওখানে ছুটে ফিরেছি’। তিনি পুরাতন কাজলা গ্রামের কৃষক সাদিরুল ইসলামের মেয়ে সাবানা ওই দিন সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। দু’ বোন আর এক ভাইয়ের সংসারে সাবানা কলেজে লেখাপড়া করছিল। সে গোমস্তাপুর সোলাইমান মিয়া ডিগ্রী কালেজের ইন্টামিডিয়েট প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। তিনি বলেন, ‘ কিভাবে এ ঘটনা ঘটল আমরা বুঝে উঠতে পারছিনা। এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা সেটাও নিশ্চিত হতে পারছিনা। তবে, শুনেছি ওনদিন সে বাড়ি থেকে অভিমান করে বের হয়েছিল’।
এদিকে, পরিবারের পক্ষ থেকে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর সাবানা পিতাসহ পরিবারের অন্যান্য লোকজন ছুটে আসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের ফকিরপাড়া গোরস্থানে। তারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন লাশ তুলে নিজ এলাকায় নিয়ে যাবার জন্য। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার ফকিরপাড়া গোরস্থান থেকে লাশ তুলে কাজলায় নিয়ে যাবার কথা রয়েছে।
এদিকে, মেয়ের লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে জেলা শহরের গোরস্থানে দাফন হয়েছে এমনটা নিশ্চিত হওয়ার পর সাবানার পরিবারে শুরু হয় শোকের মাতম।
উল্লেখ্য, নাচোলের গোলাবাড়ি ও গোমস্তাপুরের রহনপুর রেল স্টেশনের মাঝামাঝি কাজলা এলাকায় শুক্রবার রেল লাইনের ধারে ১৭/১৮ বছর বয়সি এই তরুণীর মরদেহ দেখতে পেয়ে জিআরপিকে খবর দেয়া হলে ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাত লাশ হিসেবে সাবানার লাশ উদ্ধার করা হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ৩০-০৫-১৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার গোলাবাড়ী কাজলা এলাকায় রেল লাইনের ধার থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত তরুণীর লাশ ‘বেওয়ারিশ লাশ’ হিসেবে ফকিরপাড়া গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে মর্মে চাঁপাইনবাবগঞ্জনিউজ ডটকম-এ প্রকাশিত সংবাদ ও তার ছবি’র সূত্র ধরে সাবানার দাদা চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার নিঝু বাজার (একটেল টাওয়ার) এলাকার সবুর বিশ্বাস রোববার রাত চাঁপাইনবাবগঞ্জনিউজ ডটকম-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার নিকট আত্মীয় নিখোঁজ রয়েছে উল্লেখ করে নিউজ ডটকম-এর প্রকাশিত ছবিটি পুর্ণাঙ্গ মুখমন্ডলের ছবি আছে কিনা জানতে চান। ওই সময় তিনি জানান, প্রকাশিত ছবির পোষাক ও গায়ের গঠন তার নিকট আত্মীর মতই।
সবুর বিশ্বাসকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরা জিআরপি ফাঁড়িতে যোগাযোগের পরামর্শ দেয়া হলে তারা জিআরপিতে তোলা ছবি দেখে নিশ্চিত হন অজ্ঞাত ওই তরুনীটি তাদেরই সন্তান।
সবুর বিশ্বাস চাঁপাইনবাবগঞ্জনিউজ ডটকমকে বলেন, ‘ সাবানার ওই ছবিটি দেখেই আমার অনেকটাই বুঝে গেছিলাম সেইটি সাবানারই লাশ। তবে, মৃত্যুর ঘটনাতো তাই ওই লাশটি নিখোঁজ সাবানারই কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য এখানে ওখানে ছুটে ফিরেছি’। তিনি পুরাতন কাজলা গ্রামের কৃষক সাদিরুল ইসলামের মেয়ে সাবানা ওই দিন সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। দু’ বোন আর এক ভাইয়ের সংসারে সাবানা কলেজে লেখাপড়া করছিল। সে গোমস্তাপুর সোলাইমান মিয়া ডিগ্রী কালেজের ইন্টামিডিয়েট প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। তিনি বলেন, ‘ কিভাবে এ ঘটনা ঘটল আমরা বুঝে উঠতে পারছিনা। এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা সেটাও নিশ্চিত হতে পারছিনা। তবে, শুনেছি ওনদিন সে বাড়ি থেকে অভিমান করে বের হয়েছিল’।
এদিকে, পরিবারের পক্ষ থেকে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর সাবানা পিতাসহ পরিবারের অন্যান্য লোকজন ছুটে আসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের ফকিরপাড়া গোরস্থানে। তারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন লাশ তুলে নিজ এলাকায় নিয়ে যাবার জন্য। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার ফকিরপাড়া গোরস্থান থেকে লাশ তুলে কাজলায় নিয়ে যাবার কথা রয়েছে।
এদিকে, মেয়ের লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে জেলা শহরের গোরস্থানে দাফন হয়েছে এমনটা নিশ্চিত হওয়ার পর সাবানার পরিবারে শুরু হয় শোকের মাতম।
উল্লেখ্য, নাচোলের গোলাবাড়ি ও গোমস্তাপুরের রহনপুর রেল স্টেশনের মাঝামাঝি কাজলা এলাকায় শুক্রবার রেল লাইনের ধারে ১৭/১৮ বছর বয়সি এই তরুণীর মরদেহ দেখতে পেয়ে জিআরপিকে খবর দেয়া হলে ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাত লাশ হিসেবে সাবানার লাশ উদ্ধার করা হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ৩০-০৫-১৬
দেশজুড়ে বুধবার আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি, মাদ্রাসা বোর্ডের দাখিল ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল একযোগে প্রকাশ হয়েছে। ফলফলে পারে হারে শীর্ষে থাকা রাজশাহী বোর্ডে সেরা জেলার তালিকায় চাঁপাইনবাগঞ্জের অবস্থান তৃতীয় স্থানে। এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে মেয়েদের থেকে ছেলেরা ভাল করেছে। ফলাফলে তারা মেয়েদের থেকে প্রায় ১ ভাগ এগিয়ে। জেলা শিক্ষা অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলে সেরা প্রতিষ্ঠানের (টপ-২০, টপ-১০) তালিকা করা হয়নি। অন্যান্যবার বিদ্যালয় ভিত্তিকে ফলাফল পাওয়া গেলেও এবার তা পাওয়া যায়নি।
সূত্র জানিয়েছে, এবছর রাজশাহী বোর্ডে পাশের হার ৯৫ দশমিক ৭০ ভাগ। যা গতবছর ছিল ৯৪ দশমিক ৯৭ ভাগ। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুখলেসুর রহমান আকন্দ জানান, এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬ হাজার ৫২৭ জন ছাত্র ও ৬ হাজার ২৮২ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে পাস করা ছাত্রের সংখ্যা ৬ হাজার ৩০৫ ও পাস করা ছাত্রীর সংখ্যা ৬ হাজার ৯ জন। সবমিলিয়ে পাস করা শিক্ষার্থী ১২ হাজার ৩১৪ জন। জেলায় পাসের হার শতকরা ৯৬.১৪ ভাগ। ছাত্রদের ক্ষেত্রে এই হার শতকরা ৯৬.৬০ ও ছাত্রীদের ক্ষেত্রে ৯৫.৬৫ ভাগ। এবার জিপিএ ৫ পেয়েছে ১২৮৮জন।
এগিকে, গতবছরে ফলাফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অবস্থান কিছুটা নিচে ছিল। এবার তা ভাল হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে যোগাযোগ জানা গেছে, জেলা শহরের শতবছরের প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হরিমোহন সরকারি উচচ বিদ্যালয়ে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৪৯ জন শিক্ষার্থী, সরকারি বালিকা উচচ বিদ্যালয় থেকে ১০৪ জন, রাজারামপুর হামিদুল্লাহ উচচ বিদ্যালয়ে ১৩ জন, গ্রীনভিউ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১০ জন, টাউন হাই স্কুল থেকে ৪ জন, নামোসংকরবাটি উচ্চ বিদ্যালয় ২৪ জন ও রানীহাটি উচচ বিদ্যালয় থেকে ৫ জন।
গোমস্তাপুর
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে এবার এসএসসিতে ২৯০ ও দাখিল পরীক্ষায় ১৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। বরাবরের মতো এবারও রহনপুর এবি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৯ জন জিপিএ-৫ পেয়ে উপজেলায় শীর্ষে রয়েছে। ২৩ জন জিপিএ-৫ পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে প্রসাদপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। তৃতীয় স্থানে রয়েছে খোলশী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠানে প্রাপ্ত জিপিএ-৫ এর সংখ্যা ২২ জন।
চলতি বছর গোমস্তাপুর উপজেলায় ৪৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসিতে ২ হাজার ২৩৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ২ হাজার ১৯০ জন। এছাড়া ২৫টি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় ৬৩৯ জন অংশ নিলেও পাস করেছে ৬০০ জন।
নাচোল
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯১জন। নাচোল কেন্দ্র সচিব সুত্রে জানাগেছে ২০১৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ২টি কেন্দ্র থেকে ১৮টি বিদ্যালয়ে ৯৭৮ জন পরিক্ষার্থী অংশগ্রহন করেন, এর মধ্যে ৯২০ জন পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে বলে সুত্রে জানা গেছে । নাচোল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের মাক্তাপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩৯ জন, খুরশেদ মোল্লা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে ১৩ জন, পীরপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮ জন, সোনাইচন্ডি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫ জন, গোলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২ জন, মাধবপুর ও মুন্সি হযরত আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১ জন করে জিপিএ -৫ পেয়েছে। অন্যদিকে খুরশেদ মোল্লা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের নাচোল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮জন,ভেরেন্ডী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬ জন,সোনাইচন্ডী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও নেজামপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২ জন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। অপর দিকে বেগম মহসীন ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ৩ জন ও মাক্তাপুর কারিগরী কেন্দ্র থেকে ১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ১১-০৫-১৬
এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলে সেরা প্রতিষ্ঠানের (টপ-২০, টপ-১০) তালিকা করা হয়নি। অন্যান্যবার বিদ্যালয় ভিত্তিকে ফলাফল পাওয়া গেলেও এবার তা পাওয়া যায়নি।
সূত্র জানিয়েছে, এবছর রাজশাহী বোর্ডে পাশের হার ৯৫ দশমিক ৭০ ভাগ। যা গতবছর ছিল ৯৪ দশমিক ৯৭ ভাগ। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুখলেসুর রহমান আকন্দ জানান, এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬ হাজার ৫২৭ জন ছাত্র ও ৬ হাজার ২৮২ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে পাস করা ছাত্রের সংখ্যা ৬ হাজার ৩০৫ ও পাস করা ছাত্রীর সংখ্যা ৬ হাজার ৯ জন। সবমিলিয়ে পাস করা শিক্ষার্থী ১২ হাজার ৩১৪ জন। জেলায় পাসের হার শতকরা ৯৬.১৪ ভাগ। ছাত্রদের ক্ষেত্রে এই হার শতকরা ৯৬.৬০ ও ছাত্রীদের ক্ষেত্রে ৯৫.৬৫ ভাগ। এবার জিপিএ ৫ পেয়েছে ১২৮৮জন।
এগিকে, গতবছরে ফলাফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অবস্থান কিছুটা নিচে ছিল। এবার তা ভাল হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে যোগাযোগ জানা গেছে, জেলা শহরের শতবছরের প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হরিমোহন সরকারি উচচ বিদ্যালয়ে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৪৯ জন শিক্ষার্থী, সরকারি বালিকা উচচ বিদ্যালয় থেকে ১০৪ জন, রাজারামপুর হামিদুল্লাহ উচচ বিদ্যালয়ে ১৩ জন, গ্রীনভিউ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১০ জন, টাউন হাই স্কুল থেকে ৪ জন, নামোসংকরবাটি উচ্চ বিদ্যালয় ২৪ জন ও রানীহাটি উচচ বিদ্যালয় থেকে ৫ জন।
গোমস্তাপুর
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে এবার এসএসসিতে ২৯০ ও দাখিল পরীক্ষায় ১৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। বরাবরের মতো এবারও রহনপুর এবি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৯ জন জিপিএ-৫ পেয়ে উপজেলায় শীর্ষে রয়েছে। ২৩ জন জিপিএ-৫ পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে প্রসাদপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। তৃতীয় স্থানে রয়েছে খোলশী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠানে প্রাপ্ত জিপিএ-৫ এর সংখ্যা ২২ জন।
চলতি বছর গোমস্তাপুর উপজেলায় ৪৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসিতে ২ হাজার ২৩৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ২ হাজার ১৯০ জন। এছাড়া ২৫টি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় ৬৩৯ জন অংশ নিলেও পাস করেছে ৬০০ জন।
নাচোল
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯১জন। নাচোল কেন্দ্র সচিব সুত্রে জানাগেছে ২০১৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ২টি কেন্দ্র থেকে ১৮টি বিদ্যালয়ে ৯৭৮ জন পরিক্ষার্থী অংশগ্রহন করেন, এর মধ্যে ৯২০ জন পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে বলে সুত্রে জানা গেছে । নাচোল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের মাক্তাপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩৯ জন, খুরশেদ মোল্লা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে ১৩ জন, পীরপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮ জন, সোনাইচন্ডি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫ জন, গোলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২ জন, মাধবপুর ও মুন্সি হযরত আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১ জন করে জিপিএ -৫ পেয়েছে। অন্যদিকে খুরশেদ মোল্লা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের নাচোল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮জন,ভেরেন্ডী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬ জন,সোনাইচন্ডী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও নেজামপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২ জন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। অপর দিকে বেগম মহসীন ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ৩ জন ও মাক্তাপুর কারিগরী কেন্দ্র থেকে ১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ১১-০৫-১৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শতবর্ষের প্রাচীন বিদ্যাপিঠ হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে চালু হয়েছে ‘ডিজিটাল এ্যাটেন্ডেস’ প্রযুক্তি। এর ফলে শ্রেণী কক্ষে ‘হাজিরা বহি’ নিয়ে গিয়ে শ্রেণী শিক্ষকরা ‘নাম ডেকে ডেকে’ যেভাবে শিক্ষার্থী হাজিরা নিতেন তার অবসান ঘটছে। এখন বিদ্যালয়ে আসা শিক্ষার্থীদের হাজিরা হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই।
সোমবার দুপুরে বিদ্যায়ল মিলনায়তনে প্রযুক্তি কর্মসুচির আওতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়ার ও ওয়েব সাইট-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোখলেসুর রহমান আকন্দ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘ডিজিটাল এ্যাটেন্ডেস’ নামের চালু হওয়া এই প্রযুক্তির ফলে বিদ্যালয়ে আসা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে। সেই সঙ্গে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের কাছে মোবাইল ফোনে ক্ষুদেবার্তার ম্যাধ্যমে অনুপস্থিতির বিষয়টি জানানো হবে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পিন নম্বর সম্বলিত ডিজিটাল কার্ড সরবরাহ করা হয়েছে। এখন বিদ্যালয়ে আসা শিক্ষার্থীরা শ্রেনী কক্ষে দিয়ে নির্দিষ্ট যন্ত্রে কার্ডের সংযোগ করলেই উপস্থিতি নিশ্চিত হয়ে যাবে।
তারা জানান, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী অনুপস্থিতির হার বহুলাংশে কমে যাবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ০৯-০৫-১৬
সোমবার দুপুরে বিদ্যায়ল মিলনায়তনে প্রযুক্তি কর্মসুচির আওতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়ার ও ওয়েব সাইট-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোখলেসুর রহমান আকন্দ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘ডিজিটাল এ্যাটেন্ডেস’ নামের চালু হওয়া এই প্রযুক্তির ফলে বিদ্যালয়ে আসা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে। সেই সঙ্গে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের কাছে মোবাইল ফোনে ক্ষুদেবার্তার ম্যাধ্যমে অনুপস্থিতির বিষয়টি জানানো হবে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পিন নম্বর সম্বলিত ডিজিটাল কার্ড সরবরাহ করা হয়েছে। এখন বিদ্যালয়ে আসা শিক্ষার্থীরা শ্রেনী কক্ষে দিয়ে নির্দিষ্ট যন্ত্রে কার্ডের সংযোগ করলেই উপস্থিতি নিশ্চিত হয়ে যাবে।
