ফকির উয়ায়ছী
রোযা শব্দটি ফারসী ভাষা, এর আরবী শব্দটি হচ্ছে ছাওম। ছাওম শব্দটির বাংলা অর্থ সংযম বিরত থাকা। প্রকাশ্যে সুবহে ছাদেক হইতে রাত্রি পর্যন্ত পান, আহার ও স্ত্রী সহবাস হইতে বিরত থাকাই রোযা। আল্লাহর কোরআন মতে আরবী রমযান মাসের পূর্ণ মাস রোযা করার জন্য আল্লাহ কঠিন আদেশ দিয়েছেন। রমজান মাসেই সেই মহাপবিত্র ও সম্মানী কিতাব লাইলাতুল কদর এর ঘোর অন্ধকার রাত্রিতে আল্লাহ নাজিল করেছেন। রমযান মাসের চেয়ে উত্তম মাস দিন আর কোন মাস হতে পারে না।
রোযার উদ্দেশ কি হওয়া উচিত:
সর্বপ্রকার অবৈধ কাজ ও চিন্তা হইতে নিজেকে বিরত রাখার নামই রোযা, সংযম বা বিরত থাকা। শুধু রমযান মাসেই এসব থেকে বিরত থাকবেন বাকী এগার মাস আপনি এই সব থেকে বিরত থাকবেন না সেটা প্রকৃত রোযা নয় বরং উপোশ বা না খেয়ে থাকা। অনাহারী মানুষ যেমন খাদ্য অভাবে না খেয়ে থাকে শুধু তাদের উপোশ কালীন সময় টুকুরই মত। এই রমযান মাস আমাদের শিক্ষাটা পরিপূর্ণ করে বাকী এগার মাস অবৈধ চিন্তা চেতনা মূক্ত যারা থাকতে পারেন তারাই প্রকৃত রোযাদার।
সাড়াদিন অনাহারী থেকে সন্ধাবেলা রাজ্যের খাওয়া নিয়ে বসে ইফতার করার নাম রোযা নয়। রাছুল সা. হাদিসে বলেছেন ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা এবং তদনুযায়ী কাজ করা ত্যাগ করে নাই, আল্লাহ্র নিকট তাঁহার আহার ও পান ত্যাগ করার কোনও দরকার নাই।’ এই হাদিসটিতে বুঝা যায় মিথ্যা এবং তদনুযায়ী কাজ অন্যায়ের মুল। এই কুস্বভাব সাথে লইয়া অনাহরে থাকা আল্লাহ কোন ক্রমেই পছন্দ করতে পারেন না।
রোযা মনকে পবিত্র করে সে সাথে দেহকে অপবিত্রতা থেকে বাচায়। প্রত্যেকটি সম্পদের যাকাত দিতে হয়। আল্লাহ কতৃকদান করা এই দেহটির যাকাত হচ্ছে রোযা। যেহেতু যাকাত শব্দের অর্থ হচ্ছে পবিত্রতা। অন্যায়, অবৈধ কাজ এবং চিন্তা চেতনা মুক্ত থাকিতে পারিলেই দেহ মন পবিত্র থাকে এবং সেমতে দেহের যাকাত হয়। বুজুর্গগনদের মুখে শুনা রাছুল সা. বলেছেন ‘কিছু রোযাদার আছে যাদের রোযা হয় নাই পিপাসা ব্যতীত এবং কিছু দন্ডায়মান (দাড়ায়ইয়া নামাজ আদায়কারী) আছে তাহাদের দাঁড়ান কোন কাজে আসে নাই নিদ্রাহীনতা ব্যতীত।
রোযা করে রোযার উদ্দেশ্যই যদি অর্জিত না হয়, রাত জাগিয়া দাঁড়াইয়া নামাজ আদায় করিয়া নামাজের উদ্দেশ্য অর্জিত না হয় তবে কষ্ট করে সাড়াদিন অনাহারী থেকে এবং দাঁড়াইয়া কষ্ট করে নামাজ পড়া তো বৃথা। শুধু এক মাসের এক মাসের উপবাস এবং স্ত্রী সহবাস হইতে বিরত থাকলেই হবে না। সাড়া জীবনের জন্য কুচিন্তা এবং কুকর্ম হইতে নিজকে বিরত রাখতে হবে। পঞ্চ ইন্দ্রিয়কে নিয়ন্ত্রন করে অবৈধ কাজ থেকে বিরত রাখতে পারলে রোযার স্বার্থকতা আসবে। যেমন চুক্ষ দ্বারা অবৈধ কিছু দেখবোনা। কান দ্বারা অবৈধ কিছু শুনবো না। নাক দ্বারা অবৈধ ঘ্রান গ্রহন করবো না। জিবহা দ্বারা অবৈধ স্বাধ গ্রহন করবোনা এবং অবৈধ কথা বলবো না। হাত দ্বারা অবৈধ জিনিষ ধরবোনা এবং অবৈধ চিন্তা চেতনা করবোনা। তাহলেই রোযার পরিপূর্ণতা আসবে।