তারা জানান, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী অনুপস্থিতির হার বহুলাংশে কমে যাবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ০৯-০৫-১৬
দেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি’র এবারের পর্বটি চিত্রায়ন হবে আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে। ইত্যাদি’র নানান অনুষ্ঠান আমের বাগানে বাগানে চিত্রায়নের পাশাপাশি আম বাগানেই মঞ্চ তৈরী করে মঞ্চস্থ হবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা। যা বিটিভিতে ‘অন ইয়ার’ হওয়ার আগেই সরাসরি উপভোগ করবেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ।
সূত্র জানিয়েছে, জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজনের অংশ হিসেবে আমের মৌসুমকে সামনে রেখে ইত্যাদি কর্তৃপক্ষ এবারের পর্ব আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইতোমধ্যে ইত্যাদি’র একটি টিম চাঁপাইনবাবগঞ্জ পরিদর্শনও করেছেন। ওই সূত্র জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইত্যাদি’র পর্ব চিত্রায়নের সিদ্ধান্তের পর ইত্যাদি’র পক্ষ থেকে সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ করা হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ ডটকম’র সম্পাদক ও কালের কণ্ঠের সাংবাদিক শহীদুল হুদা অলকের সঙ্গে। একইভাবে যোগাযোগ করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলামের সঙ্গেও। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলাপ শেষে ইত্যাদি অনুষ্ঠানের সহকারী পরিচালক ও ফাগুন অডিও ভিশনের প্রোগ্রাম এক্সিউটিভ মোহাম্মদ মামুননের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি অগ্রগামি টিম রোববার রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আসেন। তারা ইত্যাদি অনুষ্ঠান চিত্রায়নের স্থান নির্ধারণের জন্য তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জের কয়েকটি আম বাগান পরিদর্শন করেন। সেই সব আম বাগানের ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র ধারণ করেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কল্যাণপুর হর্টিকালচার সেন্টার, আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্র ( আম গবেষণা কেন্দ্র)। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন সাংবাদিক শহীদুল হুদা অলক।
ইত্যাদির সহকারী পরিচালক মামুন জানান, আম বাগানগুলোর ধারণ করা স্থির চিত্র ও ভিডিও ফুটেজগুলো নিয়ে ঢাকায় চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে কোন স্থানে অনুষ্ঠান চিত্রায়ন হবে।
কবে অনুষ্ঠান চিত্রায়ন হবে এই দিনক্ষণ চুড়ান্ত না হলেও তিনি বলেন, ‘ আমের মৌসুম জমে উঠার সময় অর্থাৎ এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের পরপরই অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে’।
অগ্রগামি টিম চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনের পাশাপাশি এই নিয়ে নিরাপত্তার বিষয়সহ অন্যান্য ব্যাপারে তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ আল মামুনের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। তিনি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের খোজ খবর ও সহযোগিতা নিতে যোগাযোগ করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ড. মাযহারুল ইসলাম তরু’র সঙ্গেও।
ইত্যাতির চার সদস্যের একটি অগ্রগামী টিম গত দুই দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবস্থানের পর মঙ্গলবার ঢাকায় ফিরে গেছেন।
এদিকে, ইত্যাদির এবারের পর্ব চাঁপাইনবাবগঞ্জে চিত্রায়ন হবে এমন খবর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই যেন ফেসবুকে ভক্তদের উচ্ছাস ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিজের ফেসবুক একাউন্টে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইত্যাদি অনুষ্ঠান করার জন্য ইত্যাদি টিমকে ধন্যবাদ দেন। কেউ কেউ আবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইত্যাদির মত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান হচ্ছে এজন্য নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে এমনও কথা বলেছেন। কবে ধারণ করা হবে সেই জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদি, এটা না জানলেও এ নিয়ে
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফেসবুক ব্যবহারকারীদের উচ্ছাস যেন থামছেই না।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ১৫-০৩-১৬
সূত্র জানিয়েছে, জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজনের অংশ হিসেবে আমের মৌসুমকে সামনে রেখে ইত্যাদি কর্তৃপক্ষ এবারের পর্ব আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইতোমধ্যে ইত্যাদি’র একটি টিম চাঁপাইনবাবগঞ্জ পরিদর্শনও করেছেন। ওই সূত্র জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইত্যাদি’র পর্ব চিত্রায়নের সিদ্ধান্তের পর ইত্যাদি’র পক্ষ থেকে সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ করা হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ ডটকম’র সম্পাদক ও কালের কণ্ঠের সাংবাদিক শহীদুল হুদা অলকের সঙ্গে। একইভাবে যোগাযোগ করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলামের সঙ্গেও। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলাপ শেষে ইত্যাদি অনুষ্ঠানের সহকারী পরিচালক ও ফাগুন অডিও ভিশনের প্রোগ্রাম এক্সিউটিভ মোহাম্মদ মামুননের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি অগ্রগামি টিম রোববার রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আসেন। তারা ইত্যাদি অনুষ্ঠান চিত্রায়নের স্থান নির্ধারণের জন্য তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জের কয়েকটি আম বাগান পরিদর্শন করেন। সেই সব আম বাগানের ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র ধারণ করেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কল্যাণপুর হর্টিকালচার সেন্টার, আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্র ( আম গবেষণা কেন্দ্র)। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন সাংবাদিক শহীদুল হুদা অলক।
ইত্যাদির সহকারী পরিচালক মামুন জানান, আম বাগানগুলোর ধারণ করা স্থির চিত্র ও ভিডিও ফুটেজগুলো নিয়ে ঢাকায় চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে কোন স্থানে অনুষ্ঠান চিত্রায়ন হবে।
কবে অনুষ্ঠান চিত্রায়ন হবে এই দিনক্ষণ চুড়ান্ত না হলেও তিনি বলেন, ‘ আমের মৌসুম জমে উঠার সময় অর্থাৎ এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের পরপরই অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে’।
অগ্রগামি টিম চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনের পাশাপাশি এই নিয়ে নিরাপত্তার বিষয়সহ অন্যান্য ব্যাপারে তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ আল মামুনের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। তিনি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের খোজ খবর ও সহযোগিতা নিতে যোগাযোগ করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ড. মাযহারুল ইসলাম তরু’র সঙ্গেও।
ইত্যাতির চার সদস্যের একটি অগ্রগামী টিম গত দুই দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবস্থানের পর মঙ্গলবার ঢাকায় ফিরে গেছেন।
এদিকে, ইত্যাদির এবারের পর্ব চাঁপাইনবাবগঞ্জে চিত্রায়ন হবে এমন খবর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই যেন ফেসবুকে ভক্তদের উচ্ছাস ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিজের ফেসবুক একাউন্টে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইত্যাদি অনুষ্ঠান করার জন্য ইত্যাদি টিমকে ধন্যবাদ দেন। কেউ কেউ আবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইত্যাদির মত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান হচ্ছে এজন্য নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে এমনও কথা বলেছেন। কবে ধারণ করা হবে সেই জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদি, এটা না জানলেও এ নিয়ে
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফেসবুক ব্যবহারকারীদের উচ্ছাস যেন থামছেই না।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ১৫-০৩-১৬
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা কমিউটর ট্রেনযোগে ২ জন যাত্রী ঝিলিম ইউনিয়নের আমনুরা রেলবাজার এলাকার মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে মইনুদ্দীনের বাড়িতে বেড়াতে আসে। দুপুরে ওই যাত্রী দু’জনকে আনতে মইনুদ্দীন রেলস্টেশনে যায়। সেখানে স্টেশন থেকে যাত্রী বের হওয়াকালে দায়িত্বরত টিটি যাত্রীদের কাছ থেকে টিকিট নিয়ে নেয়ার সময় তারা টিকিট ফেরত দিতে রাজি না হলে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মইনুদ্দীন টিটিকে ধাক্কা দিলে সেখানে অবস্থান করা জিআরপি (পুলিশ) সদস্য মোশারফ আলী মইনুদ্দীনকে মারধর এবং আটক করে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। মইনুদ্দীনকে আটকের খবর তার বাড়িতে গেলে স্টেশনে ছুটে আসেন কেন্দুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা কুলসুম নাহার রানী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রানী আমনুরা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে ঢুকেই জানতে চায় কে মোশারাফ। এরপর সে তার সেলফোনে মোশারফের ছবি তোলা শুরু করে। তাকে নিবৃত করার চেষ্টা করা হলে সে আরো ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং বলেন, ‘ আমি ওকে দেখে নিবো। আমি মুক্তিয্দ্ধোার সন্তান। আমার ভাই পুলিশের দারোগা’। একপর্যায়ে রানী তার পায়ের সেন্ডেল খুলে মোশারফের দিকে ছুড়ে মারলে মোশারফ তার হাতে থাকা মেটার ডিটেক্টর দিয়ে আঘাত করে। যা রানীর মাথায় লাগে। আঘাতে তার মাথা থেকে রক্ত বের হলে তাকে স্থানীয়রা দ্রুত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই শিক্ষিকাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আমনুরা স্টেশন মাস্টার খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘ প্রথমে ঘটনাটি ঘটার পর আমার স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য পুলিশ ফাঁড়িতে বসেছিলাম। এরই মাঝে কুলসুম নাহার ঘটনাস্থলে আসলে পরিস্থিতি উতপ্ত হয়ে উঠে। ক্ষুব্ধতার একপর্যায়ে রানী মোশাররফকে উদ্দেশ্য করে জুতা ছুড়ার পর মোশররফও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পাল্টা আঘাত করেন। এতে কুলসুমের কপালে আঘাত লাগে’। পুলিশকে জুতা মারার কথা স্বীকার করেছেন কুলসুম নাহার রানীর ভাই মইনুদ্দীনও।
তবে আহত স্কুল শিক্ষিকা অভিযোগ করেন বলেন, ‘পুলিশ তাকে শুধু মেটাল ডিকেকটর দিয়েই আঘাত করেনি। আমাকে মারধরও করেছে। মাথায় আঘাতের পর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। স্থানীয়রা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে’।
এব্যাপারে রাজশাহী রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনাটি খুবই অনাকাঙ্খিত। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উ™ভুত পরিস্থিতিতে কন্সটেবল মোশাররফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ৩১-০১-১৬
জামায়াত বিএনপি’র ঘাটি হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পরিচিতি অনেক আগে থেকেই। এবারের পৌর নির্বাচনে ‘ভোটের অংকে’ পিছিয়ে থাকা আওয়ামী লীগ অনেক ভাল করলেও পরাজয় বরণ করতে হয়েছে বহু মামলার আসামী জামায়াত নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে। গত পৌর নির্বাচনে ‘ভাটিতে’ থাকা জামায়াত আবার ‘উজানে’ এসেছে। চলতি পৌর নির্বাচনে বহু মামলায় ‘জর্জরিত’ জামায়াতের নেতাকর্মীরা গোপনে গোপনে প্রচার প্রচারণা চালানোর মাঝেই হটাৎকরে প্রকাশ্যে প্রচারণার সুবাদে পরিবর্তন আসে নির্বাচনী হাওয়ায়। হাওয়া লাগে জামায়াতের পালে। ১ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয় জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় জামায়াতের ‘শক্ত’ অবস্থান বিগত দু’ দশকেরও বেশী সময় ধরে। ১৯৮৯ সালে জামায়াত নেতা অধ্যাপক লতিফুর রহমান পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার পর আরো দু’বার চেয়ারম্যান ও মেয়র পদটি দখলে নেয় জামায়াত নেতা অধ্যাপক আতাউর রহমান। গত পৌরসভা নির্বাচনে অধ্যাপক আতাউর রহমানই জামায়াত সমর্থিত মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন এমন আলোচনার শেষ মুর্হুতে হটাৎকরে জামায়াত তাদের প্রার্থী বদল করে। মেয়র প্রার্থী হিসেবে নিয়ে আসে সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক লতিফুর রহমানকে। ওই নির্বাচনে জামায়াত তাদের ভোটের অংক ‘স্থিতি অবস্থায়’ রাখলেও উত্থান হয় বিএনপি’র। বিএনপি’র সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হন মাওলানা আব্দুল মতিন। ওই নির্বাচনে বিএনপি’র মাওলানা আব্দুল মতিন ৩২ হাজার ১৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। জামায়াতের লতিফুর রহমান পান ২৭ হাজার ৯১৩ এবং আওয়ামী লীগের মইনুদ্দীন মন্ডল ২২ হাজার ৪৮৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে থাকেন।
সূত্র জানিয়েছে, গত পৌর নির্বাচনের পর যুদ্ধাপরাধ ইস্যু এবং মানবতা বিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় ঘোষণার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জজুড়ে একের পর এক নাশকতার ঘটনা ও এসব ঘটনায় দায়ের মামলায় অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পড়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জামায়াত। একের পর এক মামলায় জড়িয়ে আত্মগোপনে চলে যান নেতারা। গোপনে গোপনেই চালান তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম। এরই মাঝে নির্বাচনী ‘হাওয়া’ শুরু হলে অনেক আগেই সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে জামায়াত তাদের মেয়র প্রার্থী হিসেবে জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের নাম ঘোষণা করে। একই সঙ্গে গোপনে গোপনে চলে প্রচারণাও।
এদিকে, আন্দোলনে বিএনপি-জামায়াত জোট থাকলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে ‘নির্বাচনী জোটের’ দেখা মিলেনা। জাতীয় নির্বাচনেও তারা পৃথক পৃথকভাবেই নির্বাচনে অংশ নেয়। দলীয় সূত্র জানায়, চলতি পৌর নির্বাচনে বিএনপি জামায়াত থেকে অব্যাহতি পাওয়া জামায়াতের সাবেক নেতা অধ্যাপক আতাউর রহমানকে দলে ভিড়িয়ে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করলে নড়েচড়ে বসে জামায়াত। তারা তাদের ঘোষিত মেয়র প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামকে জয়ী করতে নানা কৌশল অবলম্বন শুরু করে। ওই সূত্র জানায়, বিভিন্ন আদালতে দায়ের থাকা ১৭টি মামলার আসামী নজরুল ইসলাম মামলা জটিলতায় প্রকাশ্যে ‘কাজ’ করতে না পারলেও তাদের বিশাল কর্মী বাহিনী গোপনে গোপনে চালিয়ে যান নির্বাচনী তৎপরতা। এরই মাঝে হটাৎকরেই প্রকাশ্যে চলে আসেন প্রচার প্রচারণায়। এরফলে পরিবর্তন আসে পৌর নির্বাচনী হাওয়ায়। প্রতিদ্বন্দ্বিতার আলোচনায় চলে আসেন গত নির্বাচনে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জামায়াত। যদিও গত উপজেলা নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় ‘সাঈদী’ ইমেজে জামায়াত ব্যাপক ভোট পেয়েছিলেন।