আমাদের তরিকতের আদি বুজুর্গ আব্দুর রহিম শাহ সাহেব তার কিতাবে লিখেছেন
রোজাদার হয় মেরা নফছ আম্বারার।
বদ ফেল যত কিছু খোরাক যাহার।।
ইফতারের কাল বটে আখেরী সময়।
এ ছুরাতে হয় রোযা রমযান আদায়।।
নিজকে কলুষমুক্ত না করতে পারলে রোযা হবে না। রোযাই যদি নাই হয় তবে রমযান মাসের মহা পবিত্র কদরের রাত্রির মর্যাদা উপলব্ধি করা যাবে না। উপলব্ধি করতে পারবে না কোরআন নায়িল। ফিরেশতা সমূহ ও পবিত্র রুহের অবতরন এবং সাড়া রাত্রি মানুষের জন্য শান্তি বর্ষন। হতভাগ্য সে যে এ রাত্রি আশীর্বাদ ও মর্যাদা বুঝলো না। এসব বিষয় অনুমান করে বুঝার উপায় নাই। কারণ অনুমান সত্যের ধারে কাছেও যায় না।–(আ.কু-১০:৩৬)। তাই রাছুল সা. বলেছেন ‘জাহেলের ইবাদতের চেয়ে জ্ঞানীর ঘুম ভাল।’
আমাদের অন্য এক বুজুর্গ শাহ কছিমদ্দিন তাঁর কিতাবে লিখেছেন
অভাবে স্বভাব নষ্ট প্রকাশ জাহানে।
জ্ঞানহীন থাকা ভবে অভাবের মানে।
জ্ঞানহীন অভাবি অজ্ঞানের মত অবৈধ কাজ করে যারা রোযা করে তাদের অন্তরে আনন্দের চেয়ে কষ্টটাই বেশী মনে হবে। তাই আহবান জানাই রোজা রাখবেন এবং পূর্ণ ফল ভোগ করার জন্য অন্তরের কুস্বভাবগুলি পরিত্যাগ করবেন। এই রমজান মাসে কন্ট্রোল করে বাকী ১১ মাস ধরে রাখতে চেষ্টা করবেন।
রোযা শব্দটি ফারসী ভাষা, এর আরবী শব্দটি হচ্ছে ছাওম। ছাওম শব্দটির বাংলা অর্থ সংযম বিরত থাকা। প্রকাশ্যে সুবহে ছাদেক হইতে রাত্রি পর্যন্ত পান, আহার ও স্ত্রী সহবাস হইতে বিরত থাকাই রোযা। আল্লাহর কোরআন মতে আরবী রমযান মাসের পূর্ণ মাস রোযা করার জন্য আল্লাহ কঠিন আদেশ দিয়েছেন। রমজান মাসেই সেই মহাপবিত্র ও সম্মানী কিতাব লাইলাতুল কদর এর ঘোর অন্ধকার রাত্রিতে আল্লাহ নাজিল করেছেন। রমযান মাসের চেয়ে উত্তম মাস দিন আর কোন মাস হতে পারে না।
রোযার উদ্দেশ কি হওয়া উচিত:
সর্বপ্রকার অবৈধ কাজ ও চিন্তা হইতে নিজেকে বিরত রাখার নামই রোযা, সংযম বা বিরত থাকা। শুধু রমযান মাসেই এসব থেকে বিরত থাকবেন বাকী এগার মাস আপনি এই সব থেকে বিরত থাকবেন না সেটা প্রকৃত রোযা নয় বরং উপোশ বা না খেয়ে থাকা। অনাহারী মানুষ যেমন খাদ্য অভাবে না খেয়ে থাকে শুধু তাদের উপোশ কালীন সময় টুকুরই মত। এই রমযান মাস আমাদের শিক্ষাটা পরিপূর্ণ করে বাকী এগার মাস অবৈধ চিন্তা চেতনা মূক্ত যারা থাকতে পারেন তারাই প্রকৃত রোযাদার।
সাড়াদিন অনাহারী থেকে সন্ধাবেলা রাজ্যের খাওয়া নিয়ে বসে ইফতার করার নাম রোযা নয়। রাছুল সা. হাদিসে বলেছেন ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা এবং তদনুযায়ী কাজ করা ত্যাগ করে নাই, আল্লাহ্র নিকট তাঁহার আহার ও পান ত্যাগ করার কোনও দরকার নাই।’ এই হাদিসটিতে বুঝা যায় মিথ্যা এবং তদনুযায়ী কাজ অন্যায়ের মুল। এই কুস্বভাব সাথে লইয়া অনাহরে থাকা আল্লাহ কোন ক্রমেই পছন্দ করতে পারেন না।
রোযা মনকে পবিত্র করে সে সাথে দেহকে অপবিত্রতা থেকে বাচায়। প্রত্যেকটি সম্পদের যাকাত দিতে হয়। আল্লাহ কতৃকদান করা এই দেহটির যাকাত হচ্ছে রোযা। যেহেতু যাকাত শব্দের অর্থ হচ্ছে পবিত্রতা। অন্যায়, অবৈধ কাজ এবং চিন্তা চেতনা মুক্ত থাকিতে পারিলেই দেহ মন পবিত্র থাকে এবং সেমতে দেহের যাকাত হয়। বুজুর্গগনদের মুখে শুনা রাছুল সা. বলেছেন ‘কিছু রোযাদার আছে যাদের রোযা হয় নাই পিপাসা ব্যতীত এবং কিছু দন্ডায়মান (দাড়ায়ইয়া নামাজ আদায়কারী) আছে তাহাদের দাঁড়ান কোন কাজে আসে নাই নিদ্রাহীনতা ব্যতীত।
রোযা করে রোযার উদ্দেশ্যই যদি অর্জিত না হয়, রাত জাগিয়া দাঁড়াইয়া নামাজ আদায় করিয়া নামাজের উদ্দেশ্য অর্জিত না হয় তবে কষ্ট করে সাড়াদিন অনাহারী থেকে এবং দাঁড়াইয়া কষ্ট করে নামাজ পড়া তো বৃথা। শুধু এক মাসের এক মাসের উপবাস এবং স্ত্রী সহবাস হইতে বিরত থাকলেই হবে না। সাড়া জীবনের জন্য কুচিন্তা এবং কুকর্ম হইতে নিজকে বিরত রাখতে হবে। পঞ্চ ইন্দ্রিয়কে নিয়ন্ত্রন করে অবৈধ কাজ থেকে বিরত রাখতে পারলে রোযার স্বার্থকতা আসবে। যেমন চুক্ষ দ্বারা অবৈধ কিছু দেখবোনা। কান দ্বারা অবৈধ কিছু শুনবো না। নাক দ্বারা অবৈধ ঘ্রান গ্রহন করবো না। জিবহা দ্বারা অবৈধ স্বাধ গ্রহন করবোনা এবং অবৈধ কথা বলবো না। হাত দ্বারা অবৈধ জিনিষ ধরবোনা এবং অবৈধ চিন্তা চেতনা করবোনা। তাহলেই রোযার পরিপূর্ণতা আসবে।
আমাদের তরিকতের আদি বুজুর্গ আব্দুর রহিম শাহ সাহেব তার কিতাবে লিখেছেন
রোজাদার হয় মেরা নফছ আম্বারার।
বদ ফেল যত কিছু খোরাক যাহার।।
ইফতারের কাল বটে আখেরী সময়।
এ ছুরাতে হয় রোযা রমযান আদায়।।
নিজকে কলুষমুক্ত না করতে পারলে রোযা হবে না। রোযাই যদি নাই হয় তবে রমযান মাসের মহা পবিত্র কদরের রাত্রির মর্যাদা উপলব্ধি করা যাবে না। উপলব্ধি করতে পারবে না কোরআন নায়িল। ফিরেশতা সমূহ ও পবিত্র রুহের অবতরন এবং সাড়া রাত্রি মানুষের জন্য শান্তি বর্ষন। হতভাগ্য সে যে এ রাত্রি আশীর্বাদ ও মর্যাদা বুঝলো না। এসব বিষয় অনুমান করে বুঝার উপায় নাই। কারণ অনুমান সত্যের ধারে কাছেও যায় না।–(আ.কু-১০:৩৬)। তাই রাছুল সা. বলেছেন ‘জাহেলের ইবাদতের চেয়ে জ্ঞানীর ঘুম ভাল।’
আমাদের অন্য এক বুজুর্গ শাহ কছিমদ্দিন তাঁর কিতাবে লিখেছেন
অভাবে স্বভাব নষ্ট প্রকাশ জাহানে।
জ্ঞানহীন থাকা ভবে অভাবের মানে।
জ্ঞানহীন অভাবি অজ্ঞানের মত অবৈধ কাজ করে যারা রোযা করে তাদের অন্তরে আনন্দের চেয়ে কষ্টটাই বেশী মনে হবে। তাই আহবান জানাই রোজা রাখবেন এবং পূর্ণ ফল ভোগ করার জন্য অন্তরের কুস্বভাবগুলি পরিত্যাগ করবেন। এই রমজান মাসে কন্ট্রোল করে বাকী ১১ মাস ধরে রাখতে চেষ্টা করবেন।
দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসে পবিত্র খুশির ঈদ। সমগ্র মুসলিম জাহানে এটিই সব চেয়ে বড় উৎসব।