সূত্র জানায়, সাবেক জামায়াত নেতা আতাউর রহমান বিএনপি প্রার্থীর হওয়ায় জামায়াত বিষয়টিকে ‘সম্মান ইস্যু’ হিসেবে নেয়। সেই হিসেবে জামায়াতের বিশাল কর্মী বাহিনীর পরিকল্পনা মাফিক কাজ শুরু করে। মূল শহরের বাইরের ওয়ার্ডগুলোতে ‘বিশেষ নজর’ দেয়া ও নারী ভোটেই উত্থান ঘটে জামায়াতের। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরতলীর চরমোহনপুর, টিকরামপুর, নামোশংকবাটি, রেহায়চর, হরিপুরসহ কয়েকটি এলাকায় জামায়াত প্রার্থী ভাল ফল লাভ করে। ওই সূত্র জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মোটর ভোটারের মধ্যে নারীর ভোটারের সংখ্যা ৬৩ হাজার। ভোটাধিকার প্রয়োগে যাদের উপস্থিতি থাকে বেশী। সেই নারী ভোটারদের দখলে রাখতে নানা কৌশলে কাজ করে জামায়াত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জামায়াত নেতা বলেন, ‘সরকারের দমন পিড়নে ক্ষুব্দ নেতাকর্মীরা মনবল শক্ত করেই কাজ করে। সেই নারী ভোটারদের কাছে থাকা আমাদের আগের ইমেজ এবারও কাজে লেগেছে’।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এবার জামায়াত তাদের কাউন্সিলর প্রাথীদের পাশাপাশি অধিক গুরুত্ব দেয় মেয়র প্রার্থীর বিষয়ে এবং তাতে সফলতাও আসে। দলের নেতা অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম জয়ী হন ৩১ হাজার ৫০৪ ভোট পেয়ে। তবে ফলাফলে বিপর্যয় দেখা দেয় কাউন্সিলর প্রার্থীদের ব্যাপারে। গত নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১৫ টি ওয়ার্ডে জামায়াতের ১০ জন নির্বাচিত হলেও এবার নির্বাচিত হতে পারেননি একজনও।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ০২-০১-১৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় জামায়াতের ‘শক্ত’ অবস্থান বিগত দু’ দশকেরও বেশী সময় ধরে। ১৯৮৯ সালে জামায়াত নেতা অধ্যাপক লতিফুর রহমান পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার পর আরো দু’বার চেয়ারম্যান ও মেয়র পদটি দখলে নেয় জামায়াত নেতা অধ্যাপক আতাউর রহমান। গত পৌরসভা নির্বাচনে অধ্যাপক আতাউর রহমানই জামায়াত সমর্থিত মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন এমন আলোচনার শেষ মুর্হুতে হটাৎকরে জামায়াত তাদের প্রার্থী বদল করে। মেয়র প্রার্থী হিসেবে নিয়ে আসে সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক লতিফুর রহমানকে। ওই নির্বাচনে জামায়াত তাদের ভোটের অংক ‘স্থিতি অবস্থায়’ রাখলেও উত্থান হয় বিএনপি’র। বিএনপি’র সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হন মাওলানা আব্দুল মতিন। ওই নির্বাচনে বিএনপি’র মাওলানা আব্দুল মতিন ৩২ হাজার ১৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। জামায়াতের লতিফুর রহমান পান ২৭ হাজার ৯১৩ এবং আওয়ামী লীগের মইনুদ্দীন মন্ডল ২২ হাজার ৪৮৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে থাকেন।
সূত্র জানিয়েছে, গত পৌর নির্বাচনের পর যুদ্ধাপরাধ ইস্যু এবং মানবতা বিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় ঘোষণার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জজুড়ে একের পর এক নাশকতার ঘটনা ও এসব ঘটনায় দায়ের মামলায় অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পড়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জামায়াত। একের পর এক মামলায় জড়িয়ে আত্মগোপনে চলে যান নেতারা। গোপনে গোপনেই চালান তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম। এরই মাঝে নির্বাচনী ‘হাওয়া’ শুরু হলে অনেক আগেই সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে জামায়াত তাদের মেয়র প্রার্থী হিসেবে জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের নাম ঘোষণা করে। একই সঙ্গে গোপনে গোপনে চলে প্রচারণাও।
এদিকে, আন্দোলনে বিএনপি-জামায়াত জোট থাকলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে ‘নির্বাচনী জোটের’ দেখা মিলেনা। জাতীয় নির্বাচনেও তারা পৃথক পৃথকভাবেই নির্বাচনে অংশ নেয়। দলীয় সূত্র জানায়, চলতি পৌর নির্বাচনে বিএনপি জামায়াত থেকে অব্যাহতি পাওয়া জামায়াতের সাবেক নেতা অধ্যাপক আতাউর রহমানকে দলে ভিড়িয়ে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করলে নড়েচড়ে বসে জামায়াত। তারা তাদের ঘোষিত মেয়র প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামকে জয়ী করতে নানা কৌশল অবলম্বন শুরু করে। ওই সূত্র জানায়, বিভিন্ন আদালতে দায়ের থাকা ১৭টি মামলার আসামী নজরুল ইসলাম মামলা জটিলতায় প্রকাশ্যে ‘কাজ’ করতে না পারলেও তাদের বিশাল কর্মী বাহিনী গোপনে গোপনে চালিয়ে যান নির্বাচনী তৎপরতা। এরই মাঝে হটাৎকরেই প্রকাশ্যে চলে আসেন প্রচার প্রচারণায়। এরফলে পরিবর্তন আসে পৌর নির্বাচনী হাওয়ায়। প্রতিদ্বন্দ্বিতার আলোচনায় চলে আসেন গত নির্বাচনে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জামায়াত। যদিও গত উপজেলা নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় ‘সাঈদী’ ইমেজে জামায়াত ব্যাপক ভোট পেয়েছিলেন।
সূত্র জানায়, সাবেক জামায়াত নেতা আতাউর রহমান বিএনপি প্রার্থীর হওয়ায় জামায়াত বিষয়টিকে ‘সম্মান ইস্যু’ হিসেবে নেয়। সেই হিসেবে জামায়াতের বিশাল কর্মী বাহিনীর পরিকল্পনা মাফিক কাজ শুরু করে। মূল শহরের বাইরের ওয়ার্ডগুলোতে ‘বিশেষ নজর’ দেয়া ও নারী ভোটেই উত্থান ঘটে জামায়াতের। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরতলীর চরমোহনপুর, টিকরামপুর, নামোশংকবাটি, রেহায়চর, হরিপুরসহ কয়েকটি এলাকায় জামায়াত প্রার্থী ভাল ফল লাভ করে। ওই সূত্র জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মোটর ভোটারের মধ্যে নারীর ভোটারের সংখ্যা ৬৩ হাজার। ভোটাধিকার প্রয়োগে যাদের উপস্থিতি থাকে বেশী। সেই নারী ভোটারদের দখলে রাখতে নানা কৌশলে কাজ করে জামায়াত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জামায়াত নেতা বলেন, ‘সরকারের দমন পিড়নে ক্ষুব্দ নেতাকর্মীরা মনবল শক্ত করেই কাজ করে। সেই নারী ভোটারদের কাছে থাকা আমাদের আগের ইমেজ এবারও কাজে লেগেছে’।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এবার জামায়াত তাদের কাউন্সিলর প্রাথীদের পাশাপাশি অধিক গুরুত্ব দেয় মেয়র প্রার্থীর বিষয়ে এবং তাতে সফলতাও আসে। দলের নেতা অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম জয়ী হন ৩১ হাজার ৫০৪ ভোট পেয়ে। তবে ফলাফলে বিপর্যয় দেখা দেয় কাউন্সিলর প্রার্থীদের ব্যাপারে। গত নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১৫ টি ওয়ার্ডে জামায়াতের ১০ জন নির্বাচিত হলেও এবার নির্বাচিত হতে পারেননি একজনও।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ০২-০১-১৬
ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানীকে আওয়ামীলীগ থেকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হয়েছে। চলতি পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর ‘বিপক্ষে’ অবস্থান নেয়ার কথা উল্লেখ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মইনুদ্দীন মন্ডল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ এমপি স্বাক্ষরিত এক পত্র বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় গণমাধ্যম ও কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বহিস্কার করা হয়েছে শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আতাউরর রহমান ও শিবগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং চলতি নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী কারিবুল হক রাজিনকে। এদিকে, দলীয় সংসদ সদস্যকে দল থেকে সাময়িক বহিস্কারের ঘটনাকে ঘিরে আভ্যন্তরিণ দ্বন্দ্ব প্রকট হয়েছে। সাময়িক বহিস্কারের ‘এখতিয়ার’ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন নিয়ে ‘বিনাভোটে’ নির্বাচিত হন গোলাম রাব্বানী। আগে থেকে আওয়ামীলীগ না করা পল্লী বিদ্যুৎ আন্দোলনের এই নেতা শিবগঞ্জ আওয়ামীলীগের একাংশকে একত্রিত করে নিজের অবস্থান তৈরী করেন। নিজ ‘বলয়ে’ ভেরানো চেষ্টা করেন বহু নাশকতার মামলার আসামী বিএনপি নেতাদেরকেও। সংগঠনের ভঙ্গুর অবস্থার মাঝেই শিবগঞ্জ আওয়ামীলীগের অভ্যন্তরিণ দ্বন্দ্বের জের ধরে উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অবস্থান নেন গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে। তারা গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে নানা ‘অনিয়মের’ অভিযোগ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ বিভিন্ন অফিসে পাঠান। তবে, বিরুদ্ধাচারণ করা ওই নেতাদের অধিকাংশজনকেই ‘ম্যানেজ’ করে গোলাম রাব্বানী ফিরেয়ে আনেন নিজ ‘বলয়ে’। ওই সূত্র জানায়, গোলাম রাব্বানী সংগঠনের ভেতর নিজের অবস্থান শক্ত করে উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতিও নির্বাচিত হন। এমপি’র প্রভাব ও সংগঠনের মধ্যে ‘অবস্থান’ তৈরীর মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত হলেও দলের পুরোনো অংশের নেতাকর্মীরা থেকে যা তার বিরুদ্ধেই।
দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, সংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানী সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর গত জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে তিনি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হতে তৎপরতা শুরু করেন। ফলে গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে জেলা সদরের সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ এবং বর্তমান সভাপতি মইনুদ্দীন মন্ডলের মধ্যে অভ্যন্তরিণ দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। ওই সূত্র জানায়, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মইনুদ্দীন মন্ডলের সঙ্গে ‘সভাপতি’ হওয়াকে ঘিরে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হলেও গোলাম রাব্বানী এমপি’র সঙ্গে আব্দুল ওদুদ এমপি’র দ্বন্দ্ব সৃষ্টি ক্ষমতা ও আধিপত্যকে ঘিরে।
আওয়ামীলীগের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, গোলাম রাব্বানীর সংসদীয় এলাকার মধ্যে থাকা সোনামসজিদ স্থল বন্দরের ‘দখল’ কিংবা ‘অংশিদারিত্ব’ নিয়ে আব্দুল ওদুদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হলেও তা প্রকট আকার ধারণ করে শিবগঞ্জ পৌরসাভার মর্দনা এলাকায় আওয়ামীলীগে দু’গ্রুপের দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পৃষ্টপোশকতাকে ঘিরে। মর্দনা এলাকায় আওয়ামীলীগ নেতা পৌর কাউন্সিলর আব্দুস সালাম বাহিনীর সঙ্গে আওয়ামীলীগ নেতা সফিকুল ইসলাম পাশবান ও জেম বাহিনীর দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। এই দ্বন্দ্বের জের ধরে প্রায় ৪/৫ মাস আগে দফায় দফায় ওই এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। ওই দ্বন্দ্বের জেরে রবিউল ইসলাম নামের সালাম গ্রুপের এক যুবক নিহত হয়। বহু বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে। দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, মর্দনার ওই দ্বন্দ্বে সালাম গ্রুপকে পৃষ্টপোশকতা করেন গোলাম রাব্বনী আর পাশবান-জেম গ্রুপকে পৃষ্টপোশকতা প্রদান করেন আব্দুল ওদুদ। সূত্রগুলো জানিয়েছে, দু’ এমপি’র পৃষ্টপোশকতার কারণে মর্দনা সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে পরিচিতি পায় এবং সংঘর্ষ দফায় দফায় প্রায় দু’ মাস ধরে চলতে থাকতে। মামলা পাল্টা মামলা দায়েরকে ঘিরে দু’ এমপি দু’ মেরুতে অবস্থান নেয়।
দলীয় সূত্র জানায়, পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে গোলাম রাব্বানী কানসাট ইউনিয়নস্থ তার বাড়ির সামনে রাসেল স্মৃতি মিলনায়তনে পৌর আওয়ামীলীগের এক সভা ডেকে তার ‘আর্শিবাদপুষ্ট’ শিবগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কারিবুল হক রাজিনকে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেন। এই ঘোষণার পর রাজিন নিজেকে তৃণমূল আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে প্রচার প্রচারণা শুরু করেন। এদিকে, বাধ সাধেন ওই সভা ত্যাগ করে চলে আসা শিবগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আতিকুল ইসলাম টুটুল। জেলা সদরে এসে গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলনও করেন। শিবগঞ্জের আওয়ামীলীগের একাংশ ও টুটুল গ্রুপ স্মরণাপন্ন হন জেলা আওয়ামীলীগের দু’ র্শীষনেতা মন্ডল ও ওদুদের কাছে। সর্বশেষ অভ্যান্তরিণ লবিং-এ দলীয় মনোনয়ন পান মন্ডল-ওদুদ ‘ঘরানা’র ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ময়েন খান। তবে এ সিদ্ধান্তকে অমান্য করে মাঠে থেকে যান কারিবুল হক রাজিন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলের সূত্রগুলো জানিয়েছে, নৌকা প্রতিকের প্রার্থীর পক্ষে শিবগঞ্জ আওয়ামীলীগের অনেক নেতা চলে আসলেও তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা রাজিনের পক্ষে থেকে যাওয়ায় ‘বিব্রতকর’ অবস্থার মধ্যে পড়ে আওয়ামীলীগ। কেন্দ্র ও জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ্ব দফায় দফায় চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন গোলাম রাব্বানীর ‘আর্শিবাদপুষ্ট’ রাজিনকে প্রার্থী থেকে সরে দাঁড়াতে। জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মইনুদ্দীন মন্ডল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ’র সঙ্গে গোলাম রাব্বানীর পুর্বের দ্বন্দ্ব এবং নির্বাচন নিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতির ‘সুযোগে’ কঠোর অবস্থান নেন জেলা আওয়ামীলীগে দু’ শীর্ষ নেতা মন্ডল ও ওদুদ। বৃহস্পতিবার রাতে জেলা আওয়ামীলীগের নামে কম্পিউটার কম্পোজ করা প্যাডে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে পাঠানো এক পত্রে জানানো হয়েছে, শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গেলাম রাব্বানী, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আতাউর রহমান ও শিবগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পদাক কারিবুল হক রাজিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনটি পৃথক পত্রে এ বরখাস্ত করা হয়। ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয কমিটি শিবগঞ্জ পৌরসভাসহ সব পৌরসভায় নৌকা প্রতিক দিয়ে দলের প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। শিবগঞ্জ পৌরসভায় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে আব্দুল ময়েন খানকে। মৌখিকভাবে ও বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অনুরোধ জানানোর পরেও সংসদ সদস্য ও শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিষয়টিকে সংগঠনের স্বার্থ, আদর্শ পরিপন্থি কাজ উল্লেখ করে ওই পত্রে জানানো হয়, জেলা আওয়ামীলীগের গত ২১ সেপ্টেম্বর তারিখের কার্যকরি পরিষদের সিদ্ধান্ত ও গঠনতন্ত্রের আলোকে তাদের সকল পদ-পদবী থেকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হয়।
ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘ এ মুর্হুত থেকে আপনি শিবগঞ্জ উপজেলা/ শিবগঞ্জ পৌরসভা আওয়ামীল তথা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কোন পর্যায়ের সদস্য হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেয়া থেকে বিরত থাকবেন’।
তবে ওই পত্রের শেষ অংশে হাত দিয়ে লেখা বাক্যে বলা হয়েছে, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন স্বাপেক্ষে চুড়ান্তভাবে বহিস্কার করা হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান জানান, পৃথক পৃথকভাবে গোলাম রাব্বানী, আতাউর রহমান ও কারিবুল হক রাজিনের সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে সংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে, শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আতাউর রহমান বলেন, ‘জেলার নির্দেশনা অনুযায়ী শিবগঞ্জ পৌরসভার আওয়ামীলীগের নেতাদের সমন্বয়ে সভা করে রাজিনকে প্রার্থী করা হয়েছিল। এরপর প্রার্থী দিয়েছে অন্যজনকে আমি দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনই অবস্থান নেইনি। তবুও পুর্বের রাগ তুলতেই জেলা নেতারা একাজটি করেছেন’। তিনি বলেন, কোন সভা না করে, কোন নোটিশ না দিয়ে হীন উদ্যেশ্যে ও একেবারে উদ্দ্যেশ্য প্রণোদিত হয়ে বহিস্কারের পত্র দেয়া হয়েছে যা অগণতান্ত্রিক ও অগঠনতান্ত্রিক। তিনি গঠনতন্ত্র পরিপন্থি কাজ করার জন্য উল্টো জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন’।
এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মইনুদ্দীন মন্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ বারবার বলার পরেও তারা নৌকা প্রতিকের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। নৌকা সর্বোচ্চ যায়গা হওয়ার পরেও তারা বিরোধীতা করায় গঠনতন্ত্র মোতাবেকই তাদের সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে’।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ২৬-১২-১৫