ঈদ উৎসবকে ঘিরে বাড়ির কর্তা ব্যক্তিটির কাছে পরিবার-পরিজনের চাহিদারও কোন শেষ থাকে না। তার উপর প্রতিযোগিতার যুগ। কার ছেলে মেয়ে কত টাকা দামের পোষাকটি পরবে, কার স্ত্রী কত টাকা মূল্যের শাড়িটি কিনবেন তানিয়ে চলতে থাকে রমজানের আগে থেকেই হিসাব নিকাশ। আর তাই সব ধরনের পণ্যের দাম চড়া হলেও কর্তা ব্যক্তিটিকে পরিবারের চাহিদা কমবেশি পুরন করতেই হয়। পকেটের অবস্থা যায়ই হোক না কেন পরিবার পরিজনের খুশির জন্যই তাকে বাজারমূখী হতে হয় । এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রমজানের শুরু থেকেই সামর্থ আছে এমন পরিবারের লোকেরা ভিড় জমায় বিপনী বিতান গুলোতে।
জেলা শহরের অভিযাত মার্কেট গুলোর মধ্যে নিউ মার্কেট, আব্দুল মান্নান সেন্টু মার্কেট, ক্লাব সুপার মার্কেট অন্যতম। একই এলাকায় যোগ হয়েছে শহীদ সাটু হল মার্কেট। এই সব মার্কেটের বিপনী বিতানগুলোর মালিকরা ক্রেতাদের মনের মত পোষাক সরবরাহ দিতে একটুও ভুল করেন নি। তারা দেশী-বিদেশী শাড়ি, থ্রি পিস, কসমেটিকসসহ সকল পণ্য রমজানের আগে থেকেই পসরা সাজিয়ে বসেছেন এবং রমজানের শুরু থেকেই বেচা-কেনা শুরু হয়েছে। দিন যতই গড়াচ্ছে দোকান গুলোতে মানুষের ভিড় ততই বাড়ছে। তবে জিনিস পত্রের দাম গতবারের তুলনায় অনেকবেশি হলেও স্বাদ ও সাধ্যের মধ্যে জিনিসপত্র ক্রয় করছেন।
মার্কেট গুলোতে দেখা গেছে, এবারও বাজার দখলে রেখে টাঙ্গাইল শাড়ী ও ভারতীয় পোষাক সামগ্রি। টাঙ্গাইল সিল্ক, সুতির পাশাপাশি, জামদানী শাড়িও প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। মেয়েদের পোষাকের মশ্যে ভারতীয় স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল স্টার জলসার নায়িকা পাখির নামে রং জিপসী বিক্রি হচ্ছে বেশি। শহীদ সাটু হল মার্কেটের মেসার্স আব্দুল জলিল ক্লথ স্টোর এন্ড কোয়ালিটি গার্মেন্টেস মালিক আব্দুল জলিল জানান, তার দোকানে ছোটাদের পাখি থ্রি পিস বিক্রি হচ্ছে ৮’শ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা এবং বড়দের আরো বেশি। সুতি লং জিপসী ২ হাজার টাকা থেকে ৮ হাজার টাকা। লেহাঙ্গা শাড়ি ২ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা। মহিনী কাতান ২ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা।টিসু কাতান ১২শ’ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা। ব্যবসা জমে উঠেছে বলে তিনি জানান।
একই মার্কেটের মোশারফ থ্রি পিস গার্মেন্টসর মালিক মোশারফ হোসেন জানান, পাখি থ্রি প্রিস বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার দামে। তার আরেক দোকানে জামদানী শাড়ী বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকায়। নিউ মার্কেটের টাইল শাড়ী ঘরের মালিক আবু তাহের জানান, টাইল শাড়ীই বিক্রি হচ্ছে বেশি। ওয়েলকাম ফ্যাশনের আব্দুস সামাদ জানান, ছেলে খাকি প্যান্ট, চাইনা, কাতুয়া প্যান্টই বেশি বিক্রি হচ্ছে। এসব প্যান্টের মূল্য ৫ শ’ টাকা থেকে ২ হাজার ৫শ’ টাকা।
নিউ মার্কেটের সুতরাং গামেন্টস এর মালিক জিয়াউর রহমান জানান, শর্ট পাঞ্জাবী বিক্রি হচ্ছে ৮শ’ টাকা থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়। এসব পাঞ্জাবীর মধ্যে রয়ে রাজশাহী সিল্ক, এনডি সিল্ক, এনডি কটন প্রভৃতি।
ক্লাব সুপার মার্কেটের আমেনা বস্ত্রালয়ে তসু শাড়ী সাড়ে ৫ হাজার টাকা, মুন্নি বাতনাম হেই সাড়ে ৮ হাজার টাকা, কাজল সাড়ে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এই মার্কেটের ইসলাম এন্ড ব্রাদার্স’র আব্দুল খালেক জানান তার দোকানে শাড়ির মধ্যে টাঙ্গাইল সুতি, সিল্ক ও জামদানী বেশি বিক্রি হচ্ছে।
ঈদ উৎসবকে ঘিরে বাড়ির কর্তা ব্যক্তিটির কাছে পরিবার-পরিজনের চাহিদারও কোন শেষ থাকে না। তার উপর প্রতিযোগিতার যুগ। কার ছেলে মেয়ে কত টাকা দামের পোষাকটি পরবে, কার স্ত্রী কত টাকা মূল্যের শাড়িটি কিনবেন তানিয়ে চলতে থাকে রমজানের আগে থেকেই হিসাব নিকাশ। আর তাই সব ধরনের পণ্যের দাম চড়া হলেও কর্তা ব্যক্তিটিকে পরিবারের চাহিদা কমবেশি পুরন করতেই হয়। পকেটের অবস্থা যায়ই হোক না কেন পরিবার পরিজনের খুশির জন্যই তাকে বাজারমূখী হতে হয় । এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রমজানের শুরু থেকেই সামর্থ আছে এমন পরিবারের লোকেরা ভিড় জমায় বিপনী বিতান গুলোতে।
জেলা শহরের অভিযাত মার্কেট গুলোর মধ্যে নিউ মার্কেট, আব্দুল মান্নান সেন্টু মার্কেট, ক্লাব সুপার মার্কেট অন্যতম। একই এলাকায় যোগ হয়েছে শহীদ সাটু হল মার্কেট। এই সব মার্কেটের বিপনী বিতানগুলোর মালিকরা ক্রেতাদের মনের মত পোষাক সরবরাহ দিতে একটুও ভুল করেন নি। তারা দেশী-বিদেশী শাড়ি, থ্রি পিস, কসমেটিকসসহ সকল পণ্য রমজানের আগে থেকেই পসরা সাজিয়ে বসেছেন এবং রমজানের শুরু থেকেই বেচা-কেনা শুরু হয়েছে। দিন যতই গড়াচ্ছে দোকান গুলোতে মানুষের ভিড় ততই বাড়ছে। তবে জিনিস পত্রের দাম গতবারের তুলনায় অনেকবেশি হলেও স্বাদ ও সাধ্যের মধ্যে জিনিসপত্র ক্রয় করছেন।
মার্কেট গুলোতে দেখা গেছে, এবারও বাজার দখলে রেখে টাঙ্গাইল শাড়ী ও ভারতীয় পোষাক সামগ্রি। টাঙ্গাইল সিল্ক, সুতির পাশাপাশি, জামদানী শাড়িও প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। মেয়েদের পোষাকের মশ্যে ভারতীয় স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল স্টার জলসার নায়িকা পাখির নামে রং জিপসী বিক্রি হচ্ছে বেশি। শহীদ সাটু হল মার্কেটের মেসার্স আব্দুল জলিল ক্লথ স্টোর এন্ড কোয়ালিটি গার্মেন্টেস মালিক আব্দুল জলিল জানান, তার দোকানে ছোটাদের পাখি থ্রি পিস বিক্রি হচ্ছে ৮’শ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা এবং বড়দের আরো বেশি। সুতি লং জিপসী ২ হাজার টাকা থেকে ৮ হাজার টাকা। লেহাঙ্গা শাড়ি ২ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা। মহিনী কাতান ২ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা।টিসু কাতান ১২শ’ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা। ব্যবসা জমে উঠেছে বলে তিনি জানান।