দলীয় সূত্র জানায়, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন নিয়ে ‘বিনাভোটে’ নির্বাচিত হন গোলাম রাব্বানী। আগে থেকে আওয়ামীলীগ না করা পল্লী বিদ্যুৎ আন্দোলনের এই নেতা শিবগঞ্জ আওয়ামীলীগের একাংশকে একত্রিত করে নিজের অবস্থান তৈরী করেন। নিজ ‘বলয়ে’ ভেরানো চেষ্টা করেন বহু নাশকতার মামলার আসামী বিএনপি নেতাদেরকেও। সংগঠনের ভঙ্গুর অবস্থার মাঝেই শিবগঞ্জ আওয়ামীলীগের অভ্যন্তরিণ দ্বন্দ্বের জের ধরে উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অবস্থান নেন গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে। তারা গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে নানা ‘অনিয়মের’ অভিযোগ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ বিভিন্ন অফিসে পাঠান। তবে, বিরুদ্ধাচারণ করা ওই নেতাদের অধিকাংশজনকেই ‘ম্যানেজ’ করে গোলাম রাব্বানী ফিরেয়ে আনেন নিজ ‘বলয়ে’। ওই সূত্র জানায়, গোলাম রাব্বানী সংগঠনের ভেতর নিজের অবস্থান শক্ত করে উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতিও নির্বাচিত হন। এমপি’র প্রভাব ও সংগঠনের মধ্যে ‘অবস্থান’ তৈরীর মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত হলেও দলের পুরোনো অংশের নেতাকর্মীরা থেকে যা তার বিরুদ্ধেই।
দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, সংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানী সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর গত জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে তিনি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হতে তৎপরতা শুরু করেন। ফলে গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে জেলা সদরের সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ এবং বর্তমান সভাপতি মইনুদ্দীন মন্ডলের মধ্যে অভ্যন্তরিণ দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। ওই সূত্র জানায়, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মইনুদ্দীন মন্ডলের সঙ্গে ‘সভাপতি’ হওয়াকে ঘিরে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হলেও গোলাম রাব্বানী এমপি’র সঙ্গে আব্দুল ওদুদ এমপি’র দ্বন্দ্ব সৃষ্টি ক্ষমতা ও আধিপত্যকে ঘিরে।
আওয়ামীলীগের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, গোলাম রাব্বানীর সংসদীয় এলাকার মধ্যে থাকা সোনামসজিদ স্থল বন্দরের ‘দখল’ কিংবা ‘অংশিদারিত্ব’ নিয়ে আব্দুল ওদুদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হলেও তা প্রকট আকার ধারণ করে শিবগঞ্জ পৌরসাভার মর্দনা এলাকায় আওয়ামীলীগে দু’গ্রুপের দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পৃষ্টপোশকতাকে ঘিরে। মর্দনা এলাকায় আওয়ামীলীগ নেতা পৌর কাউন্সিলর আব্দুস সালাম বাহিনীর সঙ্গে আওয়ামীলীগ নেতা সফিকুল ইসলাম পাশবান ও জেম বাহিনীর দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। এই দ্বন্দ্বের জের ধরে প্রায় ৪/৫ মাস আগে দফায় দফায় ওই এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। ওই দ্বন্দ্বের জেরে রবিউল ইসলাম নামের সালাম গ্রুপের এক যুবক নিহত হয়। বহু বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে। দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, মর্দনার ওই দ্বন্দ্বে সালাম গ্রুপকে পৃষ্টপোশকতা করেন গোলাম রাব্বনী আর পাশবান-জেম গ্রুপকে পৃষ্টপোশকতা প্রদান করেন আব্দুল ওদুদ। সূত্রগুলো জানিয়েছে, দু’ এমপি’র পৃষ্টপোশকতার কারণে মর্দনা সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে পরিচিতি পায় এবং সংঘর্ষ দফায় দফায় প্রায় দু’ মাস ধরে চলতে থাকতে। মামলা পাল্টা মামলা দায়েরকে ঘিরে দু’ এমপি দু’ মেরুতে অবস্থান নেয়।
দলীয় সূত্র জানায়, পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে গোলাম রাব্বানী কানসাট ইউনিয়নস্থ তার বাড়ির সামনে রাসেল স্মৃতি মিলনায়তনে পৌর আওয়ামীলীগের এক সভা ডেকে তার ‘আর্শিবাদপুষ্ট’ শিবগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কারিবুল হক রাজিনকে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেন। এই ঘোষণার পর রাজিন নিজেকে তৃণমূল আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে প্রচার প্রচারণা শুরু করেন। এদিকে, বাধ সাধেন ওই সভা ত্যাগ করে চলে আসা শিবগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আতিকুল ইসলাম টুটুল। জেলা সদরে এসে গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলনও করেন। শিবগঞ্জের আওয়ামীলীগের একাংশ ও টুটুল গ্রুপ স্মরণাপন্ন হন জেলা আওয়ামীলীগের দু’ র্শীষনেতা মন্ডল ও ওদুদের কাছে। সর্বশেষ অভ্যান্তরিণ লবিং-এ দলীয় মনোনয়ন পান মন্ডল-ওদুদ ‘ঘরানা’র ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ময়েন খান। তবে এ সিদ্ধান্তকে অমান্য করে মাঠে থেকে যান কারিবুল হক রাজিন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলের সূত্রগুলো জানিয়েছে, নৌকা প্রতিকের প্রার্থীর পক্ষে শিবগঞ্জ আওয়ামীলীগের অনেক নেতা চলে আসলেও তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা রাজিনের পক্ষে থেকে যাওয়ায় ‘বিব্রতকর’ অবস্থার মধ্যে পড়ে আওয়ামীলীগ। কেন্দ্র ও জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ্ব দফায় দফায় চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন গোলাম রাব্বানীর ‘আর্শিবাদপুষ্ট’ রাজিনকে প্রার্থী থেকে সরে দাঁড়াতে। জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মইনুদ্দীন মন্ডল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ’র সঙ্গে গোলাম রাব্বানীর পুর্বের দ্বন্দ্ব এবং নির্বাচন নিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতির ‘সুযোগে’ কঠোর অবস্থান নেন জেলা আওয়ামীলীগে দু’ শীর্ষ নেতা মন্ডল ও ওদুদ। বৃহস্পতিবার রাতে জেলা আওয়ামীলীগের নামে কম্পিউটার কম্পোজ করা প্যাডে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে পাঠানো এক পত্রে জানানো হয়েছে, শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গেলাম রাব্বানী, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আতাউর রহমান ও শিবগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পদাক কারিবুল হক রাজিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনটি পৃথক পত্রে এ বরখাস্ত করা হয়। ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয কমিটি শিবগঞ্জ পৌরসভাসহ সব পৌরসভায় নৌকা প্রতিক দিয়ে দলের প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। শিবগঞ্জ পৌরসভায় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে আব্দুল ময়েন খানকে। মৌখিকভাবে ও বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অনুরোধ জানানোর পরেও সংসদ সদস্য ও শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিষয়টিকে সংগঠনের স্বার্থ, আদর্শ পরিপন্থি কাজ উল্লেখ করে ওই পত্রে জানানো হয়, জেলা আওয়ামীলীগের গত ২১ সেপ্টেম্বর তারিখের কার্যকরি পরিষদের সিদ্ধান্ত ও গঠনতন্ত্রের আলোকে তাদের সকল পদ-পদবী থেকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হয়।
ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘ এ মুর্হুত থেকে আপনি শিবগঞ্জ উপজেলা/ শিবগঞ্জ পৌরসভা আওয়ামীল তথা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কোন পর্যায়ের সদস্য হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেয়া থেকে বিরত থাকবেন’।
তবে ওই পত্রের শেষ অংশে হাত দিয়ে লেখা বাক্যে বলা হয়েছে, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন স্বাপেক্ষে চুড়ান্তভাবে বহিস্কার করা হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান জানান, পৃথক পৃথকভাবে গোলাম রাব্বানী, আতাউর রহমান ও কারিবুল হক রাজিনের সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে সংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে, শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আতাউর রহমান বলেন, ‘জেলার নির্দেশনা অনুযায়ী শিবগঞ্জ পৌরসভার আওয়ামীলীগের নেতাদের সমন্বয়ে সভা করে রাজিনকে প্রার্থী করা হয়েছিল। এরপর প্রার্থী দিয়েছে অন্যজনকে আমি দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনই অবস্থান নেইনি। তবুও পুর্বের রাগ তুলতেই জেলা নেতারা একাজটি করেছেন’। তিনি বলেন, কোন সভা না করে, কোন নোটিশ না দিয়ে হীন উদ্যেশ্যে ও একেবারে উদ্দ্যেশ্য প্রণোদিত হয়ে বহিস্কারের পত্র দেয়া হয়েছে যা অগণতান্ত্রিক ও অগঠনতান্ত্রিক। তিনি গঠনতন্ত্র পরিপন্থি কাজ করার জন্য উল্টো জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন’।
এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মইনুদ্দীন মন্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ বারবার বলার পরেও তারা নৌকা প্রতিকের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। নৌকা সর্বোচ্চ যায়গা হওয়ার পরেও তারা বিরোধীতা করায় গঠনতন্ত্র মোতাবেকই তাদের সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে’।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ২৬-১২-১৫
জেলা আওয়ামীলীগের নামে কম্পিউটার কম্পোজ করা প্যাডে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে পাঠানো এক পত্রে জানানো হয়েছে, সারা বাংলাদেশে ২৩৫টি পৌরসভায় মেয়র ও কাউন্সিলর পদে নির্বাচন চলছে। এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয কমিটি শিবগঞ্জ পৌরসভাসহ সব পৌরসভায় নৌকা প্রতিক দিয়ে দলের প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। শিবগঞ্জ পৌরসভায় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে আব্দুল ময়েন খানকে।
ওইপত্রে জানানো হয়েছে, মৌখিকভাবে ও বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অনুরোধ জানানোর পরেও সংসদ সদস্য ও শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
বিষয়টিকে সংগঠনের স্বার্থ, আদর্শ পরিপন্থি কাজ উল্লেখ করে জেলা আওয়ামীলীগের গত ২১ সেপ্টেম্বর তারিখের কার্যকরি পরিষদের সিদ্ধান্ত ও গঠনতন্ত্রের আলোকে তাদের সকল পদ-পদবী থেকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হয়। ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘ এ মুর্হুত থেকে আপনি শিবগঞ্জ উপজেলা/ শিবগঞ্জ পৌরসভা আওয়ামীল তথা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কোন পর্যায়ের সদস্য হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেয়া থেকে বিরত থাকবেন’।
তবে ওই পত্রে হাত দিয়ে লেখা বাক্যে বলা হয়েছে, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন স্বাপেক্ষে চুড়ান্তভাবে বহিস্কার করা হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান জানান, পৃথক পৃথকভাবে গোলাম রাব্বানী, আতাউর রহমান ও কারিবুল হক রাজিনের কাছে ওই পত্র পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে সংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ২৪-১২-১৫
উত্তর জনপদের শতবর্ষী চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীভাবে মেয়র প্রার্থী চুড়ান্ত করা হলেও পৌরসভার ১৫টি ওর্য়াড ও ৫ টি সংরক্ষিত আসনে কাউন্সিলর প্রার্থীদের দলীয় সমর্থন চুড়ান্ত করতে পারেনি। পৌর নির্বাচনে ‘ভোটের অংকে’ এগিয়ে থাকা জামায়াত-বিএনপি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আগে থেকেই একক প্রার্থী চুড়ান্ত করলেও ‘পিছিয়ে থাকা’ আওয়ামী লীগে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। মাত্র ৩টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে আওয়ামীলীগ সমর্থতি একমাত্র প্রার্থী থাকলেও অন্যান্য ওয়ার্ডগুলোর প্রতিটিতেই একাধিক প্রার্থী রযেছে। ৬ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ জন করে ও অন্যান্য ওর্য়াডে ২/৩ জন করে আওয়ামীলীগ নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে সাধারণ কাউন্সির পদে মোট ৭৯ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ২৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতিদ্বন্দ্বি সাধারণ কাউন্সিলরদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকেই হচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতা ও কর্মী।
স্বাধীনতা পরবর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে মাত্র দু’বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা। বাকী তিন দশকেরও বেশী সময় চেয়ারম্যান ও মেয়র পদটি দখলে নেয় জামায়াত, বিএনপি ও জাসদ নেতারা। সর্বশেষ পৌরসভা নির্বাচনে ১৫ জন সাধারণ কাউন্সিলরের মধ্যে একটি মাত্র ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ নেতা নির্বাচতি হয়েছিলেন। ১০টিতে হয়েছিলেন জামায়াত নেতা এবং ৪টিতে বিএনপি। সেই হিসেবে ‘ভোটের অংকে’ এগিয়ে থাকা জামায়াত ও বিএনপি চলতি নির্বাচনী হাওয়া শুরুর আগেই প্রতিটি ওর্য়াডেই কাউন্সিলর প্রার্থী চুড়ান্ত করে নির্বাচনী কার্যক্রম চালালেও ‘পিছিয়ে’ থাকা আওয়ামী লীগ কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থন ঠিক করতে পারেনি। তবে, বিএনপিতেও দু’/ একটি ওয়ার্ডে একাধিক প্রার্থী রয়েছে। আর জামায়াত ‘ষোল আনায়’ প্রার্থী চুড়ান্ত করে কাজ করছে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছেন, পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র ৩টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ একক প্রার্থী সর্মথন নিশ্চিত করতে পেরেছে। বাকী ১২টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতেই রয়েছে ২/৩ জন করে। এমনকি দু’টি ওয়ার্ডে রয়েছে ৪ জনকরে প্রার্থী। ওই সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রীয়ভাবে জড়িত এবং প্রার্থীর হতে দলীয় সমর্থন চেয়ে আওয়ামী লীগের কাছে আবেদন করেছিলেন তারাই চুড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন, ১ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুল খালেক মিলন, ইফতিখার আহম্মদ রঞ্জু, ২ নম্বর ওয়ার্ডে জিয়াউর রহমান আরমান, শহীদ হোসনে রানা, শাহ জালাল শাহীন, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে তামিজ উদ্দীন, ইউসুফ আলী, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে আজিজুল্লাহ হায়দার, মতিউর রহমান মটন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সাদেকুল ইসলাম কুতুব মিয়া, স্থানীয় আওয়ামীলীগের সমর্থন নিয়ে আকবর আলী, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে রবিউল ইসলাম, লতিফুল ইসলাম মামুন আবুল বাসার খান, মোহাম্মদ আলী, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে নুরুল ইসলাম মিনহাজ, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ফজলুর রহমান, শাহ আলম, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আফজাল হোসেন পিন্টু, আবুল কালাম আজাদ, ১০ নম্বর আব্দুল খালেক, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুল হান্নান, সৈয়দ লিয়াকত আলী লিটন, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে ইব্রাহিম আলী, রেজাউল করিম রেজু, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে নূর আলম, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে শাহ আলম, গোলাম কাবির, ১৫ নম্বর ওর্য়াডে শাখাওয়াত হোসেন শওকত, আমিরুল মোমেনীন বাবু, মোহাম্মদ আলমগীর, ইকবাল হোসেন ছোটকু। এদিকে, পৌরসভার ৫টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে প্রার্থী সংখ্যা কম থাকায় ‘এমনি এমননিতে’ ৪টি ওয়ার্ডে একক প্রার্থী হয়ে গেছে। তবে, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে (১৩,১৪,১৫ নম্বর ওয়ার্ড) জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি সাবেক কাউন্সিলর সাকিনা খাতুন প্রার্থীতায় রয়েছেন। সেখানে আরো একজন প্রার্থী হয়েছেন জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য তাসনিমা আনোয়ার কলি।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, জেলা ও পৌর আওয়ামীলীগের নেতাদের সমন্বয়হীনতার কারণেই কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্য থেকে একক প্রার্থী বেছে সমর্থন নিশ্চিত করা যায়নি। ওই সূত্র জানায়, নির্বাচনী ‘হাওয়া’ শুরুর পর থেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন ও সমর্থন নির্ধারণ করতে হ-য-ব-র-ল অবস্থা সৃষ্টি হয়। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হটাৎকরে আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্যে মেয়র প্রার্থীদের ২০ হাজার টাকা ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের ১০ হাজার টাকা মূল্যের আবেদন ফরম কিনে আবেদন করার লিখিত নির্দেশ প্রদান করেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির নির্দেশ অনুযায়ী তার নির্ধারিত ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মেয়র প্রার্থী হিসেবে এক যুবলীগ নেতাসহ ৩ জন এবং প্রায় ২৫ জন কাউন্সিলর প্রার্থী আবেদন করেন। এরই মাঝে জেলা আওয়মী লীগের সাধারণ সম্পাদক পাল্টা ‘পত্র’ জারি করে সভাপতির নির্দেশ স্থগিত করে দেন। ঝুলে যায়, প্রার্থী নির্ধারণী কার্যক্রম। দলীয় ওই সূত্র জানায়, তফসলি ঘোষণার পর ‘নড়েচড়ে’ বসে আওয়ামী লীগ। হটাৎকরে ২৭ নভেম্বর দলীয় সভা আহবান করে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির নির্দেশ অনুযায়ী আবেদনকারীদের একদম আলোচনায় না নিয়ে এসে নতুন করে মেয়র পদে মাত্র তিন ‘আবেদনকারী’ নির্ধারণ করে তার মধ্য থেকে মাত্র একজনের নাম কেন্দ্র’র কাছে পাঠিয়ে দেয়। আর মাত্র একদিন সময় দিয়ে কাউন্সিলর প্রার্থীদের ‘বিনাপয়সায়’ নতুন করে আবেদন করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। সে নির্দেশনা অনুযায়ী রেকর্ড পরিমাণ কাউন্সিলর প্রার্থী দলীয় অফিসে আবেদন করেন। দলীয় সূত্র জানায়, কাউন্সিলর পদে আবেদনকারীদের আবেদনগুলো নিয়ে আওয়ামী লীগ কোন আনুষ্ঠাানিক বৈঠকই করেনি। ‘অন্ধকারেই’ পড়ে থাককে আবেদনগুলো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘খেয়াল খুশি মত সংগঠন চালানো হচ্ছে। সভাপতি আবেদন করতে বলে সেই আবেদন ফিরে দেয়া হলো। পরে আবেদন নিয়ে পরেরদিনই প্রার্থী সমর্থন চুড়ান্ত করার কথা। কিন্ত নেতারা কোন মিটিং করলো কি করলোনা জানতে পারলামনা’। তিনি বলেন,‘ আওয়ামী লীগের নেতারা যেহেতু মেয়র প্রার্থী হিসেবে তাদের পচ্ছন্দের প্রার্থীকে চুড়ান্ত করতে ‘ অধিক ‘ব্যস্ত’ ছিলেন সেহেতু কাউন্সিলর প্রার্থী সমর্থনে ‘মনোযোগই’ ছিলনা’।
এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ একাজটিতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। যা আমাদের জন্য শুভ নয়। জেলা আওয়ামী লীগের হস্তক্ষেপ এবং নেতাদের সমন্বয়হীনতার কারনেই এমনটা হয়েছে’।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ১৮-১২-১৫
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে সাধারণ কাউন্সির পদে মোট ৭৯ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ২৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতিদ্বন্দ্বি সাধারণ কাউন্সিলরদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকেই হচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতা ও কর্মী।
স্বাধীনতা পরবর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে মাত্র দু’বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা। বাকী তিন দশকেরও বেশী সময় চেয়ারম্যান ও মেয়র পদটি দখলে নেয় জামায়াত, বিএনপি ও জাসদ নেতারা। সর্বশেষ পৌরসভা নির্বাচনে ১৫ জন সাধারণ কাউন্সিলরের মধ্যে একটি মাত্র ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ নেতা নির্বাচতি হয়েছিলেন। ১০টিতে হয়েছিলেন জামায়াত নেতা এবং ৪টিতে বিএনপি। সেই হিসেবে ‘ভোটের অংকে’ এগিয়ে থাকা জামায়াত ও বিএনপি চলতি নির্বাচনী হাওয়া শুরুর আগেই প্রতিটি ওর্য়াডেই কাউন্সিলর প্রার্থী চুড়ান্ত করে নির্বাচনী কার্যক্রম চালালেও ‘পিছিয়ে’ থাকা আওয়ামী লীগ কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থন ঠিক করতে পারেনি। তবে, বিএনপিতেও দু’/ একটি ওয়ার্ডে একাধিক প্রার্থী রয়েছে। আর জামায়াত ‘ষোল আনায়’ প্রার্থী চুড়ান্ত করে কাজ করছে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছেন, পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র ৩টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ একক প্রার্থী সর্মথন নিশ্চিত করতে পেরেছে। বাকী ১২টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতেই রয়েছে ২/৩ জন করে। এমনকি দু’টি ওয়ার্ডে রয়েছে ৪ জনকরে প্রার্থী। ওই সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রীয়ভাবে জড়িত এবং প্রার্থীর হতে দলীয় সমর্থন চেয়ে আওয়ামী লীগের কাছে আবেদন করেছিলেন তারাই চুড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন, ১ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুল খালেক মিলন, ইফতিখার আহম্মদ রঞ্জু, ২ নম্বর ওয়ার্ডে জিয়াউর রহমান আরমান, শহীদ হোসনে রানা, শাহ জালাল শাহীন, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে তামিজ উদ্দীন, ইউসুফ আলী, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে আজিজুল্লাহ হায়দার, মতিউর রহমান মটন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সাদেকুল ইসলাম কুতুব মিয়া, স্থানীয় আওয়ামীলীগের সমর্থন নিয়ে আকবর আলী, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে রবিউল ইসলাম, লতিফুল ইসলাম মামুন আবুল বাসার খান, মোহাম্মদ আলী, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে নুরুল ইসলাম মিনহাজ, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ফজলুর রহমান, শাহ আলম, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আফজাল হোসেন পিন্টু, আবুল কালাম আজাদ, ১০ নম্বর আব্দুল খালেক, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুল হান্নান, সৈয়দ লিয়াকত আলী লিটন, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে ইব্রাহিম আলী, রেজাউল করিম রেজু, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে নূর আলম, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে শাহ আলম, গোলাম কাবির, ১৫ নম্বর ওর্য়াডে শাখাওয়াত হোসেন শওকত, আমিরুল মোমেনীন বাবু, মোহাম্মদ আলমগীর, ইকবাল হোসেন ছোটকু। এদিকে, পৌরসভার ৫টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে প্রার্থী সংখ্যা কম থাকায় ‘এমনি এমননিতে’ ৪টি ওয়ার্ডে একক প্রার্থী হয়ে গেছে। তবে, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে (১৩,১৪,১৫ নম্বর ওয়ার্ড) জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি সাবেক কাউন্সিলর সাকিনা খাতুন প্রার্থীতায় রয়েছেন। সেখানে আরো একজন প্রার্থী হয়েছেন জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য তাসনিমা আনোয়ার কলি।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, জেলা ও পৌর আওয়ামীলীগের নেতাদের সমন্বয়হীনতার কারণেই কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্য থেকে একক প্রার্থী বেছে সমর্থন নিশ্চিত করা যায়নি। ওই সূত্র জানায়, নির্বাচনী ‘হাওয়া’ শুরুর পর থেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন ও সমর্থন নির্ধারণ করতে হ-য-ব-র-ল অবস্থা সৃষ্টি হয়। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হটাৎকরে আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্যে মেয়র প্রার্থীদের ২০ হাজার টাকা ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের ১০ হাজার টাকা মূল্যের আবেদন ফরম কিনে আবেদন করার লিখিত নির্দেশ প্রদান করেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির নির্দেশ অনুযায়ী তার নির্ধারিত ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মেয়র প্রার্থী হিসেবে এক যুবলীগ নেতাসহ ৩ জন এবং প্রায় ২৫ জন কাউন্সিলর প্রার্থী আবেদন করেন। এরই মাঝে জেলা আওয়মী লীগের সাধারণ সম্পাদক পাল্টা ‘পত্র’ জারি করে সভাপতির নির্দেশ স্থগিত করে দেন। ঝুলে যায়, প্রার্থী নির্ধারণী কার্যক্রম। দলীয় ওই সূত্র জানায়, তফসলি ঘোষণার পর ‘নড়েচড়ে’ বসে আওয়ামী লীগ। হটাৎকরে ২৭ নভেম্বর দলীয় সভা আহবান করে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির নির্দেশ অনুযায়ী আবেদনকারীদের একদম আলোচনায় না নিয়ে এসে নতুন করে মেয়র পদে মাত্র তিন ‘আবেদনকারী’ নির্ধারণ করে তার মধ্য থেকে মাত্র একজনের নাম কেন্দ্র’র কাছে পাঠিয়ে দেয়। আর মাত্র একদিন সময় দিয়ে কাউন্সিলর প্রার্থীদের ‘বিনাপয়সায়’ নতুন করে আবেদন করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। সে নির্দেশনা অনুযায়ী রেকর্ড পরিমাণ কাউন্সিলর প্রার্থী দলীয় অফিসে আবেদন করেন। দলীয় সূত্র জানায়, কাউন্সিলর পদে আবেদনকারীদের আবেদনগুলো নিয়ে আওয়ামী লীগ কোন আনুষ্ঠাানিক বৈঠকই করেনি। ‘অন্ধকারেই’ পড়ে থাককে আবেদনগুলো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘খেয়াল খুশি মত সংগঠন চালানো হচ্ছে। সভাপতি আবেদন করতে বলে সেই আবেদন ফিরে দেয়া হলো। পরে আবেদন নিয়ে পরেরদিনই প্রার্থী সমর্থন চুড়ান্ত করার কথা। কিন্ত নেতারা কোন মিটিং করলো কি করলোনা জানতে পারলামনা’। তিনি বলেন,‘ আওয়ামী লীগের নেতারা যেহেতু মেয়র প্রার্থী হিসেবে তাদের পচ্ছন্দের প্রার্থীকে চুড়ান্ত করতে ‘ অধিক ‘ব্যস্ত’ ছিলেন সেহেতু কাউন্সিলর প্রার্থী সমর্থনে ‘মনোযোগই’ ছিলনা’।
এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ একাজটিতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। যা আমাদের জন্য শুভ নয়। জেলা আওয়ামী লীগের হস্তক্ষেপ এবং নেতাদের সমন্বয়হীনতার কারনেই এমনটা হয়েছে’।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ১৮-১২-১৫
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌরসভার গত পাঁচবারের নির্বাচনে কোনোবারই জিততে পারেনি আওয়ামীলীগ। চারবার বিএনপির নেতা ও একবার জামায়াতের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। শিবগঞ্জে আওয়ামীলীগের এই ‘ভঙ্গুর’ অবস্থানে গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী। আর বিদ্রোহ সৃষ্টি হয়েছে জেলা আওয়ামীলীগের দ্বন্দ্বে। অনেকটা এমপি এমপি মনোমালিন্যে। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের বাইরে দুই বিদ্রোহীর মধ্যে একজন সরে দাঁড়িয়েছে। তবে মূল বিদ্রোহী নির্বাচন করার প্রত্যয়ে প্রচারণা চালিয়েই যাচ্ছেন।
সর্বশেষ শিবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি সমর্থন নিয়ে জিতেছেন শামিম কবির হেলিম। বর্তমানে মামলাজনিত কারণে দায়িত্ব থেকে তাকে বরাখাস্ত করা হয়েছে। সেখানে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামীলীগ নেতা ঈমানী আলী। নম্বয়ের দশকে বিএনপির শাসনামলে শিবগঞ্জ পৌরসভা গঠনের পর প্রথম নির্বাচনে নির্বাচিত হন বিএনপি নেতা মোতাহেরুল ইসলাম ঘেটু। পরে চেয়্যারম্যান পদটি দখলে নেয় জামায়াত নেতা জাফর আলী। এরপর নির্বাচনে জিতেছেন শামিম কবির হেলিম। তিনি চলতি মেয়াদসহ দুইবার নির্বাচিত হয়েছিলেন।
আওয়ামীলীগের অবস্থা: শিবগঞ্জ পৌরসভায় শুরু থেকেই আওয়ামীলীগ ভাল অবস্থান দাঁড় করাতে পারেনি। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে ২০০৮ ও ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয় পেয়েছে দলটি। শিবগঞ্জ পৌরসভায় ভোটের অঙ্কে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা আওয়ামীলীগ থেকে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী আবির্ভূত হয়েছে। তাও একজন নয়, দুইজন। অবশ্য বিদ্রোহীতে দুই নম্বর সারিতে থাকা বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মেয়র ঈমানী আলী প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন। এরপরও আওয়ামীলীগের প্রার্থী থাকছেন দুইজন। দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও ঠিকাদার ময়েন খান। বিদ্রোহী হিসাবে মাঠে আছেন শিবগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কারিবুল হক রাজিন।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, শিবগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মউনুদ্দিন মন্ডল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ এমপির অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব চলে আসছিল বেশি কিছুদিন থেকেই। রাজিন সংসদ গোলাম রাব্বানী আস্থাভাজন হওয়ায় দ্বন্দ্বের বহি:প্রকাশ হিসাবে রাজনকে বাদ দিয়ে হঠাৎ করেই আবির্ভূত হন জেলা আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মইন খান। জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক ও শিবগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আতিকুল ইসলাম টুটুল খানের সমর্থন নিয়ে মইন খানকে কেন্দ্রে একক প্রার্থী হিসাবে উপস্থাপন করা হয়। জেলার সুপারিশের প্রেক্ষিতে কেন্দ্র মইন খানের হাতেই তুলে দেন নৌকা প্রতীক। যদিও জেলা আওয়ামীলীগের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছেন শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আতাউর রহমান।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের হাওয়া শুরুর সময় মেয়র পদে প্রার্থী হতে তৎপরতা শুরু করেন গত নির্বাচনে দলীয় সমর্থন নিয়ে মেয়র প্রার্থী কারিবুল হক রাজিন ও শিবগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আতিকুল ইসলাম টুটুল খান, ভারপ্রাপ্ত মেয়র ইমানী আলী ও আওয়ামীলীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া। গত ৮ নভেম্বর শিবগঞ্জ আসনের সাংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানীর কানসাটস্থ বাড়ির সামনে শেখ রাসেল মিলনায়তনে ‘তৃণমূলের’ এক সভায় কারিবুল হক রাজিনকে উপজেলা আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে মেয়র পদে সমর্থন জানানো হয়। ঐ সভা চলমান অবস্থায় সভা আহ্বানকারী টুটুল খান সভা বর্জন করে অনুসারীদের নিয়ে চলে আসেন। তার চলে আসার পরই গোলাম রাব্বানী রাজনকে প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করেন।
টুটুল অভিযোগ ছিল, এমপি গোলাম রাব্বানী ও রাজিন পরিকল্পিতভাবে ‘ভাড়াটে’ লোকজন নিয়ে ঐ সভায় আসার কারণে সভা মূলতবি ঘোষণা করে সভা ত্যাগ করি।’
‘ঘনিষ্ঠজন’ হিসাবে পরিচিত রাজিনকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করেন সাংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানী। গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে একযোগে সাংবাদিক সম্মেলন করে টুটুল খান, ঈমানী আলী ও গোলাম কিরবিয়া। সংবাদ সম্মেলন তারা রাজিনকে দলীয় প্রার্থী হিসাবে প্রত্যাখান করেন। রাজিন পৌরসভার আনাচে কানাচে তার প্রচারণা চালিয়ে যান।
শিবগঞ্জের আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মনোনয়ন বন্টনের আগেই মাঠ গুছিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে স্থান তৈরী করেছিলেন রাজিন। এরই মাঝে মইন খানের প্রার্থী হিসাবে চলে আসলে বিপাকে পড়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। একদিকে রাজিনের প্রতি দূর্বলতা; অন্যদিকে মার্কা নৌকা, এ নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়েছে নৌকার ভোটাররা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এশাধিক নেতাকর্মী ‘এমপি এমপি’ দ্বন্দ্বে এমনটা হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, ‘জামায়াতের নাশকতার সময় চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করা রাজিনের প্রতি রয়েছে আমাদের দূর্বলতা। আবার বিনয়ী ও আর্থিক স্বচ্ছলতার দিক দিয়ে মইন খানকেও বাদ দিতে পারছি না। ফলে আমরা সাধারণ কর্মীরা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে রয়েছি।’
বিএনপির অবস্থা: অতীতের চিত্র থেকেই দেখা যায়, শিবগঞ্জে বিএনপির অবস্থান সুদৃঢ়। বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা সাবেক হুইপ ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক শাজাহান মিয়ার বাড়ি শিবগঞ্জে। সেই সুবাদে শিবগঞ্জ সদরে বিএনপি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিএনপি আরেক নেতা শামিম কবির হেলিম। গত পাঁচটি নির্বাচনে চারটিতেই চেয়্যারমান ও মেয়র নির্বাচিত হয় বিএনপির নেতা। বর্তমান মেয়র শামিম কবির হেলিম ‘হেভি ওয়েট’ প্রার্থী হলেও একাধিক মামলায় ‘জর্জরিত’ হবার কারণে এবার বিএনপি প্রার্থীতায় পরিবর্তন এনেছে। প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দিয়েছে পৌর বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিককে। চলতি নির্বাচনে ধানের শীষের প্রতীক পাওয়া শফিকুল ইসলাম হেলিমের চেয়ে ‘চৌকস’ না হলেও শিবগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপির ‘ভোট ব্যাংক’ থাকায় বিএনপি প্রতিন্দন্দ্বীতায় এগিয়ে থাকবে এমনটাই দাবি বিএনপির নেতাদের।
বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির জোট থাকলেও শিবগঞ্জে বিএনপি ও জামায়াতের আলাদা প্রার্থী রয়েছে। জামায়াতকে বাইরে রেখেই জিততে চায় দলটি। তবে জামায়াত স্বতন্ত্রভাবে ভোটে অংশগ্রহণ থেরে সরে দাঁড়ালে প্লাস পয়েন্ট হবে বিএনপির। অনায়াসেই নির্বাচনে বেরিয়ে আসবে দলটি।
নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় বিএনপির অভিযোগ, নির্বাচনে কোনো লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। প্রতিপক্ষরা আচরণ বিধি ভঙ্গ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয় না। কিন্তু কোনো মামলা না থাকা সত্ত্বেও বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্চে। ঠিকভাবে প্রচার প্রচারণা করতে পারছি না। অযথা হয়রানি বন্ধে গত ৬ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট রিটানিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন জানানো হলেও কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। গ্রেপ্তার হয়রানি চলছেই।
জামায়াতের অবস্থা: শিবগঞ্জ পৌরসভায় জামায়াতের অবস্থানও শক্ত দীর্ঘদিন ধরেই। গেল পাঁচটি পৌর নির্বাচনের মধ্যে একটিতে তারা জয়ীও হয়। এবার পৌরসভা নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষ থেকে স্বতন্ত্রের লেবাসে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন আগের নির্বাচিত চেয়্যারম্যান জাফর আলী।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রকাশ্যে জামায়াতের ভোটের অবস্থান বুঝা যায় না। কিন্তু এখানে তাদের যে বড় অবস্থান রয়েছে; তা বুঝা যায় বিগত সময়ে সাংগাঠনিক কর্মকা-ে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পরপরই শিবগঞ্জ পুরোটাই ‘নিয়ন্ত্রণে’ নেয় জামায়াত। সাংগাঠনিক অবস্থা জানান দেওয়ার পাশাপাশি ঘটাতে থাকে একেরপর এক সহিংসতা ও নাশকতা। শতাধিক সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। পৌর এলাকার বাইরে কানসাট পল্লী বিদ্যু কেন্দ্র, সোনা মসজিদ পর্যটন মোটেলসহ শাহবাজ পুর, মোবারকপুর ও শ্যামপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার বাইরে শিবগঞ্জ বাজারে দোকানের বদ্ধ করে আগুন দিয়ে পোড়ানোর ঘটনাও ঘটেছে।
সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পৌরসভা নির্বাচনে প্রচার প্রচারণায় জামায়াতের প্রার্থীকে প্রকাশ্যে দেখা যায় নি। তবে তাদের বিশাল কর্মী বাহিনী বিশেষ করে নারীকমীরা প্রার্থীর স্বপক্ষে গোপনে গোপনে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
এক বিদ্রোহীর মনোনয়ন প্রত্যাহার : চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌর নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীর বাইরে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে থাকা দু’জনের মধ্যে একজন শনিবার তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। শিবগঞ্জ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও আওয়ামীলীগ নেতা ইমানী আলী শনিবার বিকেলে শিবগঞ্জ উজেলা নির্বাচন অফিসে তার সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে গিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকালে ইমানী আলী বলেন, ‘কোন চাপের কারণে নয়। যেহেতু আওয়ামীলীগ করি, সংগঠনের সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মোতাবেক সংগঠনেরই স্বাার্থে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য : আওয়ামীলীগ থেকে মনোনীত প্রার্থী মইন খান বলেন, আওয়ামীলীগ যাচাই-বাছাই করেই আমাকে প্রার্থী হিসাবে দিয়েছে। আমার পরিবারের সকলেই আওয়ামী পরিবারের। দলের সকল দুর্দিনে আমরা পাশে ছিলাম। ভবিষ্যতেও থাকবো। নির্বাচিত হলে জনগণের স্বার্থী সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে এগিয়ে যাবো।’
বিদোহী প্রার্র্থীর বিষয়ে তিনি বলেন, দল থেকে মনোনয়ন না দিলেও বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের প্ররোচনায় রাজিন নির্বাচনে আছে। আর তাকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে স্থানীয় এমপি গোলার রব্বানী।’
আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কারিবুল হক রাজিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ ডটকমকে বলেন, বিদ্রোহী বললে ভূল হবে, জনগণের স্বার্থ ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে টিকিয়ে রাখতে নির্বাচন করছি। যারা টাকার বিনিময়ে দল বিক্রি করে প্রতিবাদস্বরুপ নির্বাচনে অংশ নেওয়া। স্থানীয় ও তৃণমূল নেতাকর্মীরা দলের প্রার্থী হিসাবে মত দিলেও রাতের আধারে জেলা আওয়ামীলীগের কাছে গিয়ে পরিবর্তন হয়ে যায়। দল থেকে মনোনীত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিএনপি ঘেষার অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামীলীগের কোনো কর্মসূচীতেও সে কখনো যায়নি। সেই অখ্যাত ও দলের কর্মীদের কাছে অপরিচিতকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে জনগনই আমাকে নির্বাচনে থাকতে বলেছে। নির্বাচন করবোই।’
বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফিক চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ ডটকমকে বলেন, নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসলেও ঠিকভাবে প্রচার প্রচারণা করতে পারছি না। একদিন করলে অন্যদিন বসে থাকতে হয়। অযথায় কোনো মামলা না থাকা সত্ত্বেও কর্মীদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পঁচাত্তর বয়সয়োদ্ধ এক বৃদ্ধাকেও ধরে নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিনই একজন দুই জন করে ধরা হচ্ছে। ফেয়ার নির্বাচন হওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছি।’
জামায়াতের নেতার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ১৫-১২-১৫
সর্বশেষ শিবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি সমর্থন নিয়ে জিতেছেন শামিম কবির হেলিম। বর্তমানে মামলাজনিত কারণে দায়িত্ব থেকে তাকে বরাখাস্ত করা হয়েছে। সেখানে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামীলীগ নেতা ঈমানী আলী। নম্বয়ের দশকে বিএনপির শাসনামলে শিবগঞ্জ পৌরসভা গঠনের পর প্রথম নির্বাচনে নির্বাচিত হন বিএনপি নেতা মোতাহেরুল ইসলাম ঘেটু। পরে চেয়্যারম্যান পদটি দখলে নেয় জামায়াত নেতা জাফর আলী। এরপর নির্বাচনে জিতেছেন শামিম কবির হেলিম। তিনি চলতি মেয়াদসহ দুইবার নির্বাচিত হয়েছিলেন।
আওয়ামীলীগের অবস্থা: শিবগঞ্জ পৌরসভায় শুরু থেকেই আওয়ামীলীগ ভাল অবস্থান দাঁড় করাতে পারেনি। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে ২০০৮ ও ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয় পেয়েছে দলটি। শিবগঞ্জ পৌরসভায় ভোটের অঙ্কে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা আওয়ামীলীগ থেকে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী আবির্ভূত হয়েছে। তাও একজন নয়, দুইজন। অবশ্য বিদ্রোহীতে দুই নম্বর সারিতে থাকা বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মেয়র ঈমানী আলী প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন। এরপরও আওয়ামীলীগের প্রার্থী থাকছেন দুইজন। দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও ঠিকাদার ময়েন খান। বিদ্রোহী হিসাবে মাঠে আছেন শিবগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কারিবুল হক রাজিন।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, শিবগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মউনুদ্দিন মন্ডল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ এমপির অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব চলে আসছিল বেশি কিছুদিন থেকেই। রাজিন সংসদ গোলাম রাব্বানী আস্থাভাজন হওয়ায় দ্বন্দ্বের বহি:প্রকাশ হিসাবে রাজনকে বাদ দিয়ে হঠাৎ করেই আবির্ভূত হন জেলা আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মইন খান। জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক ও শিবগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আতিকুল ইসলাম টুটুল খানের সমর্থন নিয়ে মইন খানকে কেন্দ্রে একক প্রার্থী হিসাবে উপস্থাপন করা হয়। জেলার সুপারিশের প্রেক্ষিতে কেন্দ্র মইন খানের হাতেই তুলে দেন নৌকা প্রতীক। যদিও জেলা আওয়ামীলীগের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছেন শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আতাউর রহমান।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের হাওয়া শুরুর সময় মেয়র পদে প্রার্থী হতে তৎপরতা শুরু করেন গত নির্বাচনে দলীয় সমর্থন নিয়ে মেয়র প্রার্থী কারিবুল হক রাজিন ও শিবগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আতিকুল ইসলাম টুটুল খান, ভারপ্রাপ্ত মেয়র ইমানী আলী ও আওয়ামীলীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া। গত ৮ নভেম্বর শিবগঞ্জ আসনের সাংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানীর কানসাটস্থ বাড়ির সামনে শেখ রাসেল মিলনায়তনে ‘তৃণমূলের’ এক সভায় কারিবুল হক রাজিনকে উপজেলা আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে মেয়র পদে সমর্থন জানানো হয়। ঐ সভা চলমান অবস্থায় সভা আহ্বানকারী টুটুল খান সভা বর্জন করে অনুসারীদের নিয়ে চলে আসেন। তার চলে আসার পরই গোলাম রাব্বানী রাজনকে প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করেন।
টুটুল অভিযোগ ছিল, এমপি গোলাম রাব্বানী ও রাজিন পরিকল্পিতভাবে ‘ভাড়াটে’ লোকজন নিয়ে ঐ সভায় আসার কারণে সভা মূলতবি ঘোষণা করে সভা ত্যাগ করি।’
‘ঘনিষ্ঠজন’ হিসাবে পরিচিত রাজিনকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করেন সাংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানী। গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে একযোগে সাংবাদিক সম্মেলন করে টুটুল খান, ঈমানী আলী ও গোলাম কিরবিয়া। সংবাদ সম্মেলন তারা রাজিনকে দলীয় প্রার্থী হিসাবে প্রত্যাখান করেন। রাজিন পৌরসভার আনাচে কানাচে তার প্রচারণা চালিয়ে যান।
শিবগঞ্জের আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মনোনয়ন বন্টনের আগেই মাঠ গুছিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে স্থান তৈরী করেছিলেন রাজিন। এরই মাঝে মইন খানের প্রার্থী হিসাবে চলে আসলে বিপাকে পড়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। একদিকে রাজিনের প্রতি দূর্বলতা; অন্যদিকে মার্কা নৌকা, এ নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়েছে নৌকার ভোটাররা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এশাধিক নেতাকর্মী ‘এমপি এমপি’ দ্বন্দ্বে এমনটা হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, ‘জামায়াতের নাশকতার সময় চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করা রাজিনের প্রতি রয়েছে আমাদের দূর্বলতা। আবার বিনয়ী ও আর্থিক স্বচ্ছলতার দিক দিয়ে মইন খানকেও বাদ দিতে পারছি না। ফলে আমরা সাধারণ কর্মীরা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে রয়েছি।’
বিএনপির অবস্থা: অতীতের চিত্র থেকেই দেখা যায়, শিবগঞ্জে বিএনপির অবস্থান সুদৃঢ়। বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা সাবেক হুইপ ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক শাজাহান মিয়ার বাড়ি শিবগঞ্জে। সেই সুবাদে শিবগঞ্জ সদরে বিএনপি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিএনপি আরেক নেতা শামিম কবির হেলিম। গত পাঁচটি নির্বাচনে চারটিতেই চেয়্যারমান ও মেয়র নির্বাচিত হয় বিএনপির নেতা। বর্তমান মেয়র শামিম কবির হেলিম ‘হেভি ওয়েট’ প্রার্থী হলেও একাধিক মামলায় ‘জর্জরিত’ হবার কারণে এবার বিএনপি প্রার্থীতায় পরিবর্তন এনেছে। প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দিয়েছে পৌর বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিককে। চলতি নির্বাচনে ধানের শীষের প্রতীক পাওয়া শফিকুল ইসলাম হেলিমের চেয়ে ‘চৌকস’ না হলেও শিবগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপির ‘ভোট ব্যাংক’ থাকায় বিএনপি প্রতিন্দন্দ্বীতায় এগিয়ে থাকবে এমনটাই দাবি বিএনপির নেতাদের।
বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির জোট থাকলেও শিবগঞ্জে বিএনপি ও জামায়াতের আলাদা প্রার্থী রয়েছে। জামায়াতকে বাইরে রেখেই জিততে চায় দলটি। তবে জামায়াত স্বতন্ত্রভাবে ভোটে অংশগ্রহণ থেরে সরে দাঁড়ালে প্লাস পয়েন্ট হবে বিএনপির। অনায়াসেই নির্বাচনে বেরিয়ে আসবে দলটি।
নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় বিএনপির অভিযোগ, নির্বাচনে কোনো লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। প্রতিপক্ষরা আচরণ বিধি ভঙ্গ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয় না। কিন্তু কোনো মামলা না থাকা সত্ত্বেও বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্চে। ঠিকভাবে প্রচার প্রচারণা করতে পারছি না। অযথা হয়রানি বন্ধে গত ৬ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট রিটানিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন জানানো হলেও কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। গ্রেপ্তার হয়রানি চলছেই।
জামায়াতের অবস্থা: শিবগঞ্জ পৌরসভায় জামায়াতের অবস্থানও শক্ত দীর্ঘদিন ধরেই। গেল পাঁচটি পৌর নির্বাচনের মধ্যে একটিতে তারা জয়ীও হয়। এবার পৌরসভা নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষ থেকে স্বতন্ত্রের লেবাসে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন আগের নির্বাচিত চেয়্যারম্যান জাফর আলী।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রকাশ্যে জামায়াতের ভোটের অবস্থান বুঝা যায় না। কিন্তু এখানে তাদের যে বড় অবস্থান রয়েছে; তা বুঝা যায় বিগত সময়ে সাংগাঠনিক কর্মকা-ে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পরপরই শিবগঞ্জ পুরোটাই ‘নিয়ন্ত্রণে’ নেয় জামায়াত। সাংগাঠনিক অবস্থা জানান দেওয়ার পাশাপাশি ঘটাতে থাকে একেরপর এক সহিংসতা ও নাশকতা। শতাধিক সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। পৌর এলাকার বাইরে কানসাট পল্লী বিদ্যু কেন্দ্র, সোনা মসজিদ পর্যটন মোটেলসহ শাহবাজ পুর, মোবারকপুর ও শ্যামপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার বাইরে শিবগঞ্জ বাজারে দোকানের বদ্ধ করে আগুন দিয়ে পোড়ানোর ঘটনাও ঘটেছে।
সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পৌরসভা নির্বাচনে প্রচার প্রচারণায় জামায়াতের প্রার্থীকে প্রকাশ্যে দেখা যায় নি। তবে তাদের বিশাল কর্মী বাহিনী বিশেষ করে নারীকমীরা প্রার্থীর স্বপক্ষে গোপনে গোপনে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
এক বিদ্রোহীর মনোনয়ন প্রত্যাহার : চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌর নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীর বাইরে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে থাকা দু’জনের মধ্যে একজন শনিবার তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। শিবগঞ্জ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও আওয়ামীলীগ নেতা ইমানী আলী শনিবার বিকেলে শিবগঞ্জ উজেলা নির্বাচন অফিসে তার সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে গিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকালে ইমানী আলী বলেন, ‘কোন চাপের কারণে নয়। যেহেতু আওয়ামীলীগ করি, সংগঠনের সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মোতাবেক সংগঠনেরই স্বাার্থে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য : আওয়ামীলীগ থেকে মনোনীত প্রার্থী মইন খান বলেন, আওয়ামীলীগ যাচাই-বাছাই করেই আমাকে প্রার্থী হিসাবে দিয়েছে। আমার পরিবারের সকলেই আওয়ামী পরিবারের। দলের সকল দুর্দিনে আমরা পাশে ছিলাম। ভবিষ্যতেও থাকবো। নির্বাচিত হলে জনগণের স্বার্থী সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে এগিয়ে যাবো।’