একই মার্কেটের মোশারফ থ্রি পিস গার্মেন্টসর মালিক মোশারফ হোসেন জানান, পাখি থ্রি প্রিস বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার দামে। তার আরেক দোকানে জামদানী শাড়ী বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকায়। নিউ মার্কেটের টাইল শাড়ী ঘরের মালিক আবু তাহের জানান, টাইল শাড়ীই বিক্রি হচ্ছে বেশি। ওয়েলকাম ফ্যাশনের আব্দুস সামাদ জানান, ছেলে খাকি প্যান্ট, চাইনা, কাতুয়া প্যান্টই বেশি বিক্রি হচ্ছে। এসব প্যান্টের মূল্য ৫ শ’ টাকা থেকে ২ হাজার ৫শ’ টাকা।
নিউ মার্কেটের সুতরাং গামেন্টস এর মালিক জিয়াউর রহমান জানান, শর্ট পাঞ্জাবী বিক্রি হচ্ছে ৮শ’ টাকা থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়। এসব পাঞ্জাবীর মধ্যে রয়ে রাজশাহী সিল্ক, এনডি সিল্ক, এনডি কটন প্রভৃতি।
ক্লাব সুপার মার্কেটের আমেনা বস্ত্রালয়ে তসু শাড়ী সাড়ে ৫ হাজার টাকা, মুন্নি বাতনাম হেই সাড়ে ৮ হাজার টাকা, কাজল সাড়ে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এই মার্কেটের ইসলাম এন্ড ব্রাদার্স’র আব্দুল খালেক জানান তার দোকানে শাড়ির মধ্যে টাঙ্গাইল সুতি, সিল্ক ও জামদানী বেশি বিক্রি হচ্ছে।
টানা প্রায় এক বছর ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও গেল সোম ও মঙ্গলবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ সহিংসতার আত্মংক ভুলে নির্মল আনন্দ উপভোগ করেছে বাঙ্গালির ঐহিত্যের অন্যতম ঘোড়দৌড় দেখে। স্থানীয়দের আয়োজনে আয়োজিত ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে দূরদুরান্তের হাজার হাজার নারী-পুরুষ, শিশু ভীড় জমিয়েছিল চককীর্তি হাই স্কুল ও কলেজ প্রাঙ্গনে।
স্মরণকালে এই প্রথম এ অঞ্চলে আয়োজিত ব্যতিক্রমি এই ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও নওগাঁর ১৫ জন প্রতিযোগিতর ১৫টি ঘোড়া অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারীদের মাধ্যে একজন শিশু, একজন প্রতিবন্ধী ও একজন মেয়েও ছিল। যারা তাদের দৌড় প্রদর্শনের মাধ্যমে মুগ্ধ করে হাজারো দর্শককে।
বাঙ্গালির ঐতিহ্যের এই প্রতিযোগিতা দেখে স্থানীয় নানা বয়সী মানুষের দাবি প্রতি বছরই আয়োজন করা হউক এমন মনোমুগ্ধকর আয়োজন। দু’দিনের এই প্রতিযোগিতায় রাজশাহীর তানোর উপজেলার ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র শাকিল সবাইকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান লাভ করে।
খেলা শেষে প্রতিযোগিদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করেন স্থানীয় সমাজসেবক সইবুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম ও আবুল কালাম আজাদ ভাদু। আয়োজকের পক্ষ থেকে প্রথম তিনজনকে বিশেষ পুরুষ্কার এবং সকল অংশগ্রহনকারীকে সান্তনা পুরস্কার প্রদান করা হয়।
স্মরণকালে এই প্রথম এ অঞ্চলে আয়োজিত ব্যতিক্রমি এই ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও নওগাঁর ১৫ জন প্রতিযোগিতর ১৫টি ঘোড়া অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারীদের মাধ্যে একজন শিশু, একজন প্রতিবন্ধী ও একজন মেয়েও ছিল। যারা তাদের দৌড় প্রদর্শনের মাধ্যমে মুগ্ধ করে হাজারো দর্শককে।
বাঙ্গালির ঐতিহ্যের এই প্রতিযোগিতা দেখে স্থানীয় নানা বয়সী মানুষের দাবি প্রতি বছরই আয়োজন করা হউক এমন মনোমুগ্ধকর আয়োজন। দু’দিনের এই প্রতিযোগিতায় রাজশাহীর তানোর উপজেলার ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র শাকিল সবাইকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান লাভ করে।
খেলা শেষে প্রতিযোগিদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করেন স্থানীয় সমাজসেবক সইবুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম ও আবুল কালাম আজাদ ভাদু। আয়োজকের পক্ষ থেকে প্রথম তিনজনকে বিশেষ পুরুষ্কার এবং সকল অংশগ্রহনকারীকে সান্তনা পুরস্কার প্রদান করা হয়।
ফয়সাল মাহমুদ █
শৈত্য প্রবাহের কনকনে শীত। শিশিরে ভেজা সড়ক। সড়কের দু’ধারে গগণবিসত্মৃৃত সরষে খেত। ঘন কুয়াশায় দূর থেকে অস্পষ্ট দেখাচ্ছে সরষেফুল। আঁকাবাঁকা পিচঢালা সড়ক আমাদের নিয়ে গেল ছোট্ট একটি গ্রামে। গ্রামঘেঁষে বয়ে গেছে পূনর্ভবা নদী। পূর্বদিক ছাড়া গ্রামের বকি তিনদিকই ঘিরে রেখেছে পূনর্ভবা। নদীর কারণে বিশেষ আকৃতি পাওয়া এই গ্রামের নাম বাবুরঘোন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমসত্মাপুর উপজেলার নিভৃত একটি গ্রাম।
২৬ ডিসেম্বর, সকাল পৌণে দশটা। সূর্যের দেখা মিলেনি তখনো। আমরা গিয়ে থামলাম গ্রামের মসজিদের পাশের একটি বাড়ির সামনে। বাড়ির ভেতর থেকে ভেসে আসছে গ্রামীণ গীতের সুর। সমবেত কণ্ঠের ওই সুর সুমধুরও বটে। ভেতরে যেতেই দেখলাম একটি মাটির উনুনকে ঘিরে বসে আছে শিশু-কিশোরী-তরুণী থেকে মধ্য বয়সীরাও। সাজেও ষোলআনা বাঙালিআনা। লাল পেড়ে হলুদ শাড়ি। খোপায় ফুল। কেউ বা নাকে নথ পড়েছেন। আবার কারও সিঁথিতে ঝুলছে মানটিপ। কম বয়সী সবার মাথাতেই কমলা রঙের কাগজের ফুলের মালা।
কিছুক্ষণ পরেই দল বেধে তারা বেরিয়ে গেলেন ঘাটে পানি আনতে। সেখানে গাইলেন ‘জল আনার গীত’। ফিরে এসে ঢেকিতে ধান ভানলেন সেখানে ‘ধান কুটার গীত’। গীত গাইলেন যাঁতায় আটা পেশার সময়ও। এরপর আবারও উনুন ঘিরে গোল হয়ে বসলেন পিঠা তৈরী করতে। আবারও গীত। একেকস'ানে একেক ধরনের গীত।
গ্রামের নারীরাই রচনা করেছেন এসব গীত। কিন' কোন সময়ে তা কেউ জানে না। মুখে মুখে চলে আসছে এসব। লিখিতও নেই কারো কাছে। শুধু এতটুকু জেনেছেন, ওই সময়ের নারীরা কাজকে উপভোগ্য করে তুলতে গীত গাইতেন। জা, ননদ বা প্রতিবেশীদের নিয়ে একসঙ্গে গাইতেন। এসব গীতে ফুটে ওঠেছে গ্রামের বধূর ভাললাগা, ভালবাসা, আবেগ-অনুভূতি, আবার যন্ত্রনা-কষ্ট, সবকিছুই। আগের বিয়েসহ যে কোন উৎসবে গাওয়া হত এসব গীত। কিন' এখন সেটাও আর হয়না। একের পর এক আমরা শোনলাম--
: আসমানেতে নাইকো তারা রেপোর্ট দিতে পারবো না, স্বামী আমি যাইবো না