বিদোহী প্রার্র্থীর বিষয়ে তিনি বলেন, দল থেকে মনোনয়ন না দিলেও বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের প্ররোচনায় রাজিন নির্বাচনে আছে। আর তাকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে স্থানীয় এমপি গোলার রব্বানী।’
আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কারিবুল হক রাজিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ ডটকমকে বলেন, বিদ্রোহী বললে ভূল হবে, জনগণের স্বার্থ ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে টিকিয়ে রাখতে নির্বাচন করছি। যারা টাকার বিনিময়ে দল বিক্রি করে প্রতিবাদস্বরুপ নির্বাচনে অংশ নেওয়া। স্থানীয় ও তৃণমূল নেতাকর্মীরা দলের প্রার্থী হিসাবে মত দিলেও রাতের আধারে জেলা আওয়ামীলীগের কাছে গিয়ে পরিবর্তন হয়ে যায়। দল থেকে মনোনীত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিএনপি ঘেষার অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামীলীগের কোনো কর্মসূচীতেও সে কখনো যায়নি। সেই অখ্যাত ও দলের কর্মীদের কাছে অপরিচিতকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে জনগনই আমাকে নির্বাচনে থাকতে বলেছে। নির্বাচন করবোই।’
বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফিক চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ ডটকমকে বলেন, নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসলেও ঠিকভাবে প্রচার প্রচারণা করতে পারছি না। একদিন করলে অন্যদিন বসে থাকতে হয়। অযথায় কোনো মামলা না থাকা সত্ত্বেও কর্মীদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পঁচাত্তর বয়সয়োদ্ধ এক বৃদ্ধাকেও ধরে নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিনই একজন দুই জন করে ধরা হচ্ছে। ফেয়ার নির্বাচন হওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছি।’
জামায়াতের নেতার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ১৫-১২-১৫
বিএনপি-জামায়াতে ‘ঘাঁটি’ হিসাবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিজ দল ও জামায়াতের সঙ্গে আন্ত:কোন্দলে পুড়ছে বিএনপি। আর আধিপত্যের দিক থেকে শীর্ষে থাকা জামায়াত গোপনেই নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দুই দল থেকে ভোটের অঙ্কে ‘কিছুটা পিছিয়ে’ থাকা আওয়ামী লীগ উন্নয়ন সম্ভাবনাকে সামনে রেখে জেতার প্রত্যয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। নির্বাচনে স্বতন্ত্রের আড়ালে জামায়াত, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা সমান সমান লড়াইয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঘুরে নির্বাচনী হাওয়া ও প্রচার প্রচারণা থেকে এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
স্বাধীনের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত নির্বাচিত হয়ে চেয়্যারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন আওয়ামী লীগের নেতা সিরাজুল হক সনি মিয়া। পরের নির্বাচনে ১৯৭৭ সালে তৎকালীন জাসদ নেতা এহসান আলী খান চেয়্যারমান নির্বাচিত হন। ঐ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মরহুম অধ্যাপক জিকেএম শামসুল হুদা। এরপর ১৯৯৯ সালের আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নিজস্ব প্রার্থী নিয়ে নির্বাচনে অংশই নেয়নি। সমর্থন জানিয়েছিল মঞ্জুর হোসেন ও আব্দুল মান্নান সেন্টুকে। ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার চেয়্যারম্যান পদটি দখলে চলে যায় বিএনপি, জামায়াত ও জাসদ নেতাদের। এই সময়ে বিএনপিসহ অন্যান্য দলের সমন্বয়ে সর্বদলীয় ব্যানারে জাসদ নেতা আব্দুল মান্নান সেন্টু দুই দফা নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৮৯ সালে চেয়ারম্যান পদটি দখলে নেয় জামায়াত। নির্বাচিত হন জামায়াত নেতা অধ্যাপক লতিফুর রহমান। ১৯৯৯ সালের পৌর নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত দলীয় প্রার্থীর সমর্থন দিয়ে অংশ না নেওয়ার সুযোগে দীর্ঘ ২৪ বছর পর আওয়ামী লীগ আবার দখল ফিরে পায়। চেয়ারম্যান হন বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মইনুদ্দিন ম-ল। ২০০৪ সালে আবার দখলে চলে আসে জামায়াত। ২০০৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন জামায়াত নেতা অধ্যাপক আতাউর রহমান। ২০১১ সালের পৌর নির্বাচনে ব্যাপক উত্থান নিয়ে আর্বিভূত হয় বিএনপি। বিএনপি প্রার্থী মাওলানা আব্দুল মতিন নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
১৯৭৫ সালের পর ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগ পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনে আওয়ামী লীগ একবারও নির্বাচিত হতে পারেনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের চারটি পৌরসভার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ দুইবার চেয়ারম্যান পদটি পায়। একবার বিএনপি-জামায়াতের নির্বাচিত বর্জনের সুবাদে। স্বাধীনের পর অন্যান্য নির্বাচনে জামায়াত তিনবার, বিএনপি একবার ও সর্বদলীয় ব্যানারে জাসদের নেতা নির্বাচিত হয়।
বিএনপিতে আন্ত:কোন্দল:
বিএনপি-জামায়াতে ‘ঘাঁটি’ হিসাবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিজ দল ও জামায়াতের সঙ্গে আন্ত:কোন্দলে পুড়ছে বিএনপি। একদিকে জামায়াতে প্রভাব; অন্যদিকে নিজ দলেই ‘বিদ্রোহী’ নিয়ে মহামসিবতে পড়েছে দলটি। রাজনীতির ‘কৌশল’ হিসাবে জামায়াতের সাবেক এক নেতাকে বিএনপির প্রার্থী বানানোয় ক্ষোভ ক্রমেই ঘনীভূত হয়ে বিদ্রোহে রুপ নিয়েছে। গত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত মাওলানা আব্দুল মতিন বিদ্রোহীর কাতারে সামিল হয়েছেন। আর কোনো মতেই সরে দাঁড়াবেন না এমন প্রত্যয়ও জানিয়েছেন তিনি। তবে আব্দুল মতিন নির্বাচিত হওয়ার পর হঠাৎ করেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিএনপির মূল¯্রােত (হারুন-পাপিয়া) থেকে ছিটকে পড়েন। অনেকটা কোনঠাসা অবস্থায় বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। তবে নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার উন্নয়নে কোনো ভূমিকা রাখতে না পারার সমালোচনাও রয়েছে বিএনপিতে।
বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, গতবার জয়ী হওয়ার পর পৌর নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির মনোবল আরো সুদৃঢ় হয়েছে। এবারের নির্বাচনী হাওয়া শুরুর দিকে বিএনপি পৌর বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম টিপুকে প্রার্থী ধরে কাজ শুরু করে। কিন্তু নিজস্ব কিছু ভোটার ও জামায়াত থেকে কিছু সুবিধা নিতে পারবেন এমন প্রত্যাশায় দলে ভিড়িয়েছেন আগের জামায়াতের হয়ে নির্বাচিত মেয়র অধ্যাপক আতাউর রহমানকে। জামায়াতের সাবেক এই নেতাকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেওয়া হয়েছে। এদিকে জামায়াতের সাবেক নেতাকে দলে ভিড়িয়ে মনোনয়ন দেওয়া বিএনপি থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত মাওলানা আব্দুল মতিন বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। এর আগে তিনি বিএনপির সমর্থন নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তবে দলের মূল¯্রােতে বাইরে গিয়ে কতটুকু ভাল করবেন দেখা যাবে আসন্ন এই নির্বাচনে।
ভোটের অঙ্কে পিছিয়ে আওয়ামী লীগ:
২০০৮ সালে আগ পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কোনো আসনে জিততে পারেনি আওয়ামী লীগ। এরমধ্যে চাঁপাইনবাবঞ্জ পৌরসভায় ভোটের হিসেবটা আলাদা। এখানে ভোটের অঙ্কে ‘কিছুটা পিছিয়ে’ আওয়ামী লীগ। তবে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। পিছিয়ে থাকা আওয়ামী লীগ কিছুটা হলেও এগিয়েছে। কিছুটা উন্নতি ও চলতি মেয়রের উন্নয়নে ব্যর্থতা সুবাদে এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিন্দন্দ্বীতায় আসার সুযোগ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে স্বপক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগের। এবারের নিবাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে প্রতিন্দনব্দ¦ীয়তা করছেন সামিউল হক লিটন। লিটন এক সময়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। নব্বয়ের দশকের শুরুতে ছাত্রলীগের জেলা কমিটির সম্পাদক পর্যায়ের পদে ছিলেন। এরপর রাজনীতির মূল¯্রােত থেকে বেরিয়ে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পৌর আওয়ামী লীগের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য লিটন মেয়র নির্বাচন করার প্রত্যয়ে আবারো রাজনীতির মাঠে ফিরে এসে দলে আলোড়ন সৃষ্টি করেন।
দলীয় সূত্র জানায়, পৌর নির্বাচনে এক যুবলীগ নেতাসহ পাঁচজন মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন। তবে কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সমন্বযে বোর্ডের চারজনই লিটনকে একক প্রাথী হিসাবে নির্ধারণ করে কেন্দ্রের কাছে উপস্থাপন করে। কেন্দ্র লিটনের হাতেই তুলে দেয় দলীয় প্রতীক নৌকা। দলীয় মনোনয়ন পাওয়া লিটন আওয়ামী লীগে একেবারেই নতুন প্রার্থী। তবে উন্নয়নে পৌরসভার পিছিয়ে পড়া ও ক্ষমতাসীনদের প্রভাব নির্বাচনে তার জন্য সহায়ক হিসাবে কাজ করছে।
স্বতন্ত্র জামায়াত:
গত তিন দশকে তিনবার চেয়্যারমান ও মেয়র পদ দখলে নেওয়া জামায়াত এবার নির্বাচনে এসেছে স্বতন্ত্র লেবাসে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিন্দন্দ্বীতা করছেন জেলা জামায়াতের আমীর নজরুল ইসলাম। ভোটযুদ্ধ শুরু হলেও আধিপত্যে থাকা জামায়াতের প্রার্থীকে প্রকাশ্যে প্রচার-প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে না। তবে বসে নেই তারা। অনেকটা ‘গোপনেই’ চালিয়ে যাচ্ছে নির্বাচনী কার্যক্রম। তাদের বিশাল কর্মীবাহিনীও কাজ করে যাচ্ছে নীরবে নিরবেই। হোক বিএনপি সমর্থনে কিংবা স্বতন্ত্রভাবেই নির্বাচনে জিতার প্রত্যয় রয়েছে এ দলটির।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য:
আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়া সামিউল হক লিটন চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ ডটকমকে বলেন, শেখ হাসিনা স্বাভাবিক নিয়মেই মনোনয়ন দিয়েছেন। তিনি জানেন কার মাধ্যমে নৌকা প্রতীক নির্বাচনে পার পাবে। আমি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসাবে মনোনয়ন পেয়েছি। নৌকা প্রতীককে জেতাকে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রচারণা চালাচ্ছি। জনগণ আমাকে বিজয়ী করবে। যা আওয়ামী লীগের পরবর্তী এমপি নির্বাচনে সহায়ক হবে।’
জামায়াতের পক্ষ থেকে আগে নির্বাচন করলেও বিএনপির আহ্বানে এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি উল্লেখ করে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক আতাউর রহমান চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ ডটকমকে বলেন, জামায়াতের পক্ষ থেকে নির্বাচিত হলেও গত নির্বাচনে আমাকে বাদ দেওয়া হয়। সেই জন্য স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহনের চিন্তা করছিলাম। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে এমন আইন পাস হওয়ার পর বিএনপি থেকে আহ্বান জানানো হলে বিএনপিতে যুক্ত হয়েছি। বিএনপির প্রার্থী থাকার পরও আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমাকে তারা স্বতস্ফুর্তভাবে গ্রহণও করেছে। নির্বাচনে জিতে জনগণের আশা-আকঙ্খার বাস্তবায়নে কাজ করবো।’
নিজ দলের চলমান মেয়র থাকার পরও কেন জামায়াতের সাবেক নেতাকে বিএনপিতে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে ‘ভোটার খাবে’ এমন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়া বলেন, জামায়াত বিএনপি হিসাবে নয়, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিবেচনায় তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ৮/১০ লাখ টাকা খরচ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা মতিনকে নির্বাচিত করেছে। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর দলের আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কাজে জড়িয়ে পড়েছেন। এক মিলাদ মাহফিলে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার সুমতি কামনা করেছেন। কাজেই মতিনের বিভিন্ন কাজে দলের নেতাকর্মীদেও মধ্যে নেতিবাচক ধারণা জন্মেছে। তাকে প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দিলেও জেতাতে পারতাম না।’
বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মাওলানা আব্দুল মতিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ ডটকমকে বলেন, ‘অবৈধ অর্থের বিনিময়ে জামায়াত থেকে বহিস্কৃত নেতাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। রাতের আধারে টাকা বিনিময়ে আমাকে কিছুই না জানিয়ে জামায়াতের সাবেক নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমি কোনো মতেই মাঠ থেকে সরছি না। জনগনের কথায় রাজনীতি করছি। মাঠে আছি, মাঠেই থাকবো।’
এদিকে, নির্বাচনী প্রতিক্রিয়া জানার জন্য জামায়াতের প্রার্থী নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ১৩-১২-১৫
স্বাধীনের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত নির্বাচিত হয়ে চেয়্যারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন আওয়ামী লীগের নেতা সিরাজুল হক সনি মিয়া। পরের নির্বাচনে ১৯৭৭ সালে তৎকালীন জাসদ নেতা এহসান আলী খান চেয়্যারমান নির্বাচিত হন। ঐ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মরহুম অধ্যাপক জিকেএম শামসুল হুদা। এরপর ১৯৯৯ সালের আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নিজস্ব প্রার্থী নিয়ে নির্বাচনে অংশই নেয়নি। সমর্থন জানিয়েছিল মঞ্জুর হোসেন ও আব্দুল মান্নান সেন্টুকে। ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার চেয়্যারম্যান পদটি দখলে চলে যায় বিএনপি, জামায়াত ও জাসদ নেতাদের। এই সময়ে বিএনপিসহ অন্যান্য দলের সমন্বয়ে সর্বদলীয় ব্যানারে জাসদ নেতা আব্দুল মান্নান সেন্টু দুই দফা নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৮৯ সালে চেয়ারম্যান পদটি দখলে নেয় জামায়াত। নির্বাচিত হন জামায়াত নেতা অধ্যাপক লতিফুর রহমান। ১৯৯৯ সালের পৌর নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত দলীয় প্রার্থীর সমর্থন দিয়ে অংশ না নেওয়ার সুযোগে দীর্ঘ ২৪ বছর পর আওয়ামী লীগ আবার দখল ফিরে পায়। চেয়ারম্যান হন বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মইনুদ্দিন ম-ল। ২০০৪ সালে আবার দখলে চলে আসে জামায়াত। ২০০৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন জামায়াত নেতা অধ্যাপক আতাউর রহমান। ২০১১ সালের পৌর নির্বাচনে ব্যাপক উত্থান নিয়ে আর্বিভূত হয় বিএনপি। বিএনপি প্রার্থী মাওলানা আব্দুল মতিন নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
১৯৭৫ সালের পর ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগ পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনে আওয়ামী লীগ একবারও নির্বাচিত হতে পারেনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের চারটি পৌরসভার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ দুইবার চেয়ারম্যান পদটি পায়। একবার বিএনপি-জামায়াতের নির্বাচিত বর্জনের সুবাদে। স্বাধীনের পর অন্যান্য নির্বাচনে জামায়াত তিনবার, বিএনপি একবার ও সর্বদলীয় ব্যানারে জাসদের নেতা নির্বাচিত হয়।
বিএনপিতে আন্ত:কোন্দল:
বিএনপি-জামায়াতে ‘ঘাঁটি’ হিসাবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিজ দল ও জামায়াতের সঙ্গে আন্ত:কোন্দলে পুড়ছে বিএনপি। একদিকে জামায়াতে প্রভাব; অন্যদিকে নিজ দলেই ‘বিদ্রোহী’ নিয়ে মহামসিবতে পড়েছে দলটি। রাজনীতির ‘কৌশল’ হিসাবে জামায়াতের সাবেক এক নেতাকে বিএনপির প্রার্থী বানানোয় ক্ষোভ ক্রমেই ঘনীভূত হয়ে বিদ্রোহে রুপ নিয়েছে। গত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত মাওলানা আব্দুল মতিন বিদ্রোহীর কাতারে সামিল হয়েছেন। আর কোনো মতেই সরে দাঁড়াবেন না এমন প্রত্যয়ও জানিয়েছেন তিনি। তবে আব্দুল মতিন নির্বাচিত হওয়ার পর হঠাৎ করেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিএনপির মূল¯্রােত (হারুন-পাপিয়া) থেকে ছিটকে পড়েন। অনেকটা কোনঠাসা অবস্থায় বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। তবে নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার উন্নয়নে কোনো ভূমিকা রাখতে না পারার সমালোচনাও রয়েছে বিএনপিতে।
বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, গতবার জয়ী হওয়ার পর পৌর নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির মনোবল আরো সুদৃঢ় হয়েছে। এবারের নির্বাচনী হাওয়া শুরুর দিকে বিএনপি পৌর বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম টিপুকে প্রার্থী ধরে কাজ শুরু করে। কিন্তু নিজস্ব কিছু ভোটার ও জামায়াত থেকে কিছু সুবিধা নিতে পারবেন এমন প্রত্যাশায় দলে ভিড়িয়েছেন আগের জামায়াতের হয়ে নির্বাচিত মেয়র অধ্যাপক আতাউর রহমানকে। জামায়াতের সাবেক এই নেতাকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেওয়া হয়েছে। এদিকে জামায়াতের সাবেক নেতাকে দলে ভিড়িয়ে মনোনয়ন দেওয়া বিএনপি থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত মাওলানা আব্দুল মতিন বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। এর আগে তিনি বিএনপির সমর্থন নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তবে দলের মূল¯্রােতে বাইরে গিয়ে কতটুকু ভাল করবেন দেখা যাবে আসন্ন এই নির্বাচনে।
ভোটের অঙ্কে পিছিয়ে আওয়ামী লীগ:
২০০৮ সালে আগ পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কোনো আসনে জিততে পারেনি আওয়ামী লীগ। এরমধ্যে চাঁপাইনবাবঞ্জ পৌরসভায় ভোটের হিসেবটা আলাদা। এখানে ভোটের অঙ্কে ‘কিছুটা পিছিয়ে’ আওয়ামী লীগ। তবে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। পিছিয়ে থাকা আওয়ামী লীগ কিছুটা হলেও এগিয়েছে। কিছুটা উন্নতি ও চলতি মেয়রের উন্নয়নে ব্যর্থতা সুবাদে এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিন্দন্দ্বীতায় আসার সুযোগ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে স্বপক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগের। এবারের নিবাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে প্রতিন্দনব্দ¦ীয়তা করছেন সামিউল হক লিটন। লিটন এক সময়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। নব্বয়ের দশকের শুরুতে ছাত্রলীগের জেলা কমিটির সম্পাদক পর্যায়ের পদে ছিলেন। এরপর রাজনীতির মূল¯্রােত থেকে বেরিয়ে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পৌর আওয়ামী লীগের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য লিটন মেয়র নির্বাচন করার প্রত্যয়ে আবারো রাজনীতির মাঠে ফিরে এসে দলে আলোড়ন সৃষ্টি করেন।
দলীয় সূত্র জানায়, পৌর নির্বাচনে এক যুবলীগ নেতাসহ পাঁচজন মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন। তবে কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সমন্বযে বোর্ডের চারজনই লিটনকে একক প্রাথী হিসাবে নির্ধারণ করে কেন্দ্রের কাছে উপস্থাপন করে। কেন্দ্র লিটনের হাতেই তুলে দেয় দলীয় প্রতীক নৌকা। দলীয় মনোনয়ন পাওয়া লিটন আওয়ামী লীগে একেবারেই নতুন প্রার্থী। তবে উন্নয়নে পৌরসভার পিছিয়ে পড়া ও ক্ষমতাসীনদের প্রভাব নির্বাচনে তার জন্য সহায়ক হিসাবে কাজ করছে।
স্বতন্ত্র জামায়াত:
গত তিন দশকে তিনবার চেয়্যারমান ও মেয়র পদ দখলে নেওয়া জামায়াত এবার নির্বাচনে এসেছে স্বতন্ত্র লেবাসে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিন্দন্দ্বীতা করছেন জেলা জামায়াতের আমীর নজরুল ইসলাম। ভোটযুদ্ধ শুরু হলেও আধিপত্যে থাকা জামায়াতের প্রার্থীকে প্রকাশ্যে প্রচার-প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে না। তবে বসে নেই তারা। অনেকটা ‘গোপনেই’ চালিয়ে যাচ্ছে নির্বাচনী কার্যক্রম। তাদের বিশাল কর্মীবাহিনীও কাজ করে যাচ্ছে নীরবে নিরবেই। হোক বিএনপি সমর্থনে কিংবা স্বতন্ত্রভাবেই নির্বাচনে জিতার প্রত্যয় রয়েছে এ দলটির।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য:
আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়া সামিউল হক লিটন চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ ডটকমকে বলেন, শেখ হাসিনা স্বাভাবিক নিয়মেই মনোনয়ন দিয়েছেন। তিনি জানেন কার মাধ্যমে নৌকা প্রতীক নির্বাচনে পার পাবে। আমি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসাবে মনোনয়ন পেয়েছি। নৌকা প্রতীককে জেতাকে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রচারণা চালাচ্ছি। জনগণ আমাকে বিজয়ী করবে। যা আওয়ামী লীগের পরবর্তী এমপি নির্বাচনে সহায়ক হবে।’
জামায়াতের পক্ষ থেকে আগে নির্বাচন করলেও বিএনপির আহ্বানে এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি উল্লেখ করে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক আতাউর রহমান চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ ডটকমকে বলেন, জামায়াতের পক্ষ থেকে নির্বাচিত হলেও গত নির্বাচনে আমাকে বাদ দেওয়া হয়। সেই জন্য স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহনের চিন্তা করছিলাম। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে এমন আইন পাস হওয়ার পর বিএনপি থেকে আহ্বান জানানো হলে বিএনপিতে যুক্ত হয়েছি। বিএনপির প্রার্থী থাকার পরও আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমাকে তারা স্বতস্ফুর্তভাবে গ্রহণও করেছে। নির্বাচনে জিতে জনগণের আশা-আকঙ্খার বাস্তবায়নে কাজ করবো।’
নিজ দলের চলমান মেয়র থাকার পরও কেন জামায়াতের সাবেক নেতাকে বিএনপিতে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে ‘ভোটার খাবে’ এমন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়া বলেন, জামায়াত বিএনপি হিসাবে নয়, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিবেচনায় তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ৮/১০ লাখ টাকা খরচ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা মতিনকে নির্বাচিত করেছে। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর দলের আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কাজে জড়িয়ে পড়েছেন। এক মিলাদ মাহফিলে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার সুমতি কামনা করেছেন। কাজেই মতিনের বিভিন্ন কাজে দলের নেতাকর্মীদেও মধ্যে নেতিবাচক ধারণা জন্মেছে। তাকে প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দিলেও জেতাতে পারতাম না।’
বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মাওলানা আব্দুল মতিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ ডটকমকে বলেন, ‘অবৈধ অর্থের বিনিময়ে জামায়াত থেকে বহিস্কৃত নেতাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। রাতের আধারে টাকা বিনিময়ে আমাকে কিছুই না জানিয়ে জামায়াতের সাবেক নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমি কোনো মতেই মাঠ থেকে সরছি না। জনগনের কথায় রাজনীতি করছি। মাঠে আছি, মাঠেই থাকবো।’
এদিকে, নির্বাচনী প্রতিক্রিয়া জানার জন্য জামায়াতের প্রার্থী নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ১৩-১২-১৫
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইদানিং চুরি, ছিনতাই বেড়ে যাওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সাধারণ মানুষ। সন্ধ্যা, রাত ও ভোরে শহরের গুরত্বপূর্ণ সড়কগুলো ছিনতাইকারীদের দখলে থাকায় প্রতিনিয়তই তাদের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। কেউ বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা চাকু দিয়ে গুরুতর আহত করছে। এ পরিস্থিতিতে সন্ধ্যার পর মেয়েরা মার্কেটে যাওয়া প্রায় বন্ধই করে দিয়েছে।
শহরের বিভিন্ন নাগারিকদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের পাঠানপাড়া, হরিমোহন গাবতলা, শাহিবাগ, ডা. রুবেলের বাড়ীর সামনে রিংপাট কারখানা, শান্তিবাগ ও ফুড অফিস মোড় এলাকায় প্রায় প্রতি রাতেই ধারাবাহিকভাবে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে আসছে।
গত ১৪ নভেম্বর রাত পৌনে ৯টায় বাংলাভিশনের জেলা প্রতিনিধি সাখাওয়াত জামিল দোলন এর স্ত্রী তার বোনকে নিয়ে রিক্সাযোগে বাড়ী ফেরার পথে পাঠানপাড়া এলাকায় ডা. ময়েজের বাড়ীর সামনে মোটরসাইকেলে থাকা ছিনতাইকারীরা ৩টি মোবাইল ও ৫ হাজার টাকাসহ ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।
গত ১৩ নভেম্বর বিদেশ ফেরত পুরাতন বাজারের নাসিরের বাড়ী থেকে টিভি ও নগদ টাকা চুরি হয়।
গত ১০ নভেম্বর জেলা জজের বাসভবনের সামনের রাস্তায় ছিনতায়ের ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা মোবাইল ও টাকাসহ ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।
রাজশাহীতে বসবাসকারী মহিব্বুল আরেফিন নামের এক ব্যক্তির মহারাজপুরের বাড়ীতে গত ৭ নভেম্বর রাতে চোর ১০ ভরি গহনা ও ৩ লক্ষ টাকার মালামাল নিয়ে চলে যায়। এ´িম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষকের মিস্ত্রীপাড়ার ভাড়াস্থ বাড়ী থেকে দুঃসাহসিক চুরি হয়। গত ১ অক্টোবর জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাজিবুর রহমানের মেয়েকে শান্তিবাগ এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা ছিনতাইকারীরা পথরোধ করে মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে স্ব-স্ত্রীক অটোরিক্সায় বাড়ী ফেরার পথে শাহিবাগের রিংপাট এলাকায় ছিনতাইকারীরা মোবাইল ও নগদ টাকাসহ ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার সময় বাঁধা দিলে স্বামীকে চাকু মেরে গুরুতর আহত করে। কোরবানীর ঈদের ৩ দিন আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনের রাস্তায় ফারুক লাইব্রেরীর স্ত্রী’র মোবাইল ও নগদ টাকা মোটরসাইকেলে থাকা ছিনতাইকারীরা একই পন্থায় ছিনিয়ে নেয়। ঈদের পরের দিন হরিমোহন গাবতলা মোড় শতাব্দি বিউটি পার্লারের সামনে অটোরিক্সায় থাকা জনৈক মহিলার মোবাইল, নগদ টাকা ও বেশ কয়েক ভরি স্বর্ণালংকারসহ ব্যাগ মোটরসাইকেলে থাকা ছিনতাইকারীরা ছিনিয়ে নেয়।
জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাজিবুর রহমান জানান, থানায় জিডি করার পরও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোন ছিনতাইকারীকে আটক করতে না পারায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েই চলেছে।
ছিনতাইয়ের বেশীরভাগ ঘটনা উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা শিকার হওয়ায় আইনী জটিলতা এড়াতে অনেকে থানায় যাচ্ছে না। সন্ধ্যার পর শহরে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় মেয়েরা নিউমার্কেট ও বিভিন্ন বিপনী বিতানে যেতে ভয় পাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনচ্ছিুক জনৈক অভিভাবক জানান, শহরের হরিমোহন স্কুল, গাবতলা মোড়, মডেল স্কুল মোড়, ওয়ালটন মোড়, ঝিলিম রোড, নিমতলা মোড়, নবাবগঞ্জ কলেজ মসজিদের পেছনের মোড়, পিটিআই মোড়, প্রফেসার পাড়া মোড়, সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার সামনে, কাঁঠাল বাগিচার সোনালী ব্যাংকের পিছনে নুরুল মাষ্টার-বাক্কার উকিলের বাড়ীর রাস্তায় ক্যারামবোর্ড, তাস ও নেশাগ্রস্থ আড্ডাবাজদের অনেকেই এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় ছিনতাই ও অপরাধের ঘটনা বাড়লেও এ থানায় বেশ কয়েকজন পুরাতন এসআই কর্মরত থাকলেও এসব অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের দোড়গোড়ায় আনতে তেমন কোন ভূমিকা নেই।
এব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাজহারুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে একজন ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে এবং জড়িতদের সনাক্তসহ গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ২০-১১-১৫
শহরের বিভিন্ন নাগারিকদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের পাঠানপাড়া, হরিমোহন গাবতলা, শাহিবাগ, ডা. রুবেলের বাড়ীর সামনে রিংপাট কারখানা, শান্তিবাগ ও ফুড অফিস মোড় এলাকায় প্রায় প্রতি রাতেই ধারাবাহিকভাবে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে আসছে।
গত ১৪ নভেম্বর রাত পৌনে ৯টায় বাংলাভিশনের জেলা প্রতিনিধি সাখাওয়াত জামিল দোলন এর স্ত্রী তার বোনকে নিয়ে রিক্সাযোগে বাড়ী ফেরার পথে পাঠানপাড়া এলাকায় ডা. ময়েজের বাড়ীর সামনে মোটরসাইকেলে থাকা ছিনতাইকারীরা ৩টি মোবাইল ও ৫ হাজার টাকাসহ ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।
গত ১৩ নভেম্বর বিদেশ ফেরত পুরাতন বাজারের নাসিরের বাড়ী থেকে টিভি ও নগদ টাকা চুরি হয়।
গত ১০ নভেম্বর জেলা জজের বাসভবনের সামনের রাস্তায় ছিনতায়ের ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা মোবাইল ও টাকাসহ ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।
রাজশাহীতে বসবাসকারী মহিব্বুল আরেফিন নামের এক ব্যক্তির মহারাজপুরের বাড়ীতে গত ৭ নভেম্বর রাতে চোর ১০ ভরি গহনা ও ৩ লক্ষ টাকার মালামাল নিয়ে চলে যায়। এ´িম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষকের মিস্ত্রীপাড়ার ভাড়াস্থ বাড়ী থেকে দুঃসাহসিক চুরি হয়। গত ১ অক্টোবর জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাজিবুর রহমানের মেয়েকে শান্তিবাগ এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা ছিনতাইকারীরা পথরোধ করে মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে স্ব-স্ত্রীক অটোরিক্সায় বাড়ী ফেরার পথে শাহিবাগের রিংপাট এলাকায় ছিনতাইকারীরা মোবাইল ও নগদ টাকাসহ ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার সময় বাঁধা দিলে স্বামীকে চাকু মেরে গুরুতর আহত করে। কোরবানীর ঈদের ৩ দিন আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনের রাস্তায় ফারুক লাইব্রেরীর স্ত্রী’র মোবাইল ও নগদ টাকা মোটরসাইকেলে থাকা ছিনতাইকারীরা একই পন্থায় ছিনিয়ে নেয়। ঈদের পরের দিন হরিমোহন গাবতলা মোড় শতাব্দি বিউটি পার্লারের সামনে অটোরিক্সায় থাকা জনৈক মহিলার মোবাইল, নগদ টাকা ও বেশ কয়েক ভরি স্বর্ণালংকারসহ ব্যাগ মোটরসাইকেলে থাকা ছিনতাইকারীরা ছিনিয়ে নেয়।
জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাজিবুর রহমান জানান, থানায় জিডি করার পরও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোন ছিনতাইকারীকে আটক করতে না পারায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েই চলেছে।
ছিনতাইয়ের বেশীরভাগ ঘটনা উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা শিকার হওয়ায় আইনী জটিলতা এড়াতে অনেকে থানায় যাচ্ছে না। সন্ধ্যার পর শহরে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় মেয়েরা নিউমার্কেট ও বিভিন্ন বিপনী বিতানে যেতে ভয় পাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনচ্ছিুক জনৈক অভিভাবক জানান, শহরের হরিমোহন স্কুল, গাবতলা মোড়, মডেল স্কুল মোড়, ওয়ালটন মোড়, ঝিলিম রোড, নিমতলা মোড়, নবাবগঞ্জ কলেজ মসজিদের পেছনের মোড়, পিটিআই মোড়, প্রফেসার পাড়া মোড়, সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার সামনে, কাঁঠাল বাগিচার সোনালী ব্যাংকের পিছনে নুরুল মাষ্টার-বাক্কার উকিলের বাড়ীর রাস্তায় ক্যারামবোর্ড, তাস ও নেশাগ্রস্থ আড্ডাবাজদের অনেকেই এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় ছিনতাই ও অপরাধের ঘটনা বাড়লেও এ থানায় বেশ কয়েকজন পুরাতন এসআই কর্মরত থাকলেও এসব অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের দোড়গোড়ায় আনতে তেমন কোন ভূমিকা নেই।
এব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাজহারুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে একজন ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে এবং জড়িতদের সনাক্তসহ গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউজ/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ ২০-১১-১৫





