তুমি আমার হাতের কর্মা, তোমাকে না হইলে চলবেনা, রাণী তুমি আসো না
: এক পোয়া চালে দেড় পোয়া মুড়ি মা নন্দে খাইতে দিলেনা
আর যাবনা শ্বশুর বাড়ি মা ননদে মারে ঠোকনা
শ্বাশুরি হামার খুবই ভাল মা খাওয়া দেখতে পারেনা
: দৌড়া দৌড়ি যায় ললিকা, আপনা বানাকে, আপনা বানাকে, আরে কে
হামি নাকি লিব জি আব্বা, হামি নাকি লিব জি আব্বা সরষে ফুলের মারা আরে কে।
হামি নাকি জানি রে বেটি, হামি নাকি জানিরে বেটি, জানে তোমার আম্মা জানে তোমার আম্মা আরে কে
: হালে বিনা কিসসা বিমা চাহে আন্ধার পানি... কি হইলো সুন্দরি
হালে বিনা কিসসা বিমা চলযা বাপের বাড়ি, কি হইলো সুন্দরি
এত এত গীত মনে রাখাও কঠিন। তরুণী জানালেন, একটি একটি করে তারা ৬৯টি গীত সংগ্রহ করেছেন। নিয়মিত চর্চাও করেন এগুলোর। উৎসবের এই দিনে যতগুলো গাওয়া যায়, গাইবেন। এটি মূলত নবান্ন উৎসব। কৃষি নির্ভর এই গ্রামে ধানা কাটা-মাড়াই শেষ। বাড়িতে বাড়িতে গোলাভর্তি ধান। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধান তুলেই এই আয়োজন। তিন বছর ধরে নিয়মিতই হচ্ছে।
গীতে মগ্ন আমরা। আয়োজকদের একজন সামনের টেবিলে রাখলেন পিঠা-পুলি। মিষ্টঘ্রানে মাতাল অবস'া আমাদের। ভাপা পিঠা, তিল পিঠা, আন্ধাসা, ক্ষীর। ছয় ধরণের পিঠা বানানো হয়েছে। পুলি আছে দুই ধরণের। একটু একটু করে সবই খেলাম। যে স্বাদ পেয়েছি, মনে থাকবে অনেক দিন।
আয়োজনের সমন্বয় করেন গ্রামের দুইবোন মমতাজ ও শামীমা। দু’জনেই শিক্ষিকা। গ্রামের গোড়ামী কাটিয়ে তারাই তিন বছর ধরে নিয়মিত আয়োজন করছেন এই উৎসবের। এবারও অনেক পরিবার থেকে ধান দেয়া হয়নি। আসতে দেয়া হয়নি ছেলে-মেয়েদের। একটি গোষ্ঠী গ্রামের প্রচার দিয়েছে- ওই অনুষ্ঠানে গিয়ে নাচ-গান করলে মেয়েদের বিয়ে হবেনা। আরো কত কি বলেছে। কিন' তারপরও যারা এসেছে তাদের নিয়েই এই আয়োজন।
‘আমার কাছে এটা একটা সংগ্রাম। গীত রক্ষার সংগ্রাম। সংস্কৃতি-ঐতিহ্য রক্ষার সংগ্রাম।’ বলছিলেন মমতাজ খাতুন। যারা আজো এর বিরোধীতা করছে এই ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার জন্য তারাই দায়ী। গ্রামের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি বিলুপ্তির জন্যই তারা সুকৌশলে এটা করেছে। কারণ সংস্কৃতিই একটি জাতির রক্ষাকবজ। কে কি ভাবলো বা কে কিভাবে সমর্থন দিল, দিলনা এতে আমাদের কিছুই যায় আসেনা। সংগ্রাম চালিয়ে যাব, আমার মেয়েদের নিয়ে। মমতাজের বলা অনেক কথার সারমর্ম এটাই। তবে শেষে তিনি এভাবেই বললেন, ‘আমরা যে উদ্যোগ নিয়েছি, তা ছড়িয়ে পড়-ক আবহমান বাংলার গ্রামে গ্রামে। তবেই মৌলবাদ আগ্রাসন বন্ধ হবে বাংলাদেশে।’
সময়ের কাটা বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যার দিকে ধাবিত হচ্ছে। আজকের মতো থামবে সমবেত কণ্ঠ, সুর। কিন্তু সংগ্রাম থামবেনা। মমতাজ-শামীমার সংগ্রাম চলছে, চলবে। ঐতিহ্যের ধারক এই সংস্কৃতি বেঁচে থাকবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।






